ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষক ইমাম নয়: আপন বড় ভাই!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ১০২৮ বার পড়া হয়েছে

ধর্ষক ইমাম নয়: আপন বড় ভাই!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়

ফেনীর পরশুরাম উপজেলা এ দায়ের হওয়া আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং ভুক্তভোগী কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে তার বড় ভাই মোরশেদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ থেকে খভিযুক্ত মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। পরে তাকে আটক করা হলে এক মাস দুই দিন কারাগারে থাকতে হয়। এ ঘটনার পর তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব হারানোর পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ–এর চাকরিচ্যুত হন।

তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানান, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা মূল ঘটনা আড়াল করতে মোজাফফর আহমদকে মামলায় জড়ান বলেও তিনি দাবি করেন।

পরে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির সঙ্গে তার ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া যায়। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, “সত্য একদিন প্রকাশ হবেই। মিথ্যা অভিযোগে আমি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি, চাকরি হারিয়েছি এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। মা’ম’লার খরচ চালাতে জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

তার আইনজীবী আবদুল আলীম মাকসুদ বলেন, শুরু থেকেই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্পষ্ট হয় যে, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ধর্ষক ইমাম নয়: আপন বড় ভাই!

আপডেট সময় : ০৭:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ধর্ষক ইমাম নয়: আপন বড় ভাই!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়

ফেনীর পরশুরাম উপজেলা এ দায়ের হওয়া আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং ভুক্তভোগী কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে তার বড় ভাই মোরশেদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ থেকে খভিযুক্ত মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। পরে তাকে আটক করা হলে এক মাস দুই দিন কারাগারে থাকতে হয়। এ ঘটনার পর তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব হারানোর পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ–এর চাকরিচ্যুত হন।

তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানান, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা মূল ঘটনা আড়াল করতে মোজাফফর আহমদকে মামলায় জড়ান বলেও তিনি দাবি করেন।

পরে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির সঙ্গে তার ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া যায়। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, “সত্য একদিন প্রকাশ হবেই। মিথ্যা অভিযোগে আমি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছি, চাকরি হারিয়েছি এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। মা’ম’লার খরচ চালাতে জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

তার আইনজীবী আবদুল আলীম মাকসুদ বলেন, শুরু থেকেই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্পষ্ট হয় যে, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ