বৈঠকের পর বৈঠক কি হচ্ছে উপমহাদেশে?!
- আপডেট সময় : ০২:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৯৯৯ বার পড়া হয়েছে
বৈঠকের পর বৈঠক কি হচ্ছে উপমহাদেশে?!
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
গেল সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠকে করেছেন।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ-এর সাথে বৈঠক হয় দীনেশ ত্রিবেদীর।
এর আগে রবিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে সাথে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সোমবার ও মঙ্গলবার টানা দুই দফায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
চীন সফর শেষে গত (৯ আগস্ট/২০২৬) ৪ সদস্যের ১টি প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকা সফর করে গেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের সাথে বৈঠকটি করেছেন।
ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে বৈঠক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (প্যাসিফিক ফ্লিট) কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন কোহলারের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল (গত ৪ থেকে ৬ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ সফর করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্যে মোদির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এ বৈঠক হলো।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারতের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি দেখছি।’
এদিকে ভারত জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক যোগাযোগের মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
জয়সওয়াল বলেন, দুই বৈঠকেই “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব” নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই অংশীদারত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে। বাণিজ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে গর বৈঠকটিকে “ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনিও বিস্তারিত না জানিয়ে বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গর লিখেছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অনেক অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে এবং আমাদের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ক্রমেই বাড়ছে।
দোভালের সঙ্গে গরের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার দায়িত্ব শুধু ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। তার দায়িত্বের আওতায় ভারত থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিশাল অঞ্চল রয়েছে।
ফার্স্ট পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটার সময়েই দোভাল-গরের বৈঠক হলো।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ























