চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি ক্যাব চট্টগ্রামের
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০২৫ বার পড়া হয়েছে
চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি ক্যাব চট্টগ্রামের
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
দেশের অন্যতম শীর্ষ মেধাবী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অপসারণ করে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমসহ সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ১৫ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের জীবন থেকে তিনটি মাস হারানোর উপক্রম হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের ক্রেতা ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী জাতীয় সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রহস্যজনক’ ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একই সাথে এই অচলাবস্থা অবিলম্বে নিরসনে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং ইয়ুথ ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। এই আন্দোলনের ফলে পরীক্ষা ও পাঠদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার (সেশনজট) আশঙ্কা করছেন। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের দাবি—অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম শিক্ষার্থীসহ সবার কথা সরাসরি শুনতেন। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তার যোগাযোগের কারণে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাচ্ছিলেন। কিন্তু চুয়েটের বাইরে থেকে (কুয়েট) একজন উপাচার্য নিয়োগ করা এবং মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ ছাড়াই পূর্বতন উপাচার্যকে অপসারণ করার ঘটনা ঘটেছে।
অপরদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ‘বিতর্ক’ থাকা সত্ত্বেও তাকে চুয়েটে নিয়োগ দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। অন্যদিকে, অধ্যাপক সায়েম বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে না জানিয়ে বা কোনো কারণ না দেখিয়ে অপসারণ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই সম্মানজনক বা মর্যাদাপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। মেধাবীদের তাদের পদে ফিরিয়ে আনা দরকার। এছাড়া ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির চেয়ে জ্ঞানচর্চার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
আস্থা/এমএইচ


















