ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে; আহত-১০

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০০৮ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে; আহত-১০

ফলোআপ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুষ্টিয়ায় জামায়াত ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা আমির হামজা মাথায় আঘাত পান বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তাৎক্ষণিক সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি সংসদ সদস্য আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করে বক্তব্য দেন বলে দাবি দলটির নেতাকর্মীদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিকালে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।

সমাবেশ স্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ির ভেতর থেকে তার সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।

এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেই। দফায় দফায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে মাগরিবের নামাজ চলাকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়।

সেখান থেকে তারা মিছিল করে ছয়রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, “আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা ছয়রাস্তার মোড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম।

“এ সময় আমির হামজার গাড়ি আসে এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তারা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।”

হামলায় তিনিসহ গণঅধিকার পরিষদের তিনজন আহত হন বলে দাবি তৌকির আহম্মেদের।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচিতে ছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে খবর পাই, আমার বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে।

“পরে সদর থানার ওসির গাড়ির পেছনে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে আমার গাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।”

হামলায় তিনিসহ জামায়াতের ৭ জন কর্মী আহত হন বলে দাবি আমির হামজার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ সদস্যের বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

 

ট্যাগস :

কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে; আহত-১০

আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে; আহত-১০

ফলোআপ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুষ্টিয়ায় জামায়াত ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা আমির হামজা মাথায় আঘাত পান বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তাৎক্ষণিক সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি সংসদ সদস্য আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করে বক্তব্য দেন বলে দাবি দলটির নেতাকর্মীদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিকালে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।

সমাবেশ স্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ির ভেতর থেকে তার সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।

এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেই। দফায় দফায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে মাগরিবের নামাজ চলাকালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়।

সেখান থেকে তারা মিছিল করে ছয়রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, “আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা ছয়রাস্তার মোড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম।

“এ সময় আমির হামজার গাড়ি আসে এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তারা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।”

হামলায় তিনিসহ গণঅধিকার পরিষদের তিনজন আহত হন বলে দাবি তৌকির আহম্মেদের।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচিতে ছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে খবর পাই, আমার বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে।

“পরে সদর থানার ওসির গাড়ির পেছনে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে আমার গাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।”

হামলায় তিনিসহ জামায়াতের ৭ জন কর্মী আহত হন বলে দাবি আমির হামজার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ সদস্যের বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ