ডিপিডিসির ২১ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে: দুদকের তলব
- আপডেট সময় : ০৬:১০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০২৪ বার পড়া হয়েছে
ডিপিডিসির ২১ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে: দুদকের তলব
আস্থা ডেস্কঃ
দেশের বিদ্যুৎ খাতের বৃহৎ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) সঙ্গে সরকারের (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলীর সই করা ওই চিঠিতে প্রকল্পের যাবতীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ মে, ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও দলিলপত্র দুদক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথি গুলোর মধ্যে রয়েছে:-
১. ঠিকাদারের সঙ্গে মূল চুক্তিপত্র: বিদেশি ও দেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক ও সংশোধিত চুক্তিনামা।
২. ক্রয় সংক্রান্ত নথি: প্রকল্পের অধীনে মালামাল ক্রয়, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কেনাকাটার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের কাগজপত্র।
৩. কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন: এ পর্যন্ত কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তার বিপরীতে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
৪. ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া: কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছিল এবং সেখানে কোনো যোগসাজশ ছিল কি না।
৫. আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান: ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং পেমেন্ট ভাউচার।
অভিযোগের প্রধান দিকগুলো হলো:
অভিযোগ রয়েছে, ডিপিডিসির প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বিশেষ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেনকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে।
প্রকল্পের অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে শত শত কোটি টাকা প্রকল্প তহবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যেহেতু এটি একটি জিটুজি প্রকল্প এবং এখানে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন জড়িত, তাই দুদকের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে অর্থ পাচারের বিষয়টিও। নামমাত্র মালামাল আমদানি দেখিয়ে বা ওভার ইনভয়েসিংয়ের (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) মাধ্যমে বিদেশের ব্যাংকগুলোতে টাকা পাচার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















