লালমনিরহাটে শিশু হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ও প্রশাসনের গাড়ি ভাংচুর, আটক-১, আহত-১০
- আপডেট সময় : ১০:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / ১০০৭ বার পড়া হয়েছে
আস্থা ডেস্কঃ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের পরদিন প্রাথমিক পড়ুয়া নন্দিনী রানী (৭) বছর বয়সী শিশুর মাটি চাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টা খেতের গর্ত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটি কৃষক নলিনী কান্তের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি নন্দিনী রানী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও তার হদিস পাননি। মঙ্গলবার ভোরের দিকে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের কিছু গাছ ভাঙা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর খেতের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সদ্য খোঁড়া গর্তের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটির নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রের (২৩) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে কয়েকটি ঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বহনকারী গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
অপরদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় আগের দিন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আগুনে পোড়া বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা অভিযুক্তের স্বজনদের উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আগুনে পোড়া বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















