জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি আরিন খান
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / ১০০১ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি আরিন খান
শেখ শ্রাবন হোসেন শাওনঃ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খানকে সরকারের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দায়িত্ব গ্রহণ করলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন আইরিন খান।
জানা গেছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই তিনি নিউইয়র্কে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। সরকারের চলমান কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইরিন খান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব।
তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের মতে, আইরিন খানের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, মানবাধিকার বিষয়ে দীর্ঘদিনের কাজ এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
আইরিন খান হলেন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী ও আইনবিদ। ২০২০ সালের আগস্ট থেকে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থায় (UNHCR) কাজ করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি রোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক ছিলেন।
তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল’ স্কুল থেকে আইনে পড়াশোনা করেছেন। মানবাধিকার সুরক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিডনি পিস প্রাইজ’ সহ অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করেছেন।
তিনি সুপরিচিত ও উচ্চশিক্ষিত মুসলিম পরিবারে ১৯৫৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈতৃক নিবাস সিলেট জেলার বিরাহিমপুরে। তার বাবা সিকান্দার আলী খান ছিলেন একজন চিকিৎসক। তার দাদা আহমেদ আলী খান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে ডিগ্রিধারী এবং একজন ব্যারিস্টার ছিলেন। তার পিতামহ আসাদদার আলী খান ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক।
বাংলাদেশের সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন তার আপন চাচা। সেই সূত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান তার চাচাতো বোন।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ






















