চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসাছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৪

18

অনলাইন ডেস্কঃ

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় আজ শুক্রবার দুপুরে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে দুই পুলিশ সদস্যসহ ২৬ জন। গুলিবিদ্ধ আরও আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র, একজন পথচারী। নিহত ছাত্ররা হলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের মো. রবিউল আলম, মাদারীপুরের মেহেরাজুল ইসলাম ও হাটহাজারীর মো. জামিল উদ্দীন। পথচারীর নাম মো. আবদুল্লাহ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিহতদের দেখতে যান হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি নিহতদের জন্য দোয়া পরিচালনা করেন।

পুলিশ সদস্য ও দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্ররা জানান, আজ জুমার নামাজের পর ঢাকার বাইতুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় মুসল্লিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে দুপুর আড়াইটার দিকে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা থেকে মিছিল বের করেন ছাত্ররা। এটি কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ছাত্ররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে মাদ্রাসার ছাত্ররা হতাহত হন। এ সময় হাটহাজারী সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) একটি পিকআপ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে অবরোধ সৃষ্টি হলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জানান, হেফাজত কর্মীদের তাণ্ডবে ভূমি অফিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পুড়ে গেছে। সহকারী কমিশনার ভূমির যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। হামলা করা হয় ভূমি কার্যালয়, থানাসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র সদস্য মাওলানা ফোরকান বলেন, ‘আজ আমাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না। ঢাকার বাইতুল মোকাররমে মুসল্লিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে ছাত্ররা। এটি মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

মাদ্রাসার ছাত্র মনির হোসেন বলেন, ‘আমি ছয়জনকে হাসপাতাল নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে দুইজন মারা গেছে। আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

মনির বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্য গুলি করে সবাইকে আহত করেছে। এর মধ্যে অনেকের আঙুল চলে গেছে। পেটে গুলি খেয়েছে।’

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল ইসলাম ইসলামাবাদী বলেন, শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে চারজনকে শহিদ করেছে। আমরা এর বিচার চাই। পুলিশদের বাংলার জমিনে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ‘র’-এর এজেন্ট-মোদির দালালরা নির্বিচারে গুলি করে ভাইদের হত্যা করা হয়েছে।’

পুলিশের গুলিতে আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পরে গুলিবিদ্ধ ১৪ জনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিলব্রত বড়ুয়া জানান, আহতদের মধ্যে চারজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছে।

চমেক নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশু চৌধুরী জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হলে চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রবিউল নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিচয় ও রোগীদের নাম না দেওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসার ছাত্ররা দুটি রুম ভাঙচুর করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।