ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ১০২২ বার পড়া হয়েছে

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত ৩০টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমলেও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালির মেলা এলাকার কৃষক মোঃ রব্বানী ও মোঃ রহিউদ্দিন জানান, তিস্তার পানি ঢুকে তাদের এক বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আউশ ধানেরও ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বসতঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ময়দুল ইসলাম রনি বলেন, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। কৃষকদের জমিতে পানি নেমে যাওয়ার পর বিশেষ পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ভাঙনকবলিত মানুষ এখন জরুরি সরকারি সহায়তা ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

 

ট্যাগস :

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

আপডেট সময় : ১২:২৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত ৩০টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমলেও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালির মেলা এলাকার কৃষক মোঃ রব্বানী ও মোঃ রহিউদ্দিন জানান, তিস্তার পানি ঢুকে তাদের এক বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আউশ ধানেরও ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বসতঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ময়দুল ইসলাম রনি বলেন, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। কৃষকদের জমিতে পানি নেমে যাওয়ার পর বিশেষ পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ভাঙনকবলিত মানুষ এখন জরুরি সরকারি সহায়তা ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ