ডিসেম্বরের আগেই ব্লু-প্রিন্ট আওতায় আটক
- আপডেট সময় : ০৮:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০১১ বার পড়া হয়েছে
ডিসেম্বরের আগেই ব্লু-প্রিন্ট আওতায় আটক
আস্থা ডেস্কঃ
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় আটক করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্দিষ্ট নেতাদের।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে সারাদেশ থেকে ৫৩ হাজার লোককে আটক করা হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনেই আওয়ামীলীগের প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে নিছক কর্মীদের মনোবল চাঙা করার কৌশল অথবা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দেশে ফেরার নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। তাই ডিসেম্বর ঘিরে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুদফায় ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কিছু অংশ মনে করছেন, দেশে ফিরলেই আটক ও মামলার ঝুঁকি থাকায় এই ঘোষণা শুধু কোণঠাসা হয়ে পড়া কর্মীদের মনোবল চাঙা করার কৌশল। তার ফেরা মূলত ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতার ওপর নির্ভরশীল।
তবে অন্য অংশের মতে, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে দীর্ঘকাল আশ্রয় দেওয়াকে নিজেদের জন্য চাপ মনে করছে। তাই নিরাপত্তা ও আইনি নিশ্চয়তার (যেমন-মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া) ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ঘোষণাকে স্রেফ মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ভাবার অবকাশ নেই। রাজনৈতিক পুনর্বাসন এবং দেশের মাটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগের তাগিদ এখানে বড় চালিকাশক্তি। তবে আত্মগোপনে থাকা নেতারা যদি উপযুক্ত সময়ে (হিট অব দ্য মোমেন্ট) মাঠে নেমে পড়েন, তবে সাঁড়াশি অভিযান দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জানান, যদি সমঝোতা ছাড়াই প্রত্যাবর্তন এবং জোরপূর্বক প্রতিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দিতে পারে। কেবল পুলিশি শক্তি বা গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেবল প্রধান উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নতুবা কারাগারগুলোর অতিরিক্ত বন্দি সংকটের কারণে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনজীবন অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না’
আস্থা/এমএইচ



















