ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো মণিপুর! Logo প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে ৬ জন আটক Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক

হেফাজতের জরুরি বৈঠকে রমযানে মসজিদ,মাদরাসা খোলা রাখার দাবি।

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১
  • / ১৩০১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রির্পোটারঃ
সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের এক জরুরি বৈঠক গতকাল ১১ এপ্রিল রবিবার সকাল ১০ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

এছাড়াও সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম (পীর সাহেব ফিরোজশাহ), মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা শোআইব জমীরী, মাওলানা ওমর মেখলী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা মুনির হুসাইন কাসেমী, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরীস, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, ড. নূরুল আবসার আজহারী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা ইলিয়াস হামিদী ও মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ প্রমুখ।

সভায় হেফাজত আমির বলেন, ‘আমরা সরকারবিরোধী নই। সরকারের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করব না। তাছাড়া সরকার পতন আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা প্রয়োজনে আরও দুইশ’ বছর ক্ষমতায় থাকুক। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সরকারকে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে হবে। না হয় কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, লকডাউন সরকারের যেখানে খুশি সেখানে দিক। কিন্তু লকডাউনের নামে মাদরাসা হেফজখানা নুরানিসহ অন্যান্য কওমি মাদরাসা বন্ধ করা যাবে না। করোনা এসব মাদরাসায় আসে না। কারণ এখানে ছাত্ররা কুরআন-হাদিস পাঠ করে। যারা করোনা থেকে বেশি বাঁচতে চেষ্টা করছে তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও এটা বলা ঠিক না, আল্লাহর রহমতে এখনো কোনো মাদরাসা ছাত্র কিংবা বড় আলেম করোনা আক্রান্ত হয়নি।’
এ সময় হেফাজত আমীর বলেন, ‘করোনার দোহাই দিয়ে সরকার মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, মসজিদে মুসল্লি সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া যাবে না, রমজানে ইতিকাফ ও তারাবি বন্ধ করা যাবে না। রমজান মাসে কওমি মাদরাসায় একটা কালেকশন (অনুদান সংগ্রহ) হয়। ওই কালেকশন দিয়ে মাদরাসা সারাবছর চলে। লকডাউন দিয়ে সরকার কালেকশন বন্ধেরও চেষ্টা করছে।’
হেফাজত আমির সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের মাদরাসায় পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতার ও মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে। এসব বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিণতি হবে।’
আগামী ২৯ মে হাটহাজারী মাদরাসায় বড় করে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন হবে বলেও জানান হেফাজতের আমির।
মামুনুল হকের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তরফ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাবুনগরী বলেন, ‘আজকের সভায় কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা হয়নি। মামুনুল হককে নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত। কাউকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো কথা সভায় ওঠেনি।’
সভায় দেশের সকল মাদরাসা ও মসজিদে করোনা মহামারী থেকে মুক্তি ও সমকালীন সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য কুনূতে নাজেলার আমল চালু করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের যেকোনো সঙ্কটকালীন সময়ে হেফাজতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আহ্বান জানান হেফাজত আমির।

ট্যাগস :

হেফাজতের জরুরি বৈঠকে রমযানে মসজিদ,মাদরাসা খোলা রাখার দাবি।

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

স্টাফ রির্পোটারঃ
সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের এক জরুরি বৈঠক গতকাল ১১ এপ্রিল রবিবার সকাল ১০ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাটহাজারী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

এছাড়াও সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম (পীর সাহেব ফিরোজশাহ), মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা শোআইব জমীরী, মাওলানা ওমর মেখলী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা মুনির হুসাইন কাসেমী, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরীস, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, ড. নূরুল আবসার আজহারী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা ইলিয়াস হামিদী ও মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ প্রমুখ।

সভায় হেফাজত আমির বলেন, ‘আমরা সরকারবিরোধী নই। সরকারের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করব না। তাছাড়া সরকার পতন আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা প্রয়োজনে আরও দুইশ’ বছর ক্ষমতায় থাকুক। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সরকারকে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে হবে। না হয় কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, লকডাউন সরকারের যেখানে খুশি সেখানে দিক। কিন্তু লকডাউনের নামে মাদরাসা হেফজখানা নুরানিসহ অন্যান্য কওমি মাদরাসা বন্ধ করা যাবে না। করোনা এসব মাদরাসায় আসে না। কারণ এখানে ছাত্ররা কুরআন-হাদিস পাঠ করে। যারা করোনা থেকে বেশি বাঁচতে চেষ্টা করছে তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও এটা বলা ঠিক না, আল্লাহর রহমতে এখনো কোনো মাদরাসা ছাত্র কিংবা বড় আলেম করোনা আক্রান্ত হয়নি।’
এ সময় হেফাজত আমীর বলেন, ‘করোনার দোহাই দিয়ে সরকার মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, মসজিদে মুসল্লি সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া যাবে না, রমজানে ইতিকাফ ও তারাবি বন্ধ করা যাবে না। রমজান মাসে কওমি মাদরাসায় একটা কালেকশন (অনুদান সংগ্রহ) হয়। ওই কালেকশন দিয়ে মাদরাসা সারাবছর চলে। লকডাউন দিয়ে সরকার কালেকশন বন্ধেরও চেষ্টা করছে।’
হেফাজত আমির সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের মাদরাসায় পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতার ও মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে। এসব বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিণতি হবে।’
আগামী ২৯ মে হাটহাজারী মাদরাসায় বড় করে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন হবে বলেও জানান হেফাজতের আমির।
মামুনুল হকের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তরফ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাবুনগরী বলেন, ‘আজকের সভায় কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা হয়নি। মামুনুল হককে নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত। কাউকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো কথা সভায় ওঠেনি।’
সভায় দেশের সকল মাদরাসা ও মসজিদে করোনা মহামারী থেকে মুক্তি ও সমকালীন সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য কুনূতে নাজেলার আমল চালু করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের যেকোনো সঙ্কটকালীন সময়ে হেফাজতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আহ্বান জানান হেফাজত আমির।