গুরুদাসপুরে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০২০ বার পড়া হয়েছে
গুরুদাসপুরে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ভিডিও ভাইরাল
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গুরুদাসপুরে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ভিডিও ভাইরাল, যুবদল নেতার দাবি, আমি নির্দোষ’
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রবাসী পরিবারের তিন নারীকে গলায় জুতারমালা পড়িয়ে এলাকা প্রদক্ষিনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে । ঘটনার পর থেকে তাঁরা অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে। নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবারের নারীরা থানায় অভিযোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীদের বাড়ি চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লায়। তাঁদের একজনের বয়স (৬০) তাঁর মেয়ে (৩০) ও নাতনি (১৫)।
যুব দলনেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে। এর আগে ওই নারীকে যুব-দলনেতা বাড়িতে আটকে রেখে মারধর ও সাদা ননজুডিশিয়াল ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারীদের বাড়ি চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লায়। তাঁদের একজনের বয়স (৬০) তাঁর মেয়ে (৩০) ও নাতনি (১৫) তাঁদের বাড়ির পুরুষ সদস্যরা প্রবাসী।
ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, একটি মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া তাঁর অনুগত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের বাড়িতে আসেন। এক পর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের পর টেঁনেহেঁচড়ে তাঁদের যুবদল নেতা জিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে প্রায় ৪ ঘন্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে ১০ লাখ টাকা দাবী করা হয়। দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। পরে জিয়ার অনুগতরা জুতারমালা পড়িয়ে এলাকার সড়ক প্রদক্ষিণ করানোর পর সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবী, ঘটনার পর নিরাপত্তার কারনে তাঁদের ১৫ বছরের মেয়েকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁরা বাড়িতেই রয়েছেন। লোকলজ্জার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। প্রতিপক্ষের ক্ষমতার দাপটের কারনে থানায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।
যুবদল নেতা জিয়া ও তাঁর পরিবারের দাবী, রাতুল মন্ডলকে জামাই করতে না পারার ক্ষোভে নির্যাতনের শিকার নারী (৩০) জিয়ার ভাতিজিকে কালো যাদু করেছেন। একারনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ক্ষোভ থেকেই নির্যাতনের শিকার পরিবারটির ওপর ক্ষুব্দ জিয়ার পরিবার। এক্ষোভ থেকেই সোমবার ওই তিন নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শারীরিক মানুষিক নির্যাতন, সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং গলায় জুতার মালা পড়িয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করিয়েছে এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া দাবী করেন, এঘটনার সাথে জড়িত নন তিনি। কারন মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টের পর তাঁর হাত ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিছানায় রয়েছেন গত ১৫ দিন হলো।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাঁর নজড়ে আসার পর এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ না করায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আস্থা/এমএইচ


















