শরীয়তপুরে এক জামিন নামায় দুই আসামির মুক্তি, বরখাস্ত কারারক্ষী

229

এস এম স্বাধীন শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরে নামের ভুলে লিটন সিকদার সেজে কারাগার থেকে জামিনের কাগজপত্র দেখিয়ে বেরিয়ে গেছেন লিটন ফরাজী নামে এক আসামি। পরে লিটন সিকদার কেও মুক্তিদেন কারাকর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শরীয়তপুর কারাগারের কারারক্ষী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল (রবিবার) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। পরে ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ৫ এপ্রিল (সোমবার) পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে শরীয়তপুর জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।

পালং মডেল থানায় করা জিডির আবেদনে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি দুজন আসামিকে বিধি মোতাবেক মুক্তি দেন। কিন্তু দাফতরিক অনিচ্ছাকৃত ভুলের সুযোগ নিয়ে লিটন সিকদার সেজে প্রতারণা করে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন লিটন ফরাজী।

এ ঘটনায় কারা অধিদফতরের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানকে আহ্বায়ক এবং ফরিদপুর জেল সুপার আল মামুন ও ঝালকাঠির জেলার জান্নাত-উল-ফরহাদকে সদস্য করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতান বলেন, নামের ভুলের কারণে লিটন সিকদার সেজে কারাগার থেকে জামিনের কাগজপত্র দেখিয়ে বেরিয়ে গেছেন লিটন ফরাজী। তাই কারা অধিদফতর তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। সেই মোতাবেক আমরা আজ তদন্তের জন্য শরীয়তপুরে এসেছি। তদন্ত চলছে। লিটন ফরাজীকে হন্য হয়ে খুঁজছেন কারা কর্মকর্তারা।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, লিটন ফরাজীর দুইটি ঠিকানা বরিশাল উজিরপুর ও ঢাকা বাসাবো। আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনে মেসেজ দিয়েছি। লিটন ফরাজীকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।

শরীয়তপুর কারাগারের জেল সুপার গোলাম হোসেন বলেন, লিটন ফরাজীর বাড়ি বরিশালের উজিরপুর। ঢাকার বাসাবোতে থাকেন। তার নামে তিনটি মামলা রয়েছে। আর লিটন সিকদারের বাড়ি খুলনার খালিশপুরে। দুজনই চুরি ও ছিনতাই মামলার আসামি। এ ঘটনায় শরীয়তপুর কারাগারের কারারক্ষী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেল সুপার আরো বলেন, আসামি লিটন ফরাজীকে পাওয়া না গেলেও নিয়ম মেনে অপর আসামি লিটন সিকদারকে গতকাল ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।