ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬ Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা, সারাদেশে বাধাহীন ‘মব’-২০২৫ Logo সড়ক পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবার বাড়ি খাগড়াছড়ি Logo দেশে এমন জানাজা আগে কেউ দেখেনি

বড় নেতারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কেন বাস ব্যবহার করেন?

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৬৩ বার পড়া হয়েছে

বড় নেতারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কেন বাস ব্যবহার করেন?

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

বড় নেতারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিছকই বাস ব্যবহার করেন না। যা যাতায়াতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা, প্রতীক এবং কৌশলের অংশ এবং এটি বিশ্ব রাজনীতিতেও নতুন নয়।

বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে ঐতিহ্যবাহীভাবে রাজনৈতিক শোভাযাত্রা বা মিছিলে খোলা ট্রাকের ব্যবহার প্রধান ছিল, সেখানে সম্প্রতি বাস ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন একটি রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তান ও কিউবায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘ক্যাম্পেইন বাস’ হিসেবে সুসজ্জিত বাস ব্যবহার হয়ে আসছে। এসব বাস শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং চলন্ত রাজনৈতিক মঞ্চ, নিরাপত্তার কেন্দ্র ও জনসংযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে।

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে লাল রঙের ‘নিউ লেবার, নিউ ব্রিটেন’ স্লোগান লিখিত বাস ব্যবহার করে জনসম্পৃক্ততার এক নতুন যুগ সূচনা করেছিল।

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও তুরস্কের রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও নিরাপদ, বুলেটপ্রুফ বাসে নির্বাচনী সফর করেছেন। পাকিস্তানের ইমরান খান ‘চলন্ত সমাবেশ’ হিসেবে বাসকে কৌশলগত মঞ্চে পরিণত করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শোভাযাত্রায় খোলা ট্রাকের প্রাধান্য ছিল। নেতারা ট্রাকে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন, যা আন্দোলনের প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক। তবে সম্প্রতি ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান একটি নির্দিষ্ট বাস ব্যবহার করে তা বদলে দিতে শুরু করেছেন।

বড় নেতারা বাস বেছে নেন কারণ?! সর্বোচ্চ দৃশ্যমানতা! বড়, উঁচু বাস সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জনতার কাছাকাছি থাকার বার্তা: বাস গণপরিবহনের প্রতীক, যা ব্যক্তিগত এসইউভি বা বিলাসবহুল গাড়ির চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই নেতাকে উপস্থাপন করে। আধুনিক বুলেটপ্রুফ বাস ভেতরে শক্তিশালী সুরক্ষা দিয়ে নেতাদের ঝুঁকি কমায়।

বাংলাদেশে যখন কোনো শীর্ষ নেতা ধারাবাহিকভাবে একই বাস ব্যবহার করেন গণসংবর্ধনা থেকে শুরু করে পারিবারিক সমাধি বা জাতীয় স্মৃতিসৌধ তবে তা নিছক পরিবহন নয়, একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতীকে রূপ নেয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় নেতাদের বাস ব্যবহার এখন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করছে। এই প্রবণতা নতুন হলেও, তারেক রহমানের উদাহরণ দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাহন সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

ট্যাগস :

বড় নেতারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কেন বাস ব্যবহার করেন?

আপডেট সময় : ১২:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বড় নেতারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কেন বাস ব্যবহার করেন?

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

বড় নেতারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নিছকই বাস ব্যবহার করেন না। যা যাতায়াতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা, প্রতীক এবং কৌশলের অংশ এবং এটি বিশ্ব রাজনীতিতেও নতুন নয়।

বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে ঐতিহ্যবাহীভাবে রাজনৈতিক শোভাযাত্রা বা মিছিলে খোলা ট্রাকের ব্যবহার প্রধান ছিল, সেখানে সম্প্রতি বাস ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন একটি রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তান ও কিউবায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘ক্যাম্পেইন বাস’ হিসেবে সুসজ্জিত বাস ব্যবহার হয়ে আসছে। এসব বাস শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং চলন্ত রাজনৈতিক মঞ্চ, নিরাপত্তার কেন্দ্র ও জনসংযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে।

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে লাল রঙের ‘নিউ লেবার, নিউ ব্রিটেন’ স্লোগান লিখিত বাস ব্যবহার করে জনসম্পৃক্ততার এক নতুন যুগ সূচনা করেছিল।

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও তুরস্কের রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও নিরাপদ, বুলেটপ্রুফ বাসে নির্বাচনী সফর করেছেন। পাকিস্তানের ইমরান খান ‘চলন্ত সমাবেশ’ হিসেবে বাসকে কৌশলগত মঞ্চে পরিণত করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শোভাযাত্রায় খোলা ট্রাকের প্রাধান্য ছিল। নেতারা ট্রাকে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন, যা আন্দোলনের প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক। তবে সম্প্রতি ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান একটি নির্দিষ্ট বাস ব্যবহার করে তা বদলে দিতে শুরু করেছেন।

বড় নেতারা বাস বেছে নেন কারণ?! সর্বোচ্চ দৃশ্যমানতা! বড়, উঁচু বাস সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জনতার কাছাকাছি থাকার বার্তা: বাস গণপরিবহনের প্রতীক, যা ব্যক্তিগত এসইউভি বা বিলাসবহুল গাড়ির চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই নেতাকে উপস্থাপন করে। আধুনিক বুলেটপ্রুফ বাস ভেতরে শক্তিশালী সুরক্ষা দিয়ে নেতাদের ঝুঁকি কমায়।

বাংলাদেশে যখন কোনো শীর্ষ নেতা ধারাবাহিকভাবে একই বাস ব্যবহার করেন গণসংবর্ধনা থেকে শুরু করে পারিবারিক সমাধি বা জাতীয় স্মৃতিসৌধ তবে তা নিছক পরিবহন নয়, একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতীকে রূপ নেয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় নেতাদের বাস ব্যবহার এখন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করছে। এই প্রবণতা নতুন হলেও, তারেক রহমানের উদাহরণ দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাহন সংস্কৃতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।