ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে আইন পর্যালোচনা করবে সরকার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ১০২২ বার পড়া হয়েছে

সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে আইন পর্যালোচনা করবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে সরকার বিদ্যমান আইন (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট বা পিপিএ) পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় নরসিংদী-২ আসনের (বিএনপি দলীয়) এমপি আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

আশরাফ উদ্দিন তাঁর প্রশ্নে বলেন, ইজিপিতে (অনলাইনে ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ফ্যাসিস্টরা কাজ পেয়ে যাচ্ছে, কারণ ফ্যাসিস্টদের আমলে অনেক কাজ করায় তাঁর প্রোফাইল খুবই শক্ত। কিন্তু অন্যান্য ঠিকাদার—যাঁরা আমাদের দলের বা ফ্যাসিস্টের পরে আমরা যাঁরা এসেছি ও আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রকৌশলী বা কোম্পানিরা তাঁদের সঙ্গে পারে না।

তাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে কাজগুলো পেয়ে যায়। এরপর সেগুলো তিন-চার ধাপে বিক্রি করার পরে স্থানীয় লোকেদের কাছে আসে, কিন্তু সেখানে অযোগ্য লোকদের কাছে যায়। লাভের আশায় তাঁরা নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করে।

ফ্যাসিস্টরা যাতে না এখানে আসতে পারে, সে জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা জানতে চান আশরাফ উদ্দিন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, আমরা সকলেই বিষয়টি নিয়ে ভুগছি।

জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এই বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি এবং আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আইনটা রিভিউ করে সঠিক লোকেরা যেন কাজটা পায়, সেটা আমরা বিবেচনা করব।

এর আগে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন কাজের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের চেয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান আশরাফ উদ্দিন।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্রামীণ সড়ক সেতু কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই টেন্ডার এবং কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সে অনুযায়ী এলজিইডির আওতাধীন জেলা উপজেলা অন্যান্য ক্রয়কারীর কার্যালয় হতে পিপিএ এবং পিপিআর অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুটি পদ্ধতিতে ক্রয়কার্য সম্পাদন করা হয়।

সীমিত দর পদ্ধতিতে শুধুমাত্র জেলার ঠিকাদারেরা অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ঠিকাদারদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাই করে দরপত্রের শর্তানুযায়ী মিল থাকলে জেলা ও জেলার বাইরের যেকোনো ঠিকাদার কাজ পেয়ে থাকেন। তবে সর্বক্ষেত্রে পিপিআরের আইন ও বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে আইন পর্যালোচনা করবে সরকার

আপডেট সময় : ১২:০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে আইন পর্যালোচনা করবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া ঠেকাতে সরকার বিদ্যমান আইন (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট বা পিপিএ) পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় নরসিংদী-২ আসনের (বিএনপি দলীয়) এমপি আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

আশরাফ উদ্দিন তাঁর প্রশ্নে বলেন, ইজিপিতে (অনলাইনে ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ফ্যাসিস্টরা কাজ পেয়ে যাচ্ছে, কারণ ফ্যাসিস্টদের আমলে অনেক কাজ করায় তাঁর প্রোফাইল খুবই শক্ত। কিন্তু অন্যান্য ঠিকাদার—যাঁরা আমাদের দলের বা ফ্যাসিস্টের পরে আমরা যাঁরা এসেছি ও আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রকৌশলী বা কোম্পানিরা তাঁদের সঙ্গে পারে না।

তাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে কাজগুলো পেয়ে যায়। এরপর সেগুলো তিন-চার ধাপে বিক্রি করার পরে স্থানীয় লোকেদের কাছে আসে, কিন্তু সেখানে অযোগ্য লোকদের কাছে যায়। লাভের আশায় তাঁরা নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করে।

ফ্যাসিস্টরা যাতে না এখানে আসতে পারে, সে জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা জানতে চান আশরাফ উদ্দিন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, আমরা সকলেই বিষয়টি নিয়ে ভুগছি।

জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এই বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি এবং আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আইনটা রিভিউ করে সঠিক লোকেরা যেন কাজটা পায়, সেটা আমরা বিবেচনা করব।

এর আগে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন কাজের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের চেয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান আশরাফ উদ্দিন।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্রামীণ সড়ক সেতু কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এলজিইডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই টেন্ডার এবং কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সে অনুযায়ী এলজিইডির আওতাধীন জেলা উপজেলা অন্যান্য ক্রয়কারীর কার্যালয় হতে পিপিএ এবং পিপিআর অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুটি পদ্ধতিতে ক্রয়কার্য সম্পাদন করা হয়।

সীমিত দর পদ্ধতিতে শুধুমাত্র জেলার ঠিকাদারেরা অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ঠিকাদারদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাই করে দরপত্রের শর্তানুযায়ী মিল থাকলে জেলা ও জেলার বাইরের যেকোনো ঠিকাদার কাজ পেয়ে থাকেন। তবে সর্বক্ষেত্রে পিপিআরের আইন ও বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ