ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরীন শারমিনকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২০ বার পড়া হয়েছে

শিরীন শারমিনকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

আস্থা ডেস্কঃ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদনও খারিজ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। পরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা ও সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়।

এদিন এ মামলায় শিরীন শারমিনের দুদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

আদালত উভয়পক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিন আদালতে মামলার অভিযোগ পড়ে শোনান রিমান্ড আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ওমর ফারুক আদালতকে বলেন, আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত থেকে অপরাধ করেছেন।

তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেন, মামলায় শুধু নাম উল্লেখ করা আছে, কোনো প্রমাণ নেই। আমরা চাইলে জামিনও চাইতে পারি। তবে আসামি একজন (সাবেক) নারী স্পিকার। নিশ্চয়ই তিনি প্রটোকল নিয়ে গুলি চালাননি। তার বিরুদ্ধে আগেও কোনো অভিযোগ নেই।

শুনানির একপর্যায়ে একসঙ্গে অনেক আইনজীবী বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর বিচারক জামিন ও রিমান্ড দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় শিরীন শারমিনের উপস্থিত সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাকে সমর্থন দেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন আইনজীবী।

এর আগে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে লালবাগ থানার ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলে পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে ডিবি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এসময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী আশরাফুল ফাহিমের বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেন ফাহিম।

মামলায় বাদীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা এবং নির্দেশে পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ মামলায় শিরীন শারমীন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

শিরীন শারমিনকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

আপডেট সময় : ০৫:২৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

শিরীন শারমিনকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

আস্থা ডেস্কঃ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদনও খারিজ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। পরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা ও সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়।

এদিন এ মামলায় শিরীন শারমিনের দুদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

আদালত উভয়পক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিন আদালতে মামলার অভিযোগ পড়ে শোনান রিমান্ড আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ওমর ফারুক আদালতকে বলেন, আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত থেকে অপরাধ করেছেন।

তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেন, মামলায় শুধু নাম উল্লেখ করা আছে, কোনো প্রমাণ নেই। আমরা চাইলে জামিনও চাইতে পারি। তবে আসামি একজন (সাবেক) নারী স্পিকার। নিশ্চয়ই তিনি প্রটোকল নিয়ে গুলি চালাননি। তার বিরুদ্ধে আগেও কোনো অভিযোগ নেই।

শুনানির একপর্যায়ে একসঙ্গে অনেক আইনজীবী বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর বিচারক জামিন ও রিমান্ড দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় শিরীন শারমিনের উপস্থিত সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাকে সমর্থন দেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন আইনজীবী।

এর আগে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে লালবাগ থানার ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলে পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে ডিবি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এসময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী আশরাফুল ফাহিমের বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেন ফাহিম।

মামলায় বাদীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা এবং নির্দেশে পুলিশ সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ মামলায় শিরীন শারমীন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ