ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনুসের বানিজ্য চুক্তির প্রভাব শুরু!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / ১০৩২ বার পড়া হয়েছে

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

মার্কিন নজিরবিহীন নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে দেখা দিয়েছে সংকট। প্রায় ৬০ কোটি টাকার একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে, যা শেষ পর্যন্ত ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এক নতুন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা (শিপব্রেকিং) শিল্প। ভাঙ্গার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

এর ফলে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) আটকে আছে এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে সৈকতে বা ইয়ার্ডে ভেড়াতে পারছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের এই জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসএন করপোরেশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক বিএসবিআরএ এর এক সদস্য বলেন, জাহাজটি আর ভাঙ্গার জন্য ইয়ার্ডে বিচিং হবে না এটি এখন ফেরত পাঠানো হবে। জাহাজ ক্রয় করার পর আমদানিকারক জানতে পারেন জাহাজটিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগে খবর পাওয়া গেলে এসএন করপোরেশন জাহাজটি ক্রয় করতো না। বিষয়টি জানার পর সাথে সাথে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কালো তালিকাভুক্ত জাহাজ ক্রয় করেন এসএন করপোরেশন। চট্টগ্রাম উপকূলে ৬০ কোটি টাকা মূল্যের “মেকেই” নামের একটি জাহাজ ভাঙ্গার জন্য আনা হয়েছে যা একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার। জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কয়েক দিনের পর ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ‘মেমেই’ নামের জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে থাকা জাহাজটি এখন আর ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। এমন জটিল পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে এর মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এর আমদানিকারক শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি থেকে অল্প দূরে নোঙর করে আছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া জাহাজ ‘মেমেই’।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮শ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত সমুদ্র পথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনুসের বানিজ্য চুক্তির প্রভাব শুরু!

আপডেট সময় : ১১:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

মার্কিন নজিরবিহীন নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে দেখা দিয়েছে সংকট। প্রায় ৬০ কোটি টাকার একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে, যা শেষ পর্যন্ত ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এক নতুন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা (শিপব্রেকিং) শিল্প। ভাঙ্গার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

এর ফলে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) আটকে আছে এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে সৈকতে বা ইয়ার্ডে ভেড়াতে পারছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের এই জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসএন করপোরেশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক বিএসবিআরএ এর এক সদস্য বলেন, জাহাজটি আর ভাঙ্গার জন্য ইয়ার্ডে বিচিং হবে না এটি এখন ফেরত পাঠানো হবে। জাহাজ ক্রয় করার পর আমদানিকারক জানতে পারেন জাহাজটিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগে খবর পাওয়া গেলে এসএন করপোরেশন জাহাজটি ক্রয় করতো না। বিষয়টি জানার পর সাথে সাথে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কালো তালিকাভুক্ত জাহাজ ক্রয় করেন এসএন করপোরেশন। চট্টগ্রাম উপকূলে ৬০ কোটি টাকা মূল্যের “মেকেই” নামের একটি জাহাজ ভাঙ্গার জন্য আনা হয়েছে যা একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার। জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কয়েক দিনের পর ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ‘মেমেই’ নামের জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে থাকা জাহাজটি এখন আর ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। এমন জটিল পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে এর মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এর আমদানিকারক শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি থেকে অল্প দূরে নোঙর করে আছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া জাহাজ ‘মেমেই’।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮শ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি মূলত সমুদ্র পথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ