বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করে বাদী আটক
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০১৯ বার পড়া হয়েছে
বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করে বাদী আটক
আস্থা ডেস্কঃ
যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে আটক হয়েছে মামলারনবাদী।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) শহরের কাজীপাড়ার আব্দুল আজিজ সড়কের বাসিন্দা শরিফুল আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন অভিযোগটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখে দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।
এদিকে মামলার বাদী শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে আটকের পরোয়ানা থাকায় পুলিশ আদালতের সামনের রাস্তা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে গেছে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর।
শরিফুল আলমের মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আইনবহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ, আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি গত ৪ মার্চ সাধারণ সভা করে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেই থেকে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মামলার বাদী শরিফুল আলমের একটি মামলা এই আদালতে বিচারাধীন ছিল।
আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে গত ৩০ মার্চ শরিফুল আলম সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে সময়ের আবেদন জমা দেন। এদিন বিচারক রাশেদুর রহমান তার সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে ওই মামলার বাদীর বক্তব্য একতরফাভাবে গ্রহণ করেন। বিচারক আদেশে বিবাদীর অনুপস্থিতি উল্লেখ করে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, বিচারক রাশেদুর রহমান বিচারাধীন অনেক মামলা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ও কোতোয়ালি থানায় দেওয়া অভিযোগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী শরিফুল আলম মেসার্স এস আলম নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ব্যবসা সংক্রান্ত ঋণের বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের (পিএলসি) যশোর শাখা তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছিল। মামলাটি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন ছিল। সম্প্রতি এ মামলার রায়ে বাদী শরিফুল আলমকে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। শরিফুল আলম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আদালতের সামনের রাস্তা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।
এই বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ভুক্তভোগী শরিফুল আলম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিচারক এটি বিচারাধীন রেখেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, বিচারক এই মামলার আবেদন গ্রহণ, বিচারকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে যশোরের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। যশোরের আদালতে আইনের শাসন ও বিচারিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমরা মনে করি, বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আদালত চত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ
















