ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার দিল্লি যাবার সিদ্ধান্ত কাদের?

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনার দিল্লি যাবার সিদ্ধান্ত কাদের?

আস্থা ডেস্কঃ

৫ই অগাস্ট হাসিনাকে দিল্লির হাতে কে তুলে দিয়েছিল? শেখ হাসিনা ইস্যু, দিল্লি ও জেনারেল ওয়াকারের উচ্চমার্গীয় ধূর্ততা; ১৬ বছরের শাসন এবং ভারতের কূটনৈতিক অনধিকার প্রবেশ। সেই বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা।

ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ শেখ হাসিনার অবস্থান এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির এক উচ্চমার্গীয় ধূর্ততা ও চাতুর্যের বহিঃপ্রকাশ. অত্যন্ত সুকৌশলে তিনি এড়িয়ে গেছেন মূল সত্যটি।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতের দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি কার ছিল—বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর নাকি ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের?

এই অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্নটি দীনেশ ত্রিবেদী ইচ্ছা করেই অস্পষ্ট রেখে গেছেন. মূলত, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের যৌথ সিদ্ধান্তেই সম্পন্ন হয়েছিল।

কিন্তু ভারত এখন এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন তারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিরুপায় অবস্থায় তাকে আশ্রয় দিয়েছে। আর এদিকে ক্যান্টনমেন্টের তরফ থেকে জেনারেল ওয়াকার এ বিষয়ে একদম নিশ্চুপ, যেন তারা কিছুই জানে না।

তাহলে কি হাসিনাকে জ্বিন পরী এসে নিয়ে গেল? আর দীনেশ ত্রিবেদী কেন আসল সত্যটা না বলে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলছেন। উনার সেই একই আকাশ একই বাতাস কোথায় গেল?

সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে, তিনি ধূর্ততা চাতুরতার সাথে এর দায় এড়িয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলছেন। দেখে মনে হচ্ছে তিনি দায়টা অনেকটা বাংলাদেশের ওপরে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন । যদিও তিনি একজন কূটনীতিবিদ।

কিন্তু বাংলাদেশের মিডিয়া জোরালোভাবে প্রশ্ন করার সক্ষমতা রাখছে না। হাসিনা কিভাবে ভারত গেছে তার সদুত্তর আদায় করে নেয়ার কোন কৌশল বুদ্ধিমত্তা যোগ্যতা মিডিয়ার মাঝে দেখা যাচ্ছে না । দীনেশ ত্রিবেদী ও মিডিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ধ্রুমজাল কেবল কোনো তাৎক্ষণিক আইনি বা মানবিক আশ্রয়ের বিষয় নয়। বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন, তার পেছনে ভারতের একচেটিয়া স্বার্থ জড়িত ছিল,এবং সেনাবাহিনী।

ভারত নিজের আধিপত্য বিস্তার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে শেখ হাসিনাকে নিঃস্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এই দীর্ঘ শাসনকালে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা যেভাবে দিল্লির ইশারায় পরিচালিত হয়েছে, তা দেশের সার্বভৌমত্বকে লুণ্ঠিত করে এক প্রকার ভারতের “ভাইসরয়” বা প্রাদেশিক গভর্নরের শাসনের রূপ নিয়েছিল।

হাসিনার এই একনায়কতান্ত্রিক ও দুঃশাসনের জন্য তার দল যেমন দায়ী, ঠিক তেমনি তৎকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অংশের ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী যেভাবে তৎকালীন সরকারকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছিল, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

দিল্লির এই বিশাল ভূ-রাজনৈতিক মিশন বাস্তবায়নে অতীতের যেকোনো পেশাদার কূটনীতিকের চেয়ে ভিন্ন রূপ নিয়ে এসেছেন বর্তমান হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি মূলত একজন পুরোদস্তুর পলিটিশিয়ান এবং অলিখিতভাবে মন্ত্রীর পদমর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।

দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিল সমস্যাগুলি তড়িঘড়ি মেরামত (Repair) করার নামে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে দৃশ্যমান অনধিকার প্রবেশ করছেন। ভারতের এই প্রশ্নবিদ্ধ আশ্রয়ের রাজনীতি এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সংকট কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে হলে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা এবং দিল্লির এই উচ্চমার্গীয় চাতুর্য রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আস্থা/হারুনুর রশিদ

ট্যাগস :

শেখ হাসিনার দিল্লি যাবার সিদ্ধান্ত কাদের?

আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনার দিল্লি যাবার সিদ্ধান্ত কাদের?

আস্থা ডেস্কঃ

৫ই অগাস্ট হাসিনাকে দিল্লির হাতে কে তুলে দিয়েছিল? শেখ হাসিনা ইস্যু, দিল্লি ও জেনারেল ওয়াকারের উচ্চমার্গীয় ধূর্ততা; ১৬ বছরের শাসন এবং ভারতের কূটনৈতিক অনধিকার প্রবেশ। সেই বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা।

ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ শেখ হাসিনার অবস্থান এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির এক উচ্চমার্গীয় ধূর্ততা ও চাতুর্যের বহিঃপ্রকাশ. অত্যন্ত সুকৌশলে তিনি এড়িয়ে গেছেন মূল সত্যটি।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতের দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি কার ছিল—বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর নাকি ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের?

এই অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্নটি দীনেশ ত্রিবেদী ইচ্ছা করেই অস্পষ্ট রেখে গেছেন. মূলত, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের যৌথ সিদ্ধান্তেই সম্পন্ন হয়েছিল।

কিন্তু ভারত এখন এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন তারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিরুপায় অবস্থায় তাকে আশ্রয় দিয়েছে। আর এদিকে ক্যান্টনমেন্টের তরফ থেকে জেনারেল ওয়াকার এ বিষয়ে একদম নিশ্চুপ, যেন তারা কিছুই জানে না।

তাহলে কি হাসিনাকে জ্বিন পরী এসে নিয়ে গেল? আর দীনেশ ত্রিবেদী কেন আসল সত্যটা না বলে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলছেন। উনার সেই একই আকাশ একই বাতাস কোথায় গেল?

সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে, তিনি ধূর্ততা চাতুরতার সাথে এর দায় এড়িয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলছেন। দেখে মনে হচ্ছে তিনি দায়টা অনেকটা বাংলাদেশের ওপরে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন । যদিও তিনি একজন কূটনীতিবিদ।

কিন্তু বাংলাদেশের মিডিয়া জোরালোভাবে প্রশ্ন করার সক্ষমতা রাখছে না। হাসিনা কিভাবে ভারত গেছে তার সদুত্তর আদায় করে নেয়ার কোন কৌশল বুদ্ধিমত্তা যোগ্যতা মিডিয়ার মাঝে দেখা যাচ্ছে না । দীনেশ ত্রিবেদী ও মিডিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ধ্রুমজাল কেবল কোনো তাৎক্ষণিক আইনি বা মানবিক আশ্রয়ের বিষয় নয়। বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন, তার পেছনে ভারতের একচেটিয়া স্বার্থ জড়িত ছিল,এবং সেনাবাহিনী।

ভারত নিজের আধিপত্য বিস্তার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে শেখ হাসিনাকে নিঃস্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এই দীর্ঘ শাসনকালে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা যেভাবে দিল্লির ইশারায় পরিচালিত হয়েছে, তা দেশের সার্বভৌমত্বকে লুণ্ঠিত করে এক প্রকার ভারতের “ভাইসরয়” বা প্রাদেশিক গভর্নরের শাসনের রূপ নিয়েছিল।

হাসিনার এই একনায়কতান্ত্রিক ও দুঃশাসনের জন্য তার দল যেমন দায়ী, ঠিক তেমনি তৎকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অংশের ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী যেভাবে তৎকালীন সরকারকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছিল, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

দিল্লির এই বিশাল ভূ-রাজনৈতিক মিশন বাস্তবায়নে অতীতের যেকোনো পেশাদার কূটনীতিকের চেয়ে ভিন্ন রূপ নিয়ে এসেছেন বর্তমান হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি মূলত একজন পুরোদস্তুর পলিটিশিয়ান এবং অলিখিতভাবে মন্ত্রীর পদমর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।

দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া জটিল সমস্যাগুলি তড়িঘড়ি মেরামত (Repair) করার নামে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে দৃশ্যমান অনধিকার প্রবেশ করছেন। ভারতের এই প্রশ্নবিদ্ধ আশ্রয়ের রাজনীতি এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সংকট কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে হলে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা এবং দিল্লির এই উচ্চমার্গীয় চাতুর্য রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আস্থা/হারুনুর রশিদ