ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী Logo যেসব দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পরও কার্যকর হয়নি Logo শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় রদবদল Logo মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি Logo একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন জামায়াত আমীর Logo ভারতীয় স্পাইসজেটকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলো বাংলাদেশ Logo ঝটিকা মিছিল চলাকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৮ কর্মী আটক Logo ইউনূস সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক কেন? Logo প্রথম আলোয় হামলা: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা-ফাওজুল কবীর

নওগাঁয় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১
  • / ১০৬৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ প্রতিনিধি:দেশের খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে খ্যাত নওগাঁয় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশি এই জেলার কৃষকরা। বর্তমানে জেলার আত্রাই, রাণীনগর এবং সদর উপজেলার দক্ষিণে নিম্নাঞ্চলে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

[irp]

চলতি বছর উন্নত ফলনশীল জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে জিরাশাইল, ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৮১, ব্রিধান-৫৮, কাটারীভোগসহ প্রায় ২৬ জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। আর হাইব্রীড জাতের মধ্যে রয়েছে- তেজ, এস এল-৮ এইচ, হিরনা-২, হিরা-৬ ও ঝলকসহ প্রায় ২৮ জাতের ধান।

 

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে- সদরে ১৭ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর, রাণীনগরে ১৮ হাজার ৮শ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১৮ হাজার ৪শ হেক্টর, বদলগাছীতে ১১ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৮ হাজার ৩শ ৭০ হেক্টর, পতœীতলায় ১৯ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১৮ হাজার ৬শ ৫ হেক্টর, সাপাহারে ৫ হাজার ২শ ৩০ হেক্টর, পোরশায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর, মান্দায় ১৯ হাজার ৯শ ৩০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৯শ’ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।

 

কৃষকরা জানান, গেল কয়েক বছরের মধ্যে এবার বিলের জমিগুলোতে ধানের ফলন ভাল হয়েছে । প্রতি বিঘায় মোটা ধানের ফলন হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ মণ। সরু ধানের ফলন আসছে ২২ থেকে ২৫ মণ। এটিকে বাম্পার ফলন বলছেন কৃষকরা।

 

হাঁসাইগাড়ি বিল এলাকার কৃষক আবুল হোসেন ও ময়েন উদ্দিন বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবছর বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৫ মণ ধান বেশি পেয়েছি। বাম্পার ফলনে আমরা খুশি। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। আর নতুন ধানের বাজার দর ভাল। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকায়।

 

অভিযোগ করে তারা বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমাতে না পারে সেজন্য বাজারে তদারকি (মনিটরিং) বাড়ানোর পাশাপাশি ফলন ও উৎপাদন খরচ হিসাব করে সরকারী দর বেঁধে দেয়ার দাবিও জানান তারা।

 

তবে বিলের জমির ধান এখন ঘরে উঠানো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারন বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ফসল ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এরমধ্যে লকডাউনে শ্রমিক সংকটের দুশ্চিন্তা রয়েছে তাঁদের।

 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানান, এ বছর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন হিসেবে এ বছর জেলায় মোট ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন চালের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।

 

কৃষি শ্রমিকদের ব্যাপারে তিনি জানান, জেলায় ধান কাটতে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। নওগাঁ জেলায় স্থানীয়ভাবে শ্রমিক রয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ১শ ৮৫ জন। ঘাটতি ৭৮ হাজার ৮৫৫ জন শ্রমিক অন্য জেলা থেকে নিয়ে আসতে হবে।

 

লকডাউনে শ্রমিক সংকট হবে কি-না, এব্যাপারে তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্র্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সাথে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের উপজেলায় শ্রমিকরে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলা থেকে শ্রমিক আনয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নওগাঁয় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৭:৩০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১

নওগাঁ প্রতিনিধি:দেশের খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে খ্যাত নওগাঁয় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশি এই জেলার কৃষকরা। বর্তমানে জেলার আত্রাই, রাণীনগর এবং সদর উপজেলার দক্ষিণে নিম্নাঞ্চলে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে।

[irp]

চলতি বছর উন্নত ফলনশীল জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে জিরাশাইল, ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৮১, ব্রিধান-৫৮, কাটারীভোগসহ প্রায় ২৬ জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। আর হাইব্রীড জাতের মধ্যে রয়েছে- তেজ, এস এল-৮ এইচ, হিরনা-২, হিরা-৬ ও ঝলকসহ প্রায় ২৮ জাতের ধান।

 

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে- সদরে ১৭ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর, রাণীনগরে ১৮ হাজার ৮শ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১৮ হাজার ৪শ হেক্টর, বদলগাছীতে ১১ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৮ হাজার ৩শ ৭০ হেক্টর, পতœীতলায় ১৯ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১৮ হাজার ৬শ ৫ হেক্টর, সাপাহারে ৫ হাজার ২শ ৩০ হেক্টর, পোরশায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর, মান্দায় ১৯ হাজার ৯শ ৩০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৯শ’ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।

 

কৃষকরা জানান, গেল কয়েক বছরের মধ্যে এবার বিলের জমিগুলোতে ধানের ফলন ভাল হয়েছে । প্রতি বিঘায় মোটা ধানের ফলন হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ মণ। সরু ধানের ফলন আসছে ২২ থেকে ২৫ মণ। এটিকে বাম্পার ফলন বলছেন কৃষকরা।

 

হাঁসাইগাড়ি বিল এলাকার কৃষক আবুল হোসেন ও ময়েন উদ্দিন বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবছর বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৫ মণ ধান বেশি পেয়েছি। বাম্পার ফলনে আমরা খুশি। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। আর নতুন ধানের বাজার দর ভাল। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকায়।

 

অভিযোগ করে তারা বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমাতে না পারে সেজন্য বাজারে তদারকি (মনিটরিং) বাড়ানোর পাশাপাশি ফলন ও উৎপাদন খরচ হিসাব করে সরকারী দর বেঁধে দেয়ার দাবিও জানান তারা।

 

তবে বিলের জমির ধান এখন ঘরে উঠানো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারন বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ফসল ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এরমধ্যে লকডাউনে শ্রমিক সংকটের দুশ্চিন্তা রয়েছে তাঁদের।

 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানান, এ বছর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন হিসেবে এ বছর জেলায় মোট ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন চালের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।

 

কৃষি শ্রমিকদের ব্যাপারে তিনি জানান, জেলায় ধান কাটতে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। নওগাঁ জেলায় স্থানীয়ভাবে শ্রমিক রয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ১শ ৮৫ জন। ঘাটতি ৭৮ হাজার ৮৫৫ জন শ্রমিক অন্য জেলা থেকে নিয়ে আসতে হবে।

 

লকডাউনে শ্রমিক সংকট হবে কি-না, এব্যাপারে তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্র্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সাথে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের উপজেলায় শ্রমিকরে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলা থেকে শ্রমিক আনয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।