ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সম্মেলন ঘিরে উচ্ছ্বাস ও বিভক্তির আশঙ্কা

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১২৩৫ বার পড়া হয়েছে

২০ সেপ্টেম্বর বিএনপির ত্রি-বর্ষিক কাউন্সিল। ছবি: আস্থা

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘ নয় বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে স্থানীয় নেতারা দলকে ঐক্যবদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে সভাপতি পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে ভিন্ন স্রোত, যা ভবিষ্যতে বিভক্তির আশঙ্কা তৈরি করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের সমবায় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রুহুল হোসাইন লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সভাপতির যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা থাকলেও অতিরিক্ত বলয়, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং এক নেতা বহু পদে থাকার কারণে দলে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, সদর উপজেলা থেকে সভাপতি নির্বাচিত হলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে, অনিয়ম কমবে এবং দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। একইসঙ্গে তিনি ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের পদত্যাগকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

সভাপ্রার্থী হিসেবে রুহুল হোসাইন প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে তৃণমূলের যোগ্য নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।

এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি দলীয় গণতন্ত্রের ১৫ ধারার ‘ক’ ও ‘খ’ উপধারার বিধান অনুসরণ করে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পদ ছাড়েন। তবে তিনি আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ২০ সেপ্টেম্বরের কাউন্সিল বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেও ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়নি। তার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্যও জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, জেলা বিএনপির আসন্ন সম্মেলন ঘিরে যেমন উচ্ছ্বাস বাড়ছে, তেমনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে দ্বিধা-দ্বন্দ্বও তীব্র হচ্ছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ভেদাভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তুলেই বিএনপি সামনে এগিয়ে যাবে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সম্মেলন ঘিরে উচ্ছ্বাস ও বিভক্তির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘ নয় বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে স্থানীয় নেতারা দলকে ঐক্যবদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে সভাপতি পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে ভিন্ন স্রোত, যা ভবিষ্যতে বিভক্তির আশঙ্কা তৈরি করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শহরের সমবায় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রুহুল হোসাইন লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সভাপতির যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা থাকলেও অতিরিক্ত বলয়, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং এক নেতা বহু পদে থাকার কারণে দলে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি মনে করেন, সদর উপজেলা থেকে সভাপতি নির্বাচিত হলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে, অনিয়ম কমবে এবং দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। একইসঙ্গে তিনি ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের পদত্যাগকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

সভাপ্রার্থী হিসেবে রুহুল হোসাইন প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে তৃণমূলের যোগ্য নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে সততা, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।

এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি দলীয় গণতন্ত্রের ১৫ ধারার ‘ক’ ও ‘খ’ উপধারার বিধান অনুসরণ করে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পদ ছাড়েন। তবে তিনি আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ২০ সেপ্টেম্বরের কাউন্সিল বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেও ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়নি। তার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্যও জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, জেলা বিএনপির আসন্ন সম্মেলন ঘিরে যেমন উচ্ছ্বাস বাড়ছে, তেমনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে দ্বিধা-দ্বন্দ্বও তীব্র হচ্ছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ভেদাভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তুলেই বিএনপি সামনে এগিয়ে যাবে।