ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১০৪৬ বার পড়া হয়েছে

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

 

মামুনুর রশীদ/ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণ করেছে এমনটি সন্দেহে সামচেল মোল্লা (৩৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্টান্ডে। নিহত যুবক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বারেক মোল্লার ছেলে।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর গ্রামের খায়রুল মীর এর সাত বছরের ছেলে রিতাজ মীরকে ওই যুবক নিজের সন্তান বলে জড়িয়ে ধরে রাস্তায় হাঁটার সময় ছেলেটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছেলেটিকে উদ্ধার করে। পরে ওই যুবককে আটক করে পথচারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় এলাকাবাসী তাকে ছেলেধরা সন্দেহ করে বেদম প্রহার করে। একটি পযার্য়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সামচেল মোল্লাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

 

ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যুবকের ফিঙ্গার দিয়ে ভোর রাঁতে পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। নিহত শামসেল এর বাড়ীতে পুলিশ পাঠিয়ে তার পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। সে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত মানুষ। এ কারণে তার দুইজন স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। গতকাল সন্ধ্যার পরে একটি শিশুকে হাত ধরে টানাটানি করে। তখন ওই শিশুর সঙ্গে থাকা দুইজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রও ছিল। তারা ছেলে ধরা ছেলে ধরা বলে চিৎকার করতেই উৎসুক জনতা সামচেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভাঙ্গা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মোঃ হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ওই লোকটি সাত থেকে আট বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে নেওয়ার সন্দেহে জনতা তাকে আটক করে। তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হলে পরে হাসপাতালে মারা যায়।

 

ট্যাগস :

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

 

মামুনুর রশীদ/ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণ করেছে এমনটি সন্দেহে সামচেল মোল্লা (৩৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্টান্ডে। নিহত যুবক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বারেক মোল্লার ছেলে।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর গ্রামের খায়রুল মীর এর সাত বছরের ছেলে রিতাজ মীরকে ওই যুবক নিজের সন্তান বলে জড়িয়ে ধরে রাস্তায় হাঁটার সময় ছেলেটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছেলেটিকে উদ্ধার করে। পরে ওই যুবককে আটক করে পথচারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় এলাকাবাসী তাকে ছেলেধরা সন্দেহ করে বেদম প্রহার করে। একটি পযার্য়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সামচেল মোল্লাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

 

ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যুবকের ফিঙ্গার দিয়ে ভোর রাঁতে পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। নিহত শামসেল এর বাড়ীতে পুলিশ পাঠিয়ে তার পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। সে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত মানুষ। এ কারণে তার দুইজন স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। গতকাল সন্ধ্যার পরে একটি শিশুকে হাত ধরে টানাটানি করে। তখন ওই শিশুর সঙ্গে থাকা দুইজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রও ছিল। তারা ছেলে ধরা ছেলে ধরা বলে চিৎকার করতেই উৎসুক জনতা সামচেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভাঙ্গা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মোঃ হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ওই লোকটি সাত থেকে আট বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে নেওয়ার সন্দেহে জনতা তাকে আটক করে। তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হলে পরে হাসপাতালে মারা যায়।