এআই বক্তব্য দিয়েছে শেখ হাসিনা
- আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০২২ বার পড়া হয়েছে
এআই বক্তব্য দিয়েছে শেখ হাসিনা
আস্থা ডেস্কঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনা। ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে তাঁর কণ্ঠ শোনা গেলেও তাঁকে সরাসরি দেখা যাচ্ছে না।
ফলে বক্তব্যটি সত্যিই শেখ হাসিনার দেওয়া কি না, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে শেখ হাসিনার কণ্ঠে বলা হয়েছে, সরকার তাঁকে দেশে ফেরাতে চাইলো কি না, সেটি তাঁর বিষয় নয়। সময় এলেই তিনি দেশে ফিরবেন এমন বক্তব্যও রয়েছে বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভিডিও বা উপস্থাপনার ধরন। সেখানে শেখ হাসিনার মুখ দেখা যাচ্ছে না; বরং মূলত তাঁর কণ্ঠস্বরই শোনা যাচ্ছে। এই জায়গা থেকেই শুরু হয়েছে ‘রিয়েল নাকি এআই’ বিতর্ক।
সাংবাদিক আরিফ সাওন তার নিজের ফেসবুক পোস্টে বিদ্রুপ করে লিখেন, আফা কাদের শোনাতে ইংরেজিতে বক্তব্য দিলো? বাংলাদেশের মানুষের জন্য হলে তো ইংরেজিতে দেওয়ার কথা না। আফার মাতৃভাষার প্রতি এতো বিতৃষ্ণা কেন? কেন এতো ইংরেজি প্রেম?
তিনি আর এক পোষ্টে লিখেন, আপা পর্দা করা শুরু করেছেন। তাই বেগনা পুরুষদের সামনে আসবেন না।
এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আজও তিনি চেহারা দেখাতে পারলো না, এমনকি নিচে নামও নেই। শুধু রয়েছে কণ্ঠ, সেটাও রিয়েল নাকি এআই দিয়ে তৈরি তা নিয়ে রয়েছে বিশাল সন্দেহ।’
পোস্টে তিনি আরও ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘কণ্ঠ রিয়েল হোক আর নাই হোক আফা বলেছে, সরকার চাইলো কি না চাইলো সেটা তাঁর বিষয় না। সময় আসলেই তিনি দেশে ফিরবেন। তো এ সময়টা কবে আসবে আফা?? আগে জানলে একটু এয়ারপোর্ট যাইতাম আরকি।’
অন্যদিকে আরেক ফেসবুক পোস্টে আরও সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘তিনি কি বেঁচে আছেন? না কি এআই?’
সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, কণ্ঠটি শেখ হাসিনারই। আবার কেউ দাবি করছেন, প্রযুক্তির বর্তমান সক্ষমতায় কণ্ঠ নকল করা সম্ভব হওয়ায় শুধু অডিও শুনে বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কারও কণ্ঠস্বর নকল করে বক্তব্য তৈরি করা সম্ভব। আবার বাস্তব কোনো বক্তব্য থেকেও শুধু অডিও ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি বা প্রচার করা যায়। ফলে কোনো ব্যক্তির মুখ না দেখিয়ে শুধু কণ্ঠস্বর প্রচার করা হলে সেটির উৎস ও প্রামাণিকতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একই সঙ্গে শুধু মুখ দেখা যাচ্ছে না-এমন কারণেই কোনো বক্তব্যকে এআই-নির্মিত বলেও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রয়োজন মূল ভিডিও বা অডিওর উৎস, ধারণের সময়, স্থান এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের সবচেয়ে বেশি আলোচিত অংশগুলোর একটি তাঁর দেশে ফেরার প্রসঙ্গ। বক্তব্যে ‘সময় আসলেই’ দেশে ফেরার কথা বলা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে।
এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা ধরনের মন্তব্য ও ব্যঙ্গ বিদ্রূপ। কেউ জানতে চাইছেন সেই সময় আসলে কবে? আবার কেউ বলছেন, সময়টি আগে জানা গেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া যেত।
রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই এর সত্যতা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান, তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চলার মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে এই অডিও/ভিডিও।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বক্তব্য দ্রুত ভাইরাল হলেও সেটি সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কণ্ঠ, ভিডিও বা বক্তব্যের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উৎস যাচাই করা জরুরি।
বর্তমানে আলোচিত এই বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। এটি শেখ হাসিনার প্রকৃত বক্তব্য কি না, নাকি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠ তৈরি করা হয়েছে এগুলোর কোনোটি নিশ্চিতভাবে বলার আগে প্রযুক্তিগত ও উৎসভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।
তাই প্রশ্নটি আপাতত থেকেই যাচ্ছে দিল্লি থেকে সত্যিই কি শেখ হাসিনার কণ্ঠে নতুন বক্তব্য এসেছে, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এআইয়ের তৈরি কোনো কণ্ঠ?
উত্তর মিলবে বক্তব্যটির মূল উৎস ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত যাচাই সামনে এলে। তার আগে ‘রিয়েল’ কিংবা ‘এআই’—কোনোটিকেই চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















