লুট হয়েছিল যেসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০০১ বার পড়া হয়েছে
লুট হয়েছিল যেসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানা থেকে বিভিন্ন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র লুটের বেশিরভাগ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হলেও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো বেহাতই রয়ে গেছে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র মতে জানা যায়, থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে চায়না রাইফেল (৭.৬২ পয়েন্ট ৩৯ মিমি) ১ হাজার ১শ ১৪টি, ৭.৬২ পয়েন্ট ৩৯ মিমি বাংলাদেশি টি-৮ রাইফেল ১২টি, চায়না এসএমজি ২শ ৫৩টি, এলএমজি ৩৪টি, ৯ পয়েন্ট ১৯ মিমি এসএমজি/এসএমটি ৩৩টি, ৭.৬২ পয়েন্ট ২৫ মিমি পিস্তল ৫৩৯টি এবং ৯ পয়েন্ট ১৯ মিমি পিস্তল ১ হাজার ৯২টি, ১২ বোরের শটগান ২ হাজার ৭৯টি এবং সিংগেল শটের ৩৮ মিমি গ্যাস গান ৫শ ৮৯টি লুট হয়েছিল।
এ ছাড়া সিক্স শটের ৩৮ মিমি টিয়ার গ্যাস লাঞ্চার ১৫টি এবং তিনটি ২৬ মিমি সিগন্যাল পিস্তলও লুট হয়েছিল।
এসব আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে বিভিন্ন বোরের ৬ লাখ ১৩ হাজার ১শ ৫৮ রাউন্ড গুলি, বিভিন্ন ধরনের টিয়ার গ্যাসের শেল ৩১ হাজার ২শ ১২টি, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ১ হাজার ৪শ ৮৬টি, সাউন্ড গ্রেনেড ৪ হাজার ৭শ ৪৬টি, কালার স্মোক গ্রেনেড ২শ ৭৩টি, মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড ৫৫টি, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ৯শ টি এবং ১শ ৭৮টি হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে লুট হয়।
উদ্ধারের পর এখন বেহাত যেসব অস্ত্র-গোলাবারুদ
পুলিশ সদর দপ্তরের একই সূত্র মতে জানা যায়, লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এখনো ১শ ৯টি চায়না রাইফেল (৭.৬২ পয়েন্ট ৩৯ মিমি), ৭.৬২ পয়েন্ট ৩৯ মিমি একটি রাইফেল, ৩০টি চায়না এসএমজি, তিনটি এলএমজি, ২শ ৩টি ৭.৬২ পয়েন্ট ২৫ মিমি পিস্তল, এবং ৪শ ৪৩টি ৯ পয়েন্ট ১৯ মিমি পিস্তল, ৩শ ৮৪টি ১২ বোরের শটগান, ১শ ২৮টি সিংগেল শটের ৩৮ মিমি গ্যাস গান, সাতটি সিক্স শটের ৩৮ মিমি টিয়ার গ্যাস লাঞ্চার এবং দুটি ২৬ মিমি সিগন্যাল পিস্তল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ৩৩টি ৯ পয়েন্ট ১৯ মিমি এসএমজি/এসএমটি লুট হলেও এর ১ টিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে লুট হওয়া বিভিন্ন বোরের ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮শ রাউন্ড গুলি, ১১ হাজার ৩শ ৯৮টি বিভিন্ন ধরনের টিয়ার গ্যাসের শেল, ২শ ৯১টি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড, ১ হাজার ১শ ৬৮টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৪১টি কালার স্মোক, ২২টি মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড, ২শ ৮৪টি ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড এবং ১শ ১৬টি হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এখনো বেহাত এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে সারা দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেস বিফিং-এ তিনি এ তথ্য দেন।
এসব অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য সরকার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপনস) উদ্ধারের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা, পিস্তল, রিভলবার বা শটগান জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে ৫০ হাজার টাকা এবং সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাসের শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে শুধু লুট হওয়া অস্ত্রই নয়, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে যাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তা জমা দিতে নোটিশ করা হয়েছিল। জমা না দেওয়া সেই অস্ত্রও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এসব অস্ত্রও উদ্ধারে অভিযান চলছে।
আস্থা/এমএইচ







