তারেক রহমানকে ঘিরে মব তৈরির ছক!
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
- / ১০০৯ বার পড়া হয়েছে
তারেক রহমানকে ঘিরে মব তৈরির ছক!
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা দেশে। এমন পরিস্থিতিতে ওই পরিবারটির খোঁজ নিতে তাদের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্বাভাবিক চোখে প্রধানমন্ত্রীর গমন এবং প্রস্থান ঘিরে কোনো অঘটন চোখে না পড়লেও গোয়েন্দাদের চোখে ধরা পড়ে ভয়ংকর এক নিখুঁত ছক। তা হচ্ছে রামিসার বাসার কাছাকাছি বা ওই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক পয়েন্টে বিক্ষুব্ধ জনতা সেজে মব তৈরি করে বিতর্কের মুখে নাস্তানাবুদ করা হবে প্রধানমন্ত্রীকে।
তবে বিষয়টি আগাম টের পেয়ে যায় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই ‘মব’ সৃষ্টির ছক তছনছ করে দেওয়া হয়। গোটা এলাকা ঢেকে ফেলা হয় নিরাপত্তার চাদরে।
এ বিষয়ক এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মব করতে না পেরে অবশেষে একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা দূর থেকে “ভুয়া ভুয়া” বলে স্লোগান দিতে থাকে।’
তবে এতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়েনি বা কোনো ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এদিকে এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর রামিসার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী নগদ টাকা দিচ্ছেন এমন একটি দৃশ্য এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি করে ভুয়া ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয় একাধিক গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে।
ওই ফটোকার্ডটি ভুয়া ছিল, তা নিশ্চিত হয়েছে ভিওডি বাংলা। এছাড়া সেটি যাচাই করে ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়েছে ফ্যাক্ট-চেকার প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। যে খবর ভিওডি বাংলায় প্রকাশ হয়।
২১ মে রাতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের পল্লবী এলাকার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে সন্ধ্যার পরপর খবর আসে যে, রামিসার বাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কখন রওনা হবেন, কখন সে বাসায় পৌঁছাবেন, তা তার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফোনকলে জানতে চাইলে এ ধরনের অন্য কর্মসূচির মতো স্পষ্ট উত্তর মিলছিল না। ফোনালাপে কর্মকর্তাদের কণ্ঠে এক ধরনের টেনশন, নীরবতা ও দ্বিধা ছিলো।
অস্পষ্টতা বাড়তে থাকলে পরিষ্কার তথ্য পেতে সরকারের নানান পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যেই একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রীর গমন কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপযুক্ত করা হচ্ছে।’
এছাড়া শঙ্কার ইঙ্গিত ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে সেদিন পাওয়া গিয়েছিল। তা ‘আনকোট’ বক্তব্য হওয়ায় খবর প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া মব সৃষ্টির অপচেষ্টার বিষয়টি গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দাঙ্গাসহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এমন শঙ্কার বিষয়টিও ছিল কর্মকর্তাদের আলোচনায়।
‘মব তৈরির শঙ্কা বা অপচেষ্টার বিষয়টি সরকারের একাধিক মন্ত্রীও অবহিত হন এবং সরকার ও দলের পক্ষ থেকেও নীরবে শান্তিপূর্ণ তৎপরতা চলে’ দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অবশ্য পরে প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় যান। পরিবারটির খোঁজ নেন। কিন্তু এই মব শঙ্কার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীও জেনেছিলেন কি না, তা জানা না গেলেও ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের নিরাপত্তা সংকট বা বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনার তথ্য অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জেনে থাকেন। আর তারা আগে না হোক অন্তত চক্রান্ত ভেঙে স্বাভাবিক নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরির পর হলেও ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে হয়তো জানিয়েছেন।’
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনও মব তৈরির চক্রান্তের বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। যা তিনি মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের আয়োজনে অসুস্থ সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে কিছুটা প্রকাশ করেন।
ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সে দিন অনেক মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন। কেননা সে দিন ওই এলাকায় কিছু আন্দোলন হয়েছিল।
পরে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বলেন, “আমরা কন্যাসন্তানের জনক। আমাদের ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।” তবে সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দেয় লোকজন। সেটা কখনোই কাম্য ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যখন তেলের পাম্পে সংকট নিরসনে বিরোধীদলের পাঁচজন এবং সরকারি দলের পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করল, ঠিক তখনই সংকট দূর হয়ে গেল। সরকার চাইলে তো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট দেখাতে পারত, কিন্তু করেনি। তবে কারা সংকট তৈরি করেছে বা করত, এসব পরিষ্কার হয়ে গেছে।’
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















