লাল নোটের প্রভাবে ফের চালু সীলগালা সেবা ক্লিনিক
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / ১০৩১ বার পড়া হয়েছে
লাল নোটের প্রভাবে ফের চালু সীলগালা সেবা ক্লিনিক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদরে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ ও লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতায় প্রশাসনের মাধ্যমে সিলগালা হওয়া সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন পুনরায় চালু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বের গুরুতর অভিযোগ ও প্রশাসনকে উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লিনিকটির উদ্বোধন করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্ত্তী।
এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বে-সরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ তৌহিদুল আলম উপস্থিত থাকবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্লিনিকটির পূর্বের অভিযোগ, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আসায় অনেক আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠান এড়িয়ে যান বলে আলোচনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৪ জুলাই উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার জান্নাতুল মাওয়া রনি (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইনকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ছিল, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসাগত অবহেলা ও অ্যানেসথেশিয়ার অতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। পরে প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা ও সিলগালা করে দেয়।
ক্লিনিক সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক মানবকণ্ঠের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি শাহ নেওয়াজ নাজিমকে প্রকাশ্যে হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ফটিকছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সাংবাদিক শাহ নেওয়াজ নাজিম বলেন, “জনস্বার্থে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি উদ্বেগজনক। আমি নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোঃ তৌহিদুল আলম বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















