ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও হতে পারে জ্বালানি সংকট

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ১০০২ বার পড়া হয়েছে

আবারও হতে পারে জ্বালানি সংকট

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জ্বালানি সংকট স্বল্পকালীন সংকট নয়, এটা মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পারলে আবার এই সংকট দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এই সংকটের সূত্র ধরেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ নিতে এ সংকট সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

সেই সঙ্গে সংকটের সময় অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

গতকাল শনিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘জ্বালানির ফাঁদে বন্দি অর্থনীতি’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা করেন জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা তেলের মজুত বৃদ্ধিতে জোর দেন। সে জন্য পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)র নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমানে জ্বালানির সংকট চলছে, যা আমরা মোকাবিলা করছি। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া, আমদানি ব্যবস্থাপনা ও মধ্যমেয়াদি কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে এ সংকট আরও গভীরভাবে থেকে যাবে, এমনকি বারবার ফিরে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো একমাত্রিকভাবে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। নীতিগত সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। আমলাতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এবার মানুষ ভীতি বা আতঙ্ক থেকে তেল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে মজুত প্রবণতার কারণেও সংকট তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, একই লোক প্রতিদিন তেল নিয়েছে, এমন নজিরও দেখা গেছে। আবার সরবরাহ কমিয়ে দিলে লম্বা লাইন পড়ে যায়। এখন সরবরাহ ও দাম উভয়ই বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে।

সাবেক জ্বালানি সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খান সংকটের মূল কারণ তুলে ধরে বলেন, আমাদের মজুত ক্ষমতা কী পরিমাণ আছে, কত দিনের জন্য আমরা মজুত রাখতে পারি, এই প্রশ্ন উঠছে। এনার্জির এই দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আজ হোক কাল হোক বাড়াতেই হবে এবং এই প্রক্রিয়া চলবেই। কিন্তু যতই দাম বাড়ুক বা কমুক, আমাদের দরকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। আমাদের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ওভারফ্লো করার মতো পরিস্থিতি নেই।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ সত্তার মণ্ডল মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, কৃষির মাসল পাওয়ার এখন অনেকটাই মেশিন পাওয়ার দ্বারা রিপ্লেস হয়েছে। প্রায় ৪২ লাখ ডিজেল ইঞ্জিন কৃষিতে বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু সেচ নয়, কৃষি সেক্টরে ছোট-বড় নানা ধরনের ইঞ্জিন চালু রয়েছে। আগামী দিনে কৃষি খাতে এসব মেশিনের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং সেই অনুপাতে ডিজেলের চাহিদাও বাড়বে।

ট্রেড সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের (টিএসআই) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৫ ডলার বাড়লে আমাদের ৪০০-৫০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এই বাড়তি আর্থিক চাপ পুরো জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই আমাদের বিকল্প উৎস নিয়ে ভাবতে হবে। আগে আমাদের সোর্সিং মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন অন্য জায়গাতেও সেই সোর্সিং বাড়ানো যায় কি না, তা দেখতে হবে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, আমি মনে করি, আগামীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে গড়াতে পারে এবং বাংলাদেশের জন্য এনার্জি সিকিউরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনার্জি সেক্টরকে সুরক্ষিত করতে শর্ট, মিড ও লং টার্ম পলিসি নিতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে কয়লাভিত্তিক বেইজ প্ল্যান্টগুলো সক্ষমতার ভিত্তিতে চালানো উচিত। আদানি ও ভারত থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ আসে, তা দিয়েও আমাদের ডোমেস্টিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ শিল্প ও সার কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহারের বিষয়টিও দেখতে হবে।

আলোচনায় সামাজিক শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) খোদা বকশ চৌধুরী। তিনি বলেন, এবার মানুষ অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। সাধারণত এমন সংকটে তা দেখা যায় না। নতুন সরকারের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ছিল। তবে ভবিষ্যতে এমন সংকট এলে মানুষ এমন সহনশীল থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

আলোচনায় ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী নীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সংকটকালে ভোক্তার আচরণ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও নীতিনির্ধারণ, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং প্রস্তুতির দুর্বলতাও সমানভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন বক্তারা। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, চাহিদা পূর্বাভাস উন্নয়ন, সমন্বিত যোগাযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সার্বিকভাবে আলোচনায় একটি অভিন্ন উপলব্ধি উঠে আসে যে, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কেবল সাময়িক নয়; বরং গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত নীতি, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি বৈচিত্র্য ও দক্ষতার প্রতি প্রতিশ্রুতি।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

আবারও হতে পারে জ্বালানি সংকট

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আবারও হতে পারে জ্বালানি সংকট

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জ্বালানি সংকট স্বল্পকালীন সংকট নয়, এটা মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পারলে আবার এই সংকট দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এই সংকটের সূত্র ধরেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ নিতে এ সংকট সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

সেই সঙ্গে সংকটের সময় অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

গতকাল শনিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘জ্বালানির ফাঁদে বন্দি অর্থনীতি’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা করেন জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা তেলের মজুত বৃদ্ধিতে জোর দেন। সে জন্য পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)র নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমানে জ্বালানির সংকট চলছে, যা আমরা মোকাবিলা করছি। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া, আমদানি ব্যবস্থাপনা ও মধ্যমেয়াদি কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে এ সংকট আরও গভীরভাবে থেকে যাবে, এমনকি বারবার ফিরে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো একমাত্রিকভাবে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। নীতিগত সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। আমলাতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এবার মানুষ ভীতি বা আতঙ্ক থেকে তেল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে মজুত প্রবণতার কারণেও সংকট তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, একই লোক প্রতিদিন তেল নিয়েছে, এমন নজিরও দেখা গেছে। আবার সরবরাহ কমিয়ে দিলে লম্বা লাইন পড়ে যায়। এখন সরবরাহ ও দাম উভয়ই বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে।

সাবেক জ্বালানি সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খান সংকটের মূল কারণ তুলে ধরে বলেন, আমাদের মজুত ক্ষমতা কী পরিমাণ আছে, কত দিনের জন্য আমরা মজুত রাখতে পারি, এই প্রশ্ন উঠছে। এনার্জির এই দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আজ হোক কাল হোক বাড়াতেই হবে এবং এই প্রক্রিয়া চলবেই। কিন্তু যতই দাম বাড়ুক বা কমুক, আমাদের দরকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। আমাদের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ওভারফ্লো করার মতো পরিস্থিতি নেই।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ সত্তার মণ্ডল মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, কৃষির মাসল পাওয়ার এখন অনেকটাই মেশিন পাওয়ার দ্বারা রিপ্লেস হয়েছে। প্রায় ৪২ লাখ ডিজেল ইঞ্জিন কৃষিতে বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু সেচ নয়, কৃষি সেক্টরে ছোট-বড় নানা ধরনের ইঞ্জিন চালু রয়েছে। আগামী দিনে কৃষি খাতে এসব মেশিনের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং সেই অনুপাতে ডিজেলের চাহিদাও বাড়বে।

ট্রেড সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের (টিএসআই) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৫ ডলার বাড়লে আমাদের ৪০০-৫০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এই বাড়তি আর্থিক চাপ পুরো জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই আমাদের বিকল্প উৎস নিয়ে ভাবতে হবে। আগে আমাদের সোর্সিং মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন অন্য জায়গাতেও সেই সোর্সিং বাড়ানো যায় কি না, তা দেখতে হবে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, আমি মনে করি, আগামীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে গড়াতে পারে এবং বাংলাদেশের জন্য এনার্জি সিকিউরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনার্জি সেক্টরকে সুরক্ষিত করতে শর্ট, মিড ও লং টার্ম পলিসি নিতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে কয়লাভিত্তিক বেইজ প্ল্যান্টগুলো সক্ষমতার ভিত্তিতে চালানো উচিত। আদানি ও ভারত থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ আসে, তা দিয়েও আমাদের ডোমেস্টিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ শিল্প ও সার কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহারের বিষয়টিও দেখতে হবে।

আলোচনায় সামাজিক শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) খোদা বকশ চৌধুরী। তিনি বলেন, এবার মানুষ অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। সাধারণত এমন সংকটে তা দেখা যায় না। নতুন সরকারের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ছিল। তবে ভবিষ্যতে এমন সংকট এলে মানুষ এমন সহনশীল থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

আলোচনায় ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী নীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সংকটকালে ভোক্তার আচরণ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও নীতিনির্ধারণ, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং প্রস্তুতির দুর্বলতাও সমানভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন বক্তারা। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, চাহিদা পূর্বাভাস উন্নয়ন, সমন্বিত যোগাযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সার্বিকভাবে আলোচনায় একটি অভিন্ন উপলব্ধি উঠে আসে যে, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কেবল সাময়িক নয়; বরং গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত নীতি, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি বৈচিত্র্য ও দক্ষতার প্রতি প্রতিশ্রুতি।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ