দায়িত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কুমিল্লায় দুই এপিপি’র নিয়োগ বাতিল
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / ১০১৬ বার পড়া হয়েছে
দায়িত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কুমিল্লায় দুই এপিপি’র নিয়োগ বাতিল
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
সরকারি দায়িত্বের অবহেলার দায়ে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে দুই আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নিয়োগ বাতিল হওয়া এই দুই আইনজীবী সম্প্রতি আলোচিত শিবির নেতা জিসানের পক্ষে আইনগত কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাডভোকেট মোঃ মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাতিল করা হলো। আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মোঃ ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নিউ বাতিল করা হয়েছে তা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অব্যাহতি পাওয়া এপিপি অ্যাডভোকেট মোঃ মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, শিবির নেতা জিসানের আইনজীবী হিসেবে আমরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করিনি । গত মঙ্গলবার শুধুমাত্র মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিয়েছি শিবির নেতা জিসানের পক্ষে। এই কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করছি ।
কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে আমার কাছে দুজন এপিপির অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি এসেছে । এর বাইরে আমি কিছুই জানিনা ।
উল্লেখ্য, শিবির নেতা জিসানকে গত মঙ্গলবার কুমিল্লার আদালতে তোলা হয়। আদালতে তোলার পর জিসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিনিয়র বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ । এ সময় জিসানের পক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে বক্তব্য রাখেন এই দুই আইনজীবী।
একজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ধর্ষণ মামলায় আসামির পক্ষে আইনি লড়াই বা ওকালতনামা নিতে পারবেন না।আইনি এবং নৈতিক কাঠামোর কারণে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কারণ:-স্বার্থের সংঘাত বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ একটি রাষ্ট্রবিরোধী মারাত্মক অপরাধ।যেকোনো ধর্ষণ মামলায় রাষ্ট্র বা সরকার নিজেই বাদী বা প্রসিকিউশন পক্ষ হিসেবে দাঁড়ায়। যেহেতু একজন এপিপি সরকারের পক্ষে (রাষ্ট্রপক্ষে) মামলা পরিচালনার জন্য সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত, তাই তিনি একই সাথে রাষ্ট্রের বিপক্ষের পক্ষ অর্থাৎ আসামির হয়ে লড়তে পারেন না। এটি সরাসরি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে।
পেশাগত আচরণবিধি ও নৈতিকতাবাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী আচরণবিধি এবং সরকারি ল অফিসারদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা বা সম্মানী নিয়ে সরকারেরই কোনো ফৌজদারি মামলার আসামিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
পদের অপব্যবহার রোধএকজন এপিপি হিসেবে আদালতের অনেক গোপন নথিপত্র, তদন্তের দুর্বলতা বা রাষ্ট্রপক্ষের কৌশল তার জানা থাকতে পারে। তিনি যদি আসামির পক্ষে দাঁড়ান, তবে সেই পদের অপব্যবহার করে আসামিকে খালাস করার চেষ্টা করতে পারেন—যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
যদি কোনো এপিপি আইন অমান্য করে কোনো ধর্ষণ বা গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আসামির পক্ষে ওকালতনামা সই করেন বা আদালতে শুনানি করেন, তবে তা জানা মাত্রই আইন মন্ত্রণালয় তার নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে দেয়।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















