ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পার্বত্য অঞ্চলের আবাসন ও বিদ্যুতে খাতে ২৭৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিলো এডিবি Logo শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করলো বাদী Logo স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতাকে ধরতে অভিযান: ওসির বদলি Logo ভারতের আর্শিবাদে ক্ষমতা দখল করে বসেছিল আওয়ামীলীগ Logo ইউনুচের শাসনে শিক্ষাঙ্গনে মব-সহিংসতা: তদন্তে আসছে জাতিসংঘ Logo বেয়াইয়ের সাথে সঙ্গম: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিয়াইনের মৃত্যু Logo আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা Logo ভারতে বাংলাদেশি আঞ্চলিক সশস্ত্র কমান্ডার আটক, দুই সহযোগী পলাতক Logo চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি ক্যাব চট্টগ্রামের Logo পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলেন ডা. স্বপন কুমার চাকমা

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১০৯৯ বার পড়া হয়েছে

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

 

মামুনুর রশীদ/ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণ করেছে এমনটি সন্দেহে সামচেল মোল্লা (৩৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্টান্ডে। নিহত যুবক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বারেক মোল্লার ছেলে।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর গ্রামের খায়রুল মীর এর সাত বছরের ছেলে রিতাজ মীরকে ওই যুবক নিজের সন্তান বলে জড়িয়ে ধরে রাস্তায় হাঁটার সময় ছেলেটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছেলেটিকে উদ্ধার করে। পরে ওই যুবককে আটক করে পথচারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় এলাকাবাসী তাকে ছেলেধরা সন্দেহ করে বেদম প্রহার করে। একটি পযার্য়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সামচেল মোল্লাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

 

ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যুবকের ফিঙ্গার দিয়ে ভোর রাঁতে পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। নিহত শামসেল এর বাড়ীতে পুলিশ পাঠিয়ে তার পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। সে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত মানুষ। এ কারণে তার দুইজন স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। গতকাল সন্ধ্যার পরে একটি শিশুকে হাত ধরে টানাটানি করে। তখন ওই শিশুর সঙ্গে থাকা দুইজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রও ছিল। তারা ছেলে ধরা ছেলে ধরা বলে চিৎকার করতেই উৎসুক জনতা সামচেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভাঙ্গা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মোঃ হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ওই লোকটি সাত থেকে আট বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে নেওয়ার সন্দেহে জনতা তাকে আটক করে। তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হলে পরে হাসপাতালে মারা যায়।

 

ট্যাগস :

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩

ভাঙ্গায় ছেলে ধরা সন্দেহে ভারসাম্যহীনকে পিটিয়ে হত্যা

 

মামুনুর রশীদ/ভাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণ করেছে এমনটি সন্দেহে সামচেল মোল্লা (৩৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্টান্ডে। নিহত যুবক একই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বারেক মোল্লার ছেলে।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর গ্রামের খায়রুল মীর এর সাত বছরের ছেলে রিতাজ মীরকে ওই যুবক নিজের সন্তান বলে জড়িয়ে ধরে রাস্তায় হাঁটার সময় ছেলেটির চিৎকারে এলাকাবাসী ছেলেটিকে উদ্ধার করে। পরে ওই যুবককে আটক করে পথচারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় এলাকাবাসী তাকে ছেলেধরা সন্দেহ করে বেদম প্রহার করে। একটি পযার্য়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সামচেল মোল্লাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

 

ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যুবকের ফিঙ্গার দিয়ে ভোর রাঁতে পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। নিহত শামসেল এর বাড়ীতে পুলিশ পাঠিয়ে তার পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। সে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত মানুষ। এ কারণে তার দুইজন স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। গতকাল সন্ধ্যার পরে একটি শিশুকে হাত ধরে টানাটানি করে। তখন ওই শিশুর সঙ্গে থাকা দুইজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রও ছিল। তারা ছেলে ধরা ছেলে ধরা বলে চিৎকার করতেই উৎসুক জনতা সামচেলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভাঙ্গা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মোঃ হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ওই লোকটি সাত থেকে আট বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে নেওয়ার সন্দেহে জনতা তাকে আটক করে। তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারায় গণপিটুনির শিকার হয়ে আহত হলে পরে হাসপাতালে মারা যায়।