ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo সাংবাদিকদের বাথরুম, টয়লেট পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া উচিত, উপ-পরিচালক, ভয়ে করলো ডিলেট Logo ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রেস্টুরেন্টে আগুন Logo রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর গোলাগুলি, নিহত-২, আহত-১ Logo চট্টগ্রামে আটকের একদিন পর যুবলীগ নেতার মৃত্যু Logo মুদি দোকান-বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায় বসছে কর Logo শার্শায় পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি Logo অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক Logo তারাগঞ্জে শিশু সানজিদা হত্যার রহস্য উন্মোচন, ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার Logo জেল বন্দি বিএনপি নেতা, ঢাকায় চালিয়েছেন গুলি: হয়ে গেলো মামলায় আসামী Logo গাজীপুরে বন্ধ হলো দুটি কারখানা: বেকার হলো ১৮০০ শ্রমিক

ব্যবসা করতে রিকশাচালককে লাখ টাকা দিলেন ব্যারিস্টার

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১
  • / ১০৭৫ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ

লকডাউনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রফিক। কিন্তু তার রিকশাটি আটকে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। সে সময় রফিকের কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ঘটনাটি জানতে পেরে ওই রিকশাচালককে ব্যবসা করার জন্য এক লাখ টাকা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভুঁইয়া।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) আহসান হাবিব ভুঁইয়া বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই আমাকে রিকোয়েস্ট করল বিষয়টি দেখার জন্য। এছাড়াও আমার এক বন্ধু রফিকের কান্নার ভিডিও‍র লিংক আমাকে ইনবক্স করে বলল এটা দেখে তার নাকি খারাপ লাগছে। আমিও বললাম আমারও খারাপ লাগছে কি করার। এর পরের দিন বিকেলে আরও এক বন্ধু লিংক পাঠালো। রফিকের কান্নার এই দৃশ্য দেখার পর তারা রাতে ঘুমাতে পারছিল না। ভয়েসটি শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছিল।’

‘কিন্তু একজন নাম ঠিকানাহীন মানুষকে খুঁজে বের করা কি সম্ভব? এই লোক তার গ্রামের বাড়ি বলছে টাঙ্গাইল, থাকেন ফরিদাবাদ। এছাড়া আর কোনো ইনফরমেশন ভিডিওতে নাই। ফরিদাবাদ জায়গাটা কৈ এটাও চিনি না।’

আহসান হাবিব বলেন, ‘এরপর ড্রাইভারকে নিয়ে গুগল করে দেখলাম ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। বুড়িগঙ্গা থেকেও প্রায় ১৫ কিলোমিটার কেরানীগঞ্জের ভিতরের ফরিদাবাদ। ওই এলাকায় গিয়ে দুটি পান দোকানদারকে ছবি ও ভিডিও দেখানোর পর তারা বলে রফিককে চিনে না। এরপর দুটি রিকশার গ্যারেজ মালিককে দেখানো হয়, তারাও বলতে পারে না।’

এরপর আরেকজন পান দোকানদারকে ভিডিওটি দেখান আহসান হাবিব। সেখানে থাকা অপর এক রিকশাচালক বললেন তিনি রফিককে চিনেন। এভাবেই শেষ পর্যন্ত রফিককে খুঁজে পাওয়া যায়।

ব্যারিস্টার আহসান  বলেন, ‘ওই রিকশাচালকের বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি রিকশা চালাতে পারবেন না। তাই তাকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের গড়া একটি সংগঠন পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। নগদ ৫০ হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গেই তার হাতে তুলে দিয়েছি। ওই সময় আরও ১০ হাজার টাকা এক বন্ধু বিকাশ করে রিকশাচালককে দেন। মোট ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়। আর বাকি ৪০ হাজার টাকা তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। যাতে তিনি গ্রামে গিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা বা পান দোকান করে সংসার চালাতে পারেন।’

এদিকে টাকা পেয়ে রিকশাচালক রফিক খুবই খুশি হন। তিনি জানান, গ্রামে গিয়ে ব্যবসা করার চিন্তা করবেন।

ব্যারিস্টার আহসান বলেন, ‘এটা শুধু সহযোগিতা নয়, আমার ইচ্ছে হলো একজন অসহায় মানুষের যেন চলার একটা ব্যবস্থা হয়। আমরা যদি জাকাতে শাড়ি লুঙ্গি না দিয়ে কিছু টাকা দিয়ে এমন দরিদ্র লোককে একটা ছোট ব্যবসা ধরিয়ে দিতে পারি তাহলে তার উপকার বেশি হবে।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে রিকশাচালক রফিককে কান্নারত অবস্থায় বলতে শোনা যায়, ‘আমরা প্রতিবন্ধী কাজ করে খেতে চাই। সেটাও করতে পারি না। ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাত্রী নিয়ে কাকরাইল যাচ্ছিলাম। পথে ট্রাফিক পুলিশ রিকশা আটকে দেয়। আমাকে ১২শ’ টাকা দিতে বলে। নইলে রিকশা ডাম্পিংয়ে দেয়া হবে।’

তিনি কান্নারত অবস্থায় আর বলেন, ‘আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর অনুমতি আছে। অথচ আমার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমি চারদিন ধরে কাজে বের হতে পারি না। আমার কাছে ১৫০ টাকা আছে। ১২০০ টাকা দিয়ে আমি কীভাবে রিকশা ছাড়িয়ে আনব।’

ট্যাগস :

ব্যবসা করতে রিকশাচালককে লাখ টাকা দিলেন ব্যারিস্টার

আপডেট সময় : ১১:০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১

অনলাইন ডেস্কঃ

লকডাউনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রফিক। কিন্তু তার রিকশাটি আটকে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। সে সময় রফিকের কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ঘটনাটি জানতে পেরে ওই রিকশাচালককে ব্যবসা করার জন্য এক লাখ টাকা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভুঁইয়া।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) আহসান হাবিব ভুঁইয়া বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই আমাকে রিকোয়েস্ট করল বিষয়টি দেখার জন্য। এছাড়াও আমার এক বন্ধু রফিকের কান্নার ভিডিও‍র লিংক আমাকে ইনবক্স করে বলল এটা দেখে তার নাকি খারাপ লাগছে। আমিও বললাম আমারও খারাপ লাগছে কি করার। এর পরের দিন বিকেলে আরও এক বন্ধু লিংক পাঠালো। রফিকের কান্নার এই দৃশ্য দেখার পর তারা রাতে ঘুমাতে পারছিল না। ভয়েসটি শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছিল।’

‘কিন্তু একজন নাম ঠিকানাহীন মানুষকে খুঁজে বের করা কি সম্ভব? এই লোক তার গ্রামের বাড়ি বলছে টাঙ্গাইল, থাকেন ফরিদাবাদ। এছাড়া আর কোনো ইনফরমেশন ভিডিওতে নাই। ফরিদাবাদ জায়গাটা কৈ এটাও চিনি না।’

আহসান হাবিব বলেন, ‘এরপর ড্রাইভারকে নিয়ে গুগল করে দেখলাম ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। বুড়িগঙ্গা থেকেও প্রায় ১৫ কিলোমিটার কেরানীগঞ্জের ভিতরের ফরিদাবাদ। ওই এলাকায় গিয়ে দুটি পান দোকানদারকে ছবি ও ভিডিও দেখানোর পর তারা বলে রফিককে চিনে না। এরপর দুটি রিকশার গ্যারেজ মালিককে দেখানো হয়, তারাও বলতে পারে না।’

এরপর আরেকজন পান দোকানদারকে ভিডিওটি দেখান আহসান হাবিব। সেখানে থাকা অপর এক রিকশাচালক বললেন তিনি রফিককে চিনেন। এভাবেই শেষ পর্যন্ত রফিককে খুঁজে পাওয়া যায়।

ব্যারিস্টার আহসান  বলেন, ‘ওই রিকশাচালকের বাড়িতে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি রিকশা চালাতে পারবেন না। তাই তাকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের গড়া একটি সংগঠন পরিবর্তন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। নগদ ৫০ হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গেই তার হাতে তুলে দিয়েছি। ওই সময় আরও ১০ হাজার টাকা এক বন্ধু বিকাশ করে রিকশাচালককে দেন। মোট ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়। আর বাকি ৪০ হাজার টাকা তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। যাতে তিনি গ্রামে গিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা বা পান দোকান করে সংসার চালাতে পারেন।’

এদিকে টাকা পেয়ে রিকশাচালক রফিক খুবই খুশি হন। তিনি জানান, গ্রামে গিয়ে ব্যবসা করার চিন্তা করবেন।

ব্যারিস্টার আহসান বলেন, ‘এটা শুধু সহযোগিতা নয়, আমার ইচ্ছে হলো একজন অসহায় মানুষের যেন চলার একটা ব্যবস্থা হয়। আমরা যদি জাকাতে শাড়ি লুঙ্গি না দিয়ে কিছু টাকা দিয়ে এমন দরিদ্র লোককে একটা ছোট ব্যবসা ধরিয়ে দিতে পারি তাহলে তার উপকার বেশি হবে।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে রিকশাচালক রফিককে কান্নারত অবস্থায় বলতে শোনা যায়, ‘আমরা প্রতিবন্ধী কাজ করে খেতে চাই। সেটাও করতে পারি না। ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাত্রী নিয়ে কাকরাইল যাচ্ছিলাম। পথে ট্রাফিক পুলিশ রিকশা আটকে দেয়। আমাকে ১২শ’ টাকা দিতে বলে। নইলে রিকশা ডাম্পিংয়ে দেয়া হবে।’

তিনি কান্নারত অবস্থায় আর বলেন, ‘আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর অনুমতি আছে। অথচ আমার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমি চারদিন ধরে কাজে বের হতে পারি না। আমার কাছে ১৫০ টাকা আছে। ১২০০ টাকা দিয়ে আমি কীভাবে রিকশা ছাড়িয়ে আনব।’