ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

যে প্রকৃয়ায় কার্যকর হলো ড. মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০২৩
  • / ১০৭৩ বার পড়া হয়েছে

যে প্রকৃয়ায় কার্যকর হলো ড. মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার দুই আসামি ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড আজ রাতে কার্যকর করা হয়েছে। এ জন্য রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রস্তুত করা হয়েছিলো ফাঁসির মঞ্চ। ফাঁসি কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিলো ৮ জন জল্লাদকে।

কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানায়নি। তারা বলছে জেল কোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে কোন তথ্য জানানোর নিয়ম নেই।

কারাগারের একটি সূত্রমতে, কারা কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর এক সপ্তাহ আগে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করে। কারাগারের পূর্ব দিকের দেওয়ালের পাশে এ মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও যে দঁড়িতে ঝুলানো হবে তাতে আসামীদের তিনগুন ওজনের বস্তু বেঁধে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ফাঁসির দঁড়িটিও প্রস্তুত করা হয়েছে।

সূত্রমতে, ফাঁসি কার্যকর করতে আটজন জল্লাদের টিম গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। এর পর তাদের প্রশিক্ষণ ও ফাঁসি কার্যকরের একাধিক মহড়া দেওয়ানো হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আটজনের মধ্যে টিম প্রধান হেন্ডেল টেনে ফাঁসি কার্যকর করেন। এ সময় তার সঙ্গে একজন সহযোগি থাকেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজন দুই আসামীকে ধরে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যান। আর দুইজন তাদের কালো কাপড়ের জম টুপি ও গলায় দঁড়ি পরিয়ে দেন।

সূত্রমতে, এক মঞ্চে এক সঙ্গে একই সময় দুই আসামীর ফাঁসি কার্যকর হয়। মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বাম পাশে থাকবে জাহাঙ্গীর আলম। রাঁত ১০টা ১ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট তাদের দঁড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। জাহাঙ্গীরের মরদেহ পাঠানো হবে নগরীর মতিহার থানার খোঁজাপুরে। আর মহিউদ্দিনের মরদেহ পাঠানো হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়।

 

কারাগার সূত্রমতে, রাত ৯টার দিকে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি দুই আসামীকে জানানো হয়। এর পর তাদের গোসল করিয়ে খাবারের বিষয়ে শেষ ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। পরে কারা মসজিদের ইমাম তাদের তৌওবা পড়ান। এরপর রাঁত ১০টার আগেই তাদের ফাঁসির মঞ্চের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফাঁসি কার্যকরের সময় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন, সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার ছাড়াও জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। কারাগারে প্রস্তুত রাখা হয় লাশ বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ। একদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক এস তাহের আহমেদের গলিত মরদেহ। ওইদিন রাতে তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অধ্যাপক তাহেরের সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালাম। তবে বিচারে খালাস পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও জাহাঙ্গীরের বাবা আজিমুদ্দিন মুন্সি।

পরবর্তীতে সাজাপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিল বিভাগ মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের রায় বহাল রাখলেও নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালামের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন।

সর্বশেষ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন তারা। সে আবেদনও নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি। গত ৫ জুলাই সেই চিঠি রাজশাহী কারাগারে পৌঁছায়। এর পর থেকে তাদের ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়।

ট্যাগস :

যে প্রকৃয়ায় কার্যকর হলো ড. মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসি

আপডেট সময় : ১১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০২৩

যে প্রকৃয়ায় কার্যকর হলো ড. মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার দুই আসামি ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড আজ রাতে কার্যকর করা হয়েছে। এ জন্য রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রস্তুত করা হয়েছিলো ফাঁসির মঞ্চ। ফাঁসি কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিলো ৮ জন জল্লাদকে।

কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানায়নি। তারা বলছে জেল কোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে কোন তথ্য জানানোর নিয়ম নেই।

কারাগারের একটি সূত্রমতে, কারা কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর এক সপ্তাহ আগে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করে। কারাগারের পূর্ব দিকের দেওয়ালের পাশে এ মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও যে দঁড়িতে ঝুলানো হবে তাতে আসামীদের তিনগুন ওজনের বস্তু বেঁধে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ফাঁসির দঁড়িটিও প্রস্তুত করা হয়েছে।

সূত্রমতে, ফাঁসি কার্যকর করতে আটজন জল্লাদের টিম গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। এর পর তাদের প্রশিক্ষণ ও ফাঁসি কার্যকরের একাধিক মহড়া দেওয়ানো হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আটজনের মধ্যে টিম প্রধান হেন্ডেল টেনে ফাঁসি কার্যকর করেন। এ সময় তার সঙ্গে একজন সহযোগি থাকেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজন দুই আসামীকে ধরে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যান। আর দুইজন তাদের কালো কাপড়ের জম টুপি ও গলায় দঁড়ি পরিয়ে দেন।

সূত্রমতে, এক মঞ্চে এক সঙ্গে একই সময় দুই আসামীর ফাঁসি কার্যকর হয়। মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বাম পাশে থাকবে জাহাঙ্গীর আলম। রাঁত ১০টা ১ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট তাদের দঁড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। জাহাঙ্গীরের মরদেহ পাঠানো হবে নগরীর মতিহার থানার খোঁজাপুরে। আর মহিউদ্দিনের মরদেহ পাঠানো হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়।

 

কারাগার সূত্রমতে, রাত ৯টার দিকে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি দুই আসামীকে জানানো হয়। এর পর তাদের গোসল করিয়ে খাবারের বিষয়ে শেষ ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। পরে কারা মসজিদের ইমাম তাদের তৌওবা পড়ান। এরপর রাঁত ১০টার আগেই তাদের ফাঁসির মঞ্চের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফাঁসি কার্যকরের সময় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন, সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার ছাড়াও জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। কারাগারে প্রস্তুত রাখা হয় লাশ বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ। একদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক এস তাহের আহমেদের গলিত মরদেহ। ওইদিন রাতে তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অধ্যাপক তাহেরের সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালাম। তবে বিচারে খালাস পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও জাহাঙ্গীরের বাবা আজিমুদ্দিন মুন্সি।

পরবর্তীতে সাজাপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিল বিভাগ মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের রায় বহাল রাখলেও নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালামের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন।

সর্বশেষ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন তারা। সে আবেদনও নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি। গত ৫ জুলাই সেই চিঠি রাজশাহী কারাগারে পৌঁছায়। এর পর থেকে তাদের ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়।