ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় ১২ দিনে ৭ হত্যাকান্ড!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১০২৮ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় ১২ দিনে ৭ হত্যাকান্ড!

আস্থা ডেস্কঃ

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এবার রূপসা উপজেলার নদীর চরে পাওয়া গেছে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ নিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছে।

চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৫ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর চরে সোমবার দুপুরে প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহত দুজন হলেন- মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০)। মেহেদী রূপসার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। একসময় তিনি জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খুলনার অপরাধজগতে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেহেদী ও রেজাউল। তাদের দুজনের শরীরেই গুলির চিহ্ন রয়েছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, মেহেদী ও রেজাউলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তাদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আর রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন তার বাবা আব্দুল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেহেদী আলাদা থাকতেন। ছেলের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুন হন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

শনিবার দিবাগত রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়ক থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে মরদেহ ফেলে যায়।

২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত খুলনায় গুলির তিনটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। আর খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু নামের এক কলেজশিক্ষককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে আহত হন রামিম বিশ্বাস নামের যুবদলের এক নেতা।

এ ছাড়া ২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় এক গৃহবধূকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে।

খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে এবং অপরাধীদের আপক করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধীদের রুখতে পুলিশসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সজাগ থাকার এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

খুলনায় ১২ দিনে ৭ হত্যাকান্ড!

আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

খুলনায় ১২ দিনে ৭ হত্যাকান্ড!

আস্থা ডেস্কঃ

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এবার রূপসা উপজেলার নদীর চরে পাওয়া গেছে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ নিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছে।

চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৫ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর চরে সোমবার দুপুরে প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহত দুজন হলেন- মেহেদী হাসান (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০)। মেহেদী রূপসার রাজাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। একসময় তিনি জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খুলনার অপরাধজগতে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি-কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেহেদী ও রেজাউল। তাদের দুজনের শরীরেই গুলির চিহ্ন রয়েছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, মেহেদী ও রেজাউলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তাদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আর রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন তার বাবা আব্দুল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেহেদী আলাদা থাকতেন। ছেলের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুন হন খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

শনিবার দিবাগত রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়ক থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে মরদেহ ফেলে যায়।

২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত খুলনায় গুলির তিনটি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে আহত হন যুবদলের সাবেক দুই নেতা। আর খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

২৫ অক্টোবর নগরের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর নগরের দক্ষিণ টুটপাড়া গাছতলা এলাকায় ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু নামের এক কলেজশিক্ষককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন সকালে তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে আহত হন রামিম বিশ্বাস নামের যুবদলের এক নেতা।

এ ছাড়া ২২ অক্টোবর সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় এক গৃহবধূকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে।

খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে এবং অপরাধীদের আপক করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধীদের রুখতে পুলিশসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সজাগ থাকার এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আস্থা/এমএইচ