আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছ/এস কে সাগরঃ
আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে বিদায় হয়ে গেছে বা যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয় এবং দলটি দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন।
যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব একটা দীর্ঘ নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসবে বলেই তার অনুমান।
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারে নিজের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে অন্তত তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছিল যে, এই মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য কোনো শক্তির সক্রিয় ভূমিকা ছিল কি না, উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বের প্রতিটি ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনোভাবে ডিপস্টেট জড়িত থাকে। তবে তারা কখনো স্রোতের বিপরীতে গিয়ে কাজ করে না, বরং স্রোতের অনুকূলে থেকে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বা ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।
সাক্ষাৎকারে সরকারের ভেতরে ‘কিচেন কেবিনেট’ বা প্রভাবশালীদের একটি গোপন বলয় সক্রিয় থাকার বিষয়েও কথা বলেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, কোনো একটি বিশেষ উপলক্ষে যমুনাতে আয়োজিত কিচেন কেবিনেটের একটি বৈঠকে তাকে অংশ নিতে হয়েছিল।
পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, এই বিশেষ গ্রুপটি প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠকে বসতেন এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন। পর্দার আড়ালে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যে এমন একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন তার কানেও আসত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভোটের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এই চুক্তির প্রক্রিয়ার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
পুরো বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দেখভাল করেছিলেন। এর পেছনে হয়তো বিশেষ কোনো কারণ বা বাধ্যবাধকতা ছিল বলেই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। তবে কোনো নিরুপায় পরিস্থিতি না থাকলে এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত হতো বলে তিনি মনে করেন।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লির কাছে চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চিঠি দিলেও ভারত যে এর কোনো ইতিবাচক জবাব দেবে না, তা তিনি আগে থেকেই জানতেন।
চিঠির কোনো উত্তর কেন আসেনি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আমরা কি আসলেই কোনো উত্তরের আশা করেছিলাম? তিনি নিজে এমন কোনো প্রত্যাশা করেননি বলেই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















