লোডশেডিং-এ অতিষ্ঠ জনজীবন, কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী
- আপডেট সময় : ০১:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে
লোডশেডিং-এ অতিষ্ঠ জনজীবন, কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণে লালমনিরহাট সহ গোটা উত্তর জনপদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিন এবং রাতে দফায় দফায় লোডশেডিং এর কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে চরম ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দিন ও রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পড়ছে মারাত্মক প্রভাব।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং রাইস মিল, ওয়ার্কশপসহ কলকারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে এই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এদিকে প্রচন্ড গরমে ফ্যান, ফ্রিজ বন্ধ থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমেছে ধস! এ অবস্থা থেকে কবে নাগাদ মুক্তি মিলবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না বিদ্যুৎ বিভাগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারে অগ্রিম টাকা ভরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
সাধারণ মানুষের দাবি, রাতের বেলায় অন্তত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শহরের মুদি দোকানদার কফিল উদ্দিন বলেন, জেলা শহরের চেয়ে উপজেলা সদরগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ।দিন-রাত মিলিয়ে ১০থেকে ১২ঘণ্টা বিদুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
একদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে অনেকেই না ঘুমিয়ে রাত পার করছেন।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ে, যা চলে ভোর পর্যন্ত।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক মহিউদ্দিন, ইন্তাজ আলী ও বাহার মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। শরীর এত দুর্বল লাগে যে সকালে খেত খামারে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
একই ভোগান্তির কথা জানালেন, স্থানীয় দোকানদার দবীয়ার রহমান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
ওদিকে বিদ্যুৎ এর এই নজির বিহীন লোডশেডিং এর কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বর্ডার গার্ড স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আফরা ইবনাত ও দশম শ্রেণীর ছাত্র রবিউল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশুনা করতে আমাদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
ওদিকে বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে গ্রামের কোথাও সরকারি শিডিউল মানা হচ্ছে না। গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস বা উপকেন্দ্রে অথবা অভিযোগ অফিসগুলোতে ফোন করলে কেউ রিসিভও করছে না।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















