আমি চুরি করিনি-১৫ বছরের শিশুর কান্না
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / ১০২৯ বার পড়া হয়েছে
আমি চুরি করিনি-১৫ বছরের শিশুর কান্না
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় মোবাইল চুরির মামলায় ১৫ বছর বয়সি এক শিশুকে আসামি করার ঘটনায় মানবিক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে।
১৫ বছরের শিশুটি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছে, ‘আমি চুরি করিনি’। শিশুটির পরিবার দাবি করেছে, সে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না। বরং প্রকৃত অভিযুক্তের সঙ্গে অজান্তে একটি মোবাইল ফোন বিক্রি করতে যাওয়ায় তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিশুটির মুক্তি দাবি করেছে।
শিশুটির বাবা আবুল কাসেম বলেন, তার ছেলে কখনো মোবাইল চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল না। প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে জানায় যে, মোবাইলটি তার খালার এবং সেটি বিক্রি করতে হবে। সেই বিশ্বাসে শিশুটি তার সঙ্গে দোকানে গেলেও মোবাইলটি চুরি করা ছিল এ তথ্য সে জানত না।
পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনার পর রামগড় থানার ওসি নাজির আলম শিশুটির বক্তব্য গুরুত্ব না দিয়ে তাকে ৩৮০, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামি করেন। জন্মসনদে শিশুটির বয়স ১৫ বছর হলেও ওসি মামলায় ১৬ বছর দেখিয়েছেন।
এছাড়া শিশুটিকে হাতকড়া পরিয়ে খাগড়াছড়ি আদালতে নেওয়া হয় বলেও পরিবারের অভিযোগ। পরে খাগড়াছড়িতে শিশু হাজতের ব্যবস্থা না থাকায় তাকে গাজীপুরের শিশু হাজতখানায় পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা আরও দাবি করেন, আটক অভিযানের সময় স্থানীয় এক সাংবাদিক সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাইলে সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে সাংবাদিক বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করেন।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ নাজির আলম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসাবশত শিশুটিকে মামলায় জড়িয়েছেন।
শিশুকে আটক করতে গেলে সমাজসেবা অফিসারকে জানানোর নিয়ম থাকলেও ওসি অবগত না করে শিশুটিকে আটক করে এবং দীর্ঘদিন যাবত শিশুটিকে থানায় আটকে রাখে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার বলছে, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করে নির্দোষ হলে শিশুটিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি তাদের।
এ বিষয়ে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ নাজির আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইল চুরির কথা শিশুটি স্বীকার করেছে এজন্য তাকেও আসামি করা হয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















