ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে জামাত নেতা নেয় টিপ: বানায় কাবিননামা
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০১৭ বার পড়া হয়েছে
ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে জামাত নেতা নেয় টিপ: বানায় কাবিননামা
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়েছিল বিধবা আছিয়া বেগমের (৪৩)। কয়েক দিন পর তাকে ডেকে নেওয়া হয় একটি দোকানে, সেখানে একটি কাগজে টিপসইও নেওয়া হয়। আছিয়ার ধারণা ছিল, সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য এসব কাগজপত্র ও টিপসই নেওয়া হবে।
কিন্তু কিছুদিন পর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে আছিয়ার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে দেখানো হয় একটি কাবিননামা ও এফিডেভিট। সেখানে বর হিসেবে নাম রয়েছে আবদুল কুদ্দুছের।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামেনএ ঘটনা ঘটে।
আছিয়ার অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টিপসই নেন স্থানীয় জামায়াতকর্মী আবদুস ছাত্তার। সেই টিপসই ব্যবহার করেই জালিয়াতির মাধ্যমে তার নামে বিয়ের কাগজ তৈরি করা হয়েছে। ১৩ বছর আগে আমার স্বামী আবু কালাম মারা গেছেন। দুই ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি, নাতি-নাতনিও রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের জমিতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছি। বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব এলেও বিয়ে করিনি।
অন্যদিকে, আবদুল কুদ্দুসের বাড়ি পাটুলী বাজারের পাশেই।আঃ কুদ্দুছের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, এক ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনি নিয়ে আবদুল কুদ্দুসের সংসার। স্বামী বাড়িতে নেই দাবি করে সুফিয়া খাতুন বলেন, বিয়ের বিষয়ে আমার স্বামী আমাকে আগে কখনো কিছু জানাননি। ঘটনার পর বিষয়টির জানাজানি হলে তিনি দাবি করেন যে, কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে তিনি বিয়ে করেছেন। আমরা তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি কারো কথা শোনেননি।
ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় দেখা যায়, পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে।
তবে সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো কাবিনের সাক্ষী হননি এবং তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
কাবিন সংক্রান্ত বিষয়ে কাজি গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি এই বিয়ে সম্পন্ন করিনি। যে কাগজ ছড়িয়েছে সেটি সম্পূর্ণ জাল। সে বিষয়ে পুলিশের সাথে কথা বলব।
এ ঘটনায় এলাকায় সালিশের নেতৃত্ব দেওয়া স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ রুস্তম আলী বলেন, আছিয়ার কাছে কাবিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তার টিপসই নেওয়া হয়েছিল। কাবিননামায় থাকা সাক্ষীরাও সালিশে জানিয়েছেন যে তারা বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না। কিন্তু কীভাবে কি হলো আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে। গত সোমবার ও বুধবার পাটুলী গ্রামে এ নিয়ে সালিশ বসলেও সেখানে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। পরে সালিশে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুটিজানা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করা এবং নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুস ছাত্তার পাটুলি বাজারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী। ফ্যামিলি কার্ডের নামে টিপসই নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই মহিলার কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে কোনো টিপসই নেইনি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ ফজলুল হক শামীম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। আবদুস ছাত্তার জামায়াতের নিয়মিত পদধারী কোনো নেতা নন; নির্বাচনের সময় একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন এবং পূর্বে বিএনপি করতেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছি। তবে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আস্থা/এমএইচ



















