Home আইন-আদালত এএসপি শিপন হত্যা : আরও দুইজনের দায় স্বীকার

এএসপি শিপন হত্যা : আরও দুইজনের দায় স্বীকার

এএসপি শিপন হত্যা : আরও দুইজনের দায় স্বীকার

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় গ্রেফতার মাইন্ড এইড হাসপাতালের আরও দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় ও সজীব চৌধুরী।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) রিমান্ড চলাকালে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ফারুক মোল্লা।

এরপর তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদ-উর-রহমান জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে রোববার (১৫ নভেম্বর) হাসপাতালের কিচেন শেফ মাসুদ খান ও ওয়ার্ডবয় অসীম চন্দ্র পাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিন প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজারসহ ১০ জনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তারা হলেন- হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, কিচেন শেফ মো. মাসুদ, ওয়ার্ডবয় জোবায়ের হোসেন, ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান, ওয়ার্ডবয় মো. তানিম মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, মো. লিটন আহাম্মদ ও মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ।

গত সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় মানসিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে আসেন এএসপি আনিসুল করিম। অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই মারা যান তিনি। হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে তাকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে।

দীর্ঘক্ষণ অচেতন থাকা অবস্থায়ও তাকে ভর্তি কার্যক্রম করা হয়নি। কিছুক্ষণ পর ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালের লোকজন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু (ব্রট ডেথ) হয় শিপনের।

এ ঘটনায় আনিসুল করিম শিপনের বাবা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে রাজধানীর আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এএসপি শিপনকে মারধরের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

হাসপাতালটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে আনিসুল করিম শিপন হাসপাতালে ঢোকার পরই ছয়-সাতজন তাকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। মাথার দিকে থাকা দুজন হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে শিপনের হাত পেছনে বাঁধা হয়। চার মিনিট পর তাকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন শিপন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

আনিসুল করিম শিপন ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন

রাজধানীতে বাস পোড়ানো মামলায় ২৮ আসামি রিমান্ডে

নবীগঞ্জে সেজু হত্যার রহস্য উদঘাটন

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

শিপনের পরিবারকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে চান জাবির আইনজীবীরা

আজ প্রথম আলো সম্পাদকসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ

হাজী সেলিমের দুর্নীতি মামলার নথি তলব হাইকোর্টের

এএসপি আনিসুল হত্যা : মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক গ্রেপ্তার