ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo গুইমারায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo খাগড়াছড়িতে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের দাবিতে ৪ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়-মাহদী Logo ১৬ মাসে ৫৬০ হয়রানি, ১১৪৪ সাংবাদিক আক্রান্ত Logo ভোলায় প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ Logo উখিয়ায় বিএনপি ছেড়ে ৫শ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান Logo প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট Logo খাগড়াছড়ি প্রার্থীদের সাথে খাগড়াছড়িতে সেনা বাহীনির মতবিনিময় Logo খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে ৬ প্রার্থীর বৈঠকের গুঞ্জন Logo খাগড়াছড়িতে ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কলেজ শিক্ষিকার অবস্থান, ইউএনওকে ওএসডি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১১১৯ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কলেজ শিক্ষিকার অবস্থান, ইউএনওকে ওএসডি

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম আড়াই বছর আগে কলেজ শিক্ষিকা জিনাত আরা খাতুনকে
তাঁকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করে। ওই নারী আরিফুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী থাকার কথা জানতে পেরে গত বুধবার বিকেলে সন্তান নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির হন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাঁকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন। তখন তিনি সন্তান নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে বসে পড়েন।

এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সহকারী সচিব কানিজ ফাতেমা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) পদে নিয়োগ করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজীও তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

জিনাত আরার দাবি আক্কেলপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম দিনাজপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ২০ লাখ ১০১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি প্রথম স্ত্রী থাকার কথা জানতেন না। বিয়ের কাবিননামায় প্রথম স্ত্রী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্ত্রী দাবি করা এই নারীর অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সাপ্তাহিক ছুটিতে আরিফুল দিনাজপুরের বাসায় গিয়ে থাকতেন। পাঁচ-ছয় দিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

কলেজ শিক্ষিকা জিনাত আরা বলেন, বাধ্য হয়ে বুধবার দুপুরে আক্কেলপুরে এসে আমার স্বামী ইউএনও মোঃ আরিফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমার স্বামী তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে আমাদের দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। তাঁরা আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন। এর প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কের এসে বসে পড়ি। পরে আমাকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র, আক্কেলপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আমার কথা শোনেন। এরপর সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাই। আমার আগে একটি সংসার ছিল। আমি ইউএনওর সংসার করব।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তালাকনামা আমরা দেখেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এর একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করছি।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাকে ব্ল্যাকমেল করে ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে করেছিল মেয়েটি। বিয়ের পর সে আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিল। আরও টাকা নিতেই পরিকল্পিতভাবে কিছু লোকজন নিয়ে আক্কেলপুরে এসেছিল আমাকে সমাজের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করতে।

তিনব আরও বলেন, আমি তাকে অসম্মান করিনি। বরং সেই আমাকে হেনস্তা করার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তাকে তালাক দিয়েছি। আমি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।

ট্যাগস :

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কলেজ শিক্ষিকার অবস্থান, ইউএনওকে ওএসডি

আপডেট সময় : ০১:০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কলেজ শিক্ষিকার অবস্থান, ইউএনওকে ওএসডি

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম আড়াই বছর আগে কলেজ শিক্ষিকা জিনাত আরা খাতুনকে
তাঁকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করে। ওই নারী আরিফুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী থাকার কথা জানতে পেরে গত বুধবার বিকেলে সন্তান নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির হন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাঁকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকতে বাধা দেন। তখন তিনি সন্তান নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে বসে পড়েন।

এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সহকারী সচিব কানিজ ফাতেমা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) পদে নিয়োগ করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজীও তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

জিনাত আরার দাবি আক্কেলপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম দিনাজপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ২০ লাখ ১০১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি প্রথম স্ত্রী থাকার কথা জানতেন না। বিয়ের কাবিননামায় প্রথম স্ত্রী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্ত্রী দাবি করা এই নারীর অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সাপ্তাহিক ছুটিতে আরিফুল দিনাজপুরের বাসায় গিয়ে থাকতেন। পাঁচ-ছয় দিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

কলেজ শিক্ষিকা জিনাত আরা বলেন, বাধ্য হয়ে বুধবার দুপুরে আক্কেলপুরে এসে আমার স্বামী ইউএনও মোঃ আরিফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমার স্বামী তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে আমাদের দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। তাঁরা আমাকে সেখান থেকে বের করে দেন। এর প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কের এসে বসে পড়ি। পরে আমাকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র, আক্কেলপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আমার কথা শোনেন। এরপর সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাই। আমার আগে একটি সংসার ছিল। আমি ইউএনওর সংসার করব।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তালাকনামা আমরা দেখেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এর একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করছি।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাকে ব্ল্যাকমেল করে ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে করেছিল মেয়েটি। বিয়ের পর সে আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিল। আরও টাকা নিতেই পরিকল্পিতভাবে কিছু লোকজন নিয়ে আক্কেলপুরে এসেছিল আমাকে সমাজের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করতে।

তিনব আরও বলেন, আমি তাকে অসম্মান করিনি। বরং সেই আমাকে হেনস্তা করার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তাকে তালাক দিয়েছি। আমি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।