ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo দেড় বছর পর কার্যালয়ে আ.লীগের নেতাকর্মীরা Logo বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় পানছড়ির জিয়ানগরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল Logo রমজানে স্কুল বন্ধের বিষয়ে আগামীকাল আলোচনা করব-সাইদুর রহমান Logo শপথ অনুষ্টানে ঢাকায় আসছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা Logo পার্বত্যবাসীর স্বপ্ন পূরণে ওয়াদুদ ভূইয়াকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় পাহাড়বাসী Logo হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ সঠিক নয়, দাবি পুলিশের Logo বিক্ষোভের ডাক দিল ১১ দলীয় জোট Logo চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নবনির্বাচিত এমপি Logo গনদাবীতে পরিণত হচ্ছে ওয়াদুদ ভুইয়াকে মন্ত্রী করার দাবী Logo এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের জন্য শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • / ১১০০ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে জড়িত এলাকারই কয়েক শ্রেণির লোকজন।

দেশের প্রচলিত আইন, কড়া নজরদারী তোয়াক্কা না করে শুধু টাকার বিনিময়ে শত শত রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশি বনে গেছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারের উন্নয়ন যারা দেখে না, তাদের চোখে ছানি পড়েছে

সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের এক শ্রেণীর অসাধু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের নিকট আত্বীয়-স্বজন পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র সংগ্রহ করে দিচ্ছে। পরবর্তিতে ভোটার হালনাগাদের সময় জোরপূর্বক তদবির চালিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়ে দিতে সহযোগীতা করে থাকে ওই সিন্ডিকেট। অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনুসারী বাড়ানোর জন্য এবং ভোট ব্যাংক তৈরির উদ্দেশ্যে এসব অপকর্মে পা দিয়ে থাকেন।

সরেজমিন ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটার হালনাগাদের সময় শিক্ষক নামধারী সিরাজুল হক তথ্য হালনাগাদকারীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে রোহিঙ্গাদেরকে ভোটার করানোর জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজু আমতলী এলাকার এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে আসছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল গফুর জানান, একদিন সকালে রেজু আমতলী এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে সিরাজুল হকের অনুরোধে আমি একজনের ভোটার ফরমে স্বাক্ষর করি। পরবর্তিতে জানতে পারি সে রোহিঙ্গা নাগরিক।

একই কথা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল কান্তি চাকমার। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে আমি তেমন এলাকার লোকজনকে চিনতাম না। সিরাজুল হকের সুপারিশে কয়েকজন লোকের ভোটার ফরমে যাছাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করে ছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, তারা নাকি রোহিঙ্গা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর সালেহ বলেন, সাধারণত ভোটার নিবন্ধনের সময় নির্বাচন অফিসের বিশেষ কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ভোটার প্রার্থীদের সংযুক্তকৃত কাগজপত্র যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে থাকি। সর্বশেষ জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ০৬:১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র বানিয়ে দিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে জড়িত এলাকারই কয়েক শ্রেণির লোকজন।

দেশের প্রচলিত আইন, কড়া নজরদারী তোয়াক্কা না করে শুধু টাকার বিনিময়ে শত শত রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে বাংলাদেশি বনে গেছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারের উন্নয়ন যারা দেখে না, তাদের চোখে ছানি পড়েছে

সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের এক শ্রেণীর অসাধু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের নিকট আত্বীয়-স্বজন পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র সংগ্রহ করে দিচ্ছে। পরবর্তিতে ভোটার হালনাগাদের সময় জোরপূর্বক তদবির চালিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়ে দিতে সহযোগীতা করে থাকে ওই সিন্ডিকেট। অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনুসারী বাড়ানোর জন্য এবং ভোট ব্যাংক তৈরির উদ্দেশ্যে এসব অপকর্মে পা দিয়ে থাকেন।

সরেজমিন ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোটার হালনাগাদের সময় শিক্ষক নামধারী সিরাজুল হক তথ্য হালনাগাদকারীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে রোহিঙ্গাদেরকে ভোটার করানোর জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজু আমতলী এলাকার এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে আসছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল গফুর জানান, একদিন সকালে রেজু আমতলী এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে সিরাজুল হকের অনুরোধে আমি একজনের ভোটার ফরমে স্বাক্ষর করি। পরবর্তিতে জানতে পারি সে রোহিঙ্গা নাগরিক।

একই কথা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল কান্তি চাকমার। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে আমি তেমন এলাকার লোকজনকে চিনতাম না। সিরাজুল হকের সুপারিশে কয়েকজন লোকের ভোটার ফরমে যাছাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করে ছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, তারা নাকি রোহিঙ্গা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর সালেহ বলেন, সাধারণত ভোটার নিবন্ধনের সময় নির্বাচন অফিসের বিশেষ কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ভোটার প্রার্থীদের সংযুক্তকৃত কাগজপত্র যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে থাকি। সর্বশেষ জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।