এক সপ্তাহে ৮০১০ ইউক্রেনীয় সেনা “নিষ্ক্রিয়”
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / ১০২২ বার পড়া হয়েছে
এক সপ্তাহে ৮০১০ ইউক্রেনীয় সেনা “নিষ্ক্রিয়”
আস্তের্জাতিক ডেস্কঃ
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত এক সপ্তাহে ৮ হাজার ১০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে “নিষ্ক্রিয়” এবং খারকিভ-দোনেৎস্কের ৬ টি জনবসতি দখল করেছে দাবী করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সূত্র-তাস।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়তো এখন ইউক্রেনের মাটিতেই চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানবসভ্যতা এত বড় আকারের, এত প্রযুক্তিনির্ভর ও নৃশংস যুদ্ধ দেখেনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ছিল পারমাণবিক বোমা। কিন্তু আজ রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে শুধু মাত্র পারমাণবিক বোমা ছাড়া, বিশ্বের সব অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র, মৃত্যুফাঁদ হয়ে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে—FPV ড্রোন, ল্যানসেট, ইরানের শাহেদ ১শ ৩৬ ও তার রুশ কপি গেরান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ছিল না AI চালিত রোবোটিক সৈন্য, শব্দের চেয়ে দশগুণ গতির ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন-কিনঝাল হাইপারসনিক অস্ত্র। তখন ২০ হাজার ডলারের FPV ড্রোন দিয়ে ৩০ লাখ ডলারের ট্যাংক ধ্বংসের মতো প্রযুক্তিও ছিল না।
এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোন, মনুষ্যবিহীন রোবটিক যান, থার্মোবারিক অস্ত্রে সজ্জিত TOS-1A “ডেথ মেশিন” আর নির্ভুল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মিলে তৈরি করেছে বিভীষিকাময় মারণযজ্ঞ। প্রতি ঘণ্টায় প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত প্রশিক্ষিত সেনা, প্রতি মিশনে নামছে হাজারো স্মার্ট মেশিন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, গত তিন মাসেই ইউক্রেনে স্থল রোবোটিক সিস্টেম ২২ হাজার-এর বেশি মিশন পরিচালনা করেছে—যাকে “যুদ্ধের তৃতীয় বিপ্লব” বলা হচ্ছে।
ইউক্রেনের ৯০% রুশ হতাহত এখন FPV ড্রোনের মাধ্যমে ঘটছে, আর এই ড্রোন ১০০-১৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও নিখুঁত আঘাত হানছে।
বিপরীতে রাশিয়া ১ লাখ ২০ হাজার ৫শ-এর বেশি গাইডেড বোমা ও প্রায় ২ হাজার ৫শ টি কেএইচ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
গাজা-লেবাননের সাথে ইসরায়েলের লড়াই যেখানে একপাক্ষিক। একপক্ষের কাছে অত্যাধুনিক এয়ারডিফেন্স, আকাশে আধিপত্য, স্টেলথ ফাইটার জেট ও ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও, অন্যপক্ষের কার্যত কিছুই নেই—লেবাননে হিজবুল্লাহ যৎসামান্য সম্বল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ইরানে সরাসরি সেনা নামানোর ও সাহস করেনি আমেরিকা ইসরায়েল। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধে দুই পরাশক্তি প্রায় সমানে-সমানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। “রাশিয়া-ন্যাটো।”
সম্প্রতি গোটা বিশ্বের মেরুদণ্ড শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে: ইউক্রেন কয়েকডজন ড্রোন দিয়ে পুতিনের নভগোরোদ অঞ্চলের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ৯১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে (তাস/ডিসেম্বর/২০২৫)।
যদিও সিআইএ ও ট্রাম্প প্রশাসন দাবিটি বিশ্বাস করেনি, জেলেনস্কিও “রুশ ফেইক” বলেছে। তবুও এধরনের অভিযোগ অবিশ্বাস্য—এটা প্রমাণ করে, ইউক্রেন চাইলে রাশিয়ার সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া প্রথমবার ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনে।
পাশাপাশি ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ক্রমাগত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ড্রুজবা তেল পাইপলাইন ও তুয়াপসে শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, ফলে রুশ তেল পরিশোধন ১৭ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে (ব্লুমবার্গ, মে ২০২৬)।
এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ন্যাটোর পূর্ণ সমর্থনে ইউক্রেন এখন সরাসরি রুশ ভূখণ্ডে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে, যা যুদ্ধ তীব্রতর করছে প্রতি মুহূর্তে।
এবার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়। CSIS-এর তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দুই পক্ষের সম্মিলিত হতাহত ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রুশ হতাহত ও নিখোঁজ প্রায় ১২ লাখ, নিহত ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি। ইউক্রেনীয় হতাহত ৫-৬ লাখ, নিহত ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যন্ত। প্রকৃত সংখ্যা অনুমান করা কঠিন।
তবে রাশিয়া বহু দেশের ভাড়াটে সেনাও ব্যবহার করছে ফ্রন্ট লাইনে—বাংলাদেশিরাও যুদ্ধে জড়িয়েছে, এখন ফ্রন্ট লাইনে গিয়ে কান্নাকাটি করে ভিডিও প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনে সৈনিক-সংকট এতটাই তীব্র যে জোর করে মানুষ ধরে নেওয়া হচ্ছে, এমনকি গর্ভবতী নারীকেও ফ্রন্ট লাইনে পাঠানোর খবর এসেছে। জেলেনস্কির দাবি মাত্র ৪৬ হাজার ইউক্রেনীয় নিহত, কিন্তু বিশ্লেষকরা একে বাস্তবতার চেয়ে অনেক কম মনে করেন।
ইইউ ইতোমধ্যে ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ অনুমোদন করেছে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ২০২৬ সালে দেবে ৬০ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা। এই টাকার অঙ্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ IMF-এর কাছে ১ বিলিয়ন ডলারের জন্য হাত পাতার বাস্তবতায় কল্পনারও বাইরে।
কিন্তু এত কিছুর পরও রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড (১ লাখ ১৬ হাজার ৭শ ৯৩ বর্গকিলোমিটার) দখল করে রেখেছে। অবশ্য গত তিন মাসে রুশ অগ্রগতির হার অর্ধেকে নেমেছে; মার্চে ইউক্রেন পুনর্দখল করেছে মাত্র ৫০ বর্গকিমি।
এই যুদ্ধ এখন রক্তক্ষয়ী নিধনযজ্ঞ: এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে মাত্র ৪১ বর্গকিমি দখলের জন্য রাশিয়াকে ৭ হাজার ৪শ ৮০ সেনা হারাতে হয়েছে—প্রতি বর্গকিলোমিটারের দাম ১শ ৮২ জন সেনার জীবন (আইএসডব্লিউ, এপ্রিল ২০২৬)।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ













