ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন যুবদল নেতা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / ১০৩৪ বার পড়া হয়েছে

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন যুবদল নেতা

আস্থা ডেস্কঃ

বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলাল শেখকে অপহরন করে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে। আলাল শেখ (৪৬) শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মেরু শেখের ছেলে

শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ফতেহ আলী বাজারে ভোটগ্রহণ চলাকালে আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শনিবার বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন চলছিল। নির্বাচন চলাকালে বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক-সম্পাদক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলাল শেখকে ফতেহ আলী বাজার থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মালগ্রাম ডাব তলা এলাকার একটি বাগানের মধ্যে বেঁধে রেখে পিটিয়ে দুই পা ও একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

দুপুর দেড়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশের কাছে খবর আসে শহরের ফতেহ আলী বাজার থেকে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল খুঁজতে থাকে। পরে ডিবি পুলিশ মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি বাগানের মধ্য থেকে আলাল শেখকে উদ্ধার করে। সেখানে তাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এঘটনার সাথে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন জড়িত বলে জানা গেছে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ ৪ জনকে আটক করে।

তিনি আরও জানান, শফিকুল ইসলামের বাড়ি চকসুত্রাপুরে হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মালগ্রাম বসবাস করে। শফিকুলের সঙ্গে আলাল শেখ ও তার ভগ্নিপতি মতিন শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে । এই বিরোধের জের ধরে আলাল শেখকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলাল শেখ শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদক কারবারি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের অত্যাচারে অসংখ্য মানুষ বাড়িঘর ছাড়া হয়েছিল। তার সঙ্গে অনেকের শত্রুতা রয়েছে। শত্রুতার জের ধরেই কে বা কারা আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যেতে পারে।

বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে ১ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন যুবদল নেতা

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন যুবদল নেতা

আস্থা ডেস্কঃ

বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলাল শেখকে অপহরন করে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে। আলাল শেখ (৪৬) শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মেরু শেখের ছেলে

শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ফতেহ আলী বাজারে ভোটগ্রহণ চলাকালে আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শনিবার বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন চলছিল। নির্বাচন চলাকালে বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক-সম্পাদক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলাল শেখকে ফতেহ আলী বাজার থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মালগ্রাম ডাব তলা এলাকার একটি বাগানের মধ্যে বেঁধে রেখে পিটিয়ে দুই পা ও একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

দুপুর দেড়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশের কাছে খবর আসে শহরের ফতেহ আলী বাজার থেকে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল খুঁজতে থাকে। পরে ডিবি পুলিশ মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি বাগানের মধ্য থেকে আলাল শেখকে উদ্ধার করে। সেখানে তাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এঘটনার সাথে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন জড়িত বলে জানা গেছে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ ৪ জনকে আটক করে।

তিনি আরও জানান, শফিকুল ইসলামের বাড়ি চকসুত্রাপুরে হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মালগ্রাম বসবাস করে। শফিকুলের সঙ্গে আলাল শেখ ও তার ভগ্নিপতি মতিন শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে । এই বিরোধের জের ধরে আলাল শেখকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলাল শেখ শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদক কারবারি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের অত্যাচারে অসংখ্য মানুষ বাড়িঘর ছাড়া হয়েছিল। তার সঙ্গে অনেকের শত্রুতা রয়েছে। শত্রুতার জের ধরেই কে বা কারা আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যেতে পারে।

বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে ১ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ