ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (১০)

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০০৬ বার পড়া হয়েছে

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (১০)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণ
অনুচ্ছেদ ১.২৭: শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণ
১. বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে অন্য ব্যক্তিগত পক্ষের কাছে পণ্য পরিবহনের জন্য জারি করা বিল অব লেডিংয়ের আইনগত বৈধতা অস্বীকার করবে না শুধু এই ভিত্তিতে যে বিল অব লেডিংটি ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে রয়েছে।

২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের দ্বারা বাংলাদেশ কাস্টমসে (রাজস্ব বোর্ড) জমা দেওয়া তথ্যকে অননুমোদিত প্রকাশ থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে।

৩. যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এক্সপ্রেস চালানের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের ইমিডিয়েট রিলিজ গাইডলাইনস বাস্তবায়ন করবে, যাতে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্যাকেজগুলো আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামে স্থানান্তর ছাড়াই খালাস হয়।

৪. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনকারী বা তাদের প্রতিনিধিদের ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট (আইজিএম) তথ্য নিবন্ধনের পর সংশোধনের অনুরোধ করতে সহায়তা করবে এবং সেই অনুরোধসমূহ বাংলাদেশ কাস্টমস দ্বারা মূল্যায়নের সুবিধা প্রদান করবে।

৫. বাংলাদেশ তথ্য প্রকাশ এবং প্রাপ্যতা সম্পর্কিত ডব্লিউটিও অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের (টিএফএ) ১.৪ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

৬. বাংলাদেশ জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেড-১৯৯৪-এর অনুচ্ছেদ-৭ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার জাতীয় কাস্টমস মূল্যায়ন আইন এবং বিষয়সমূহের চেকলিস্টের উত্তর ডব্লিউটিওতে জমা দেবে।

৭. বাংলাদেশ একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বা বজায় রাখবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মাংস, পোলট্রি, সিলুরিফরমিস এবং ডিম পণ্যের রপ্তানির জন্য মার্কিন কৃষি দপ্তরের খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা থেকে সিস্টেম-টু-সিস্টেম ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেশন ডেটা গ্রহণ করবে, উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মত সময়সীমার মধ্যে।

দ্বিতীয় ভাগ: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি
১. বাংলাদেশ গ্লোবাল ক্রসবর্ডার প্রাইভেসি রুলস (সিবিপিআর) সিস্টেম এবং গ্লোবাল প্রাইভেসি রিকগনিশন ফর প্রসেসরস (পিআরপি) সিস্টেম সার্টিফিকেশনকে তার আইনগত কাঠামোর অধীনে বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, যাতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে এবং সম্মতি ব্যয় কমিয়ে সীমান্তপারের ডেটা স্থানান্তর করা যায়।

২. বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার পরামর্শ বৃদ্ধি করবে এবং নিশ্চিত করবে যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও সংশোধনের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়।

৩. বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করবে এবং সাইবার অপরাধের জন্য কঠোরতর শাস্তি আরোপের উদ্দেশ্যে প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করবে।

৪. বাংলাদেশ ২০২১ সালের রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, স্যোশাল মিডিয়া অ্যান্ড ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফরমস সংশোধন বা বাতিল করবে, যাতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড সেবার ক্ষেত্রে ট্রেসেবিলিটির প্রয়োজনীয়তা এবং সেবা প্রদানকারীদের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এনক্রিপশন কি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা অপসারণ হয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত হয়।

৫. বাংলাদেশ:-

(ক) আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) রেগুলেশনসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের (৬.৪২৫-৭. ১২৫ গিগাহার্টজ) ওপরের ৬০০-৭০০ মেগাহার্টজ অংশকে লাইসেন্সমুক্ত ওয়্যারলেস/রেডিও লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ডব্লিউল্যান/আরল্যান) প্রযুক্তির জন্য লো পাওয়ার ইনডোর (এলপিআই) এবং ভেরি লো পাওয়ার (ভিএলপি) ডিভাইস শ্রেণির জন্য উন্মুক্ত করবে; এবং

(খ) ৬ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের (৫.৯২৫-৭. ১২৫ গিগাহার্টজ) ১১০০-১২০০ মেগাহার্টজ অংশে কার্যরত ডব্লিউল্যান/আরল্যান ডিভাইসের সার্টিফিকেশনের জন্য হোমোলোগ্যাশন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করবে, যা ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ওপরের অংশ লো পাওয়ার ডব্লিউল্যান/আরল্যান ডিভাইসের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) রেগুলেশনসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশনের ৩০ দিনের মধ্যে করা হবে।

তৃতীয় ভাগ: অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা
১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার বন্দর, বন্দর টার্মিনাল এবং লজিস্টিক ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক এবং তার বাণিজ্যিক নৌবহর এমন ডিজিটাল লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যা উপযুক্ত সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষা, তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ থেকে সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা, এবং অন্যান্য বিদেশি সরকারের দ্বারা ডেটা-অ্যাক্সেস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

২. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনসের (ইএআর) অধীন যুক্তরাষ্ট্র-উৎপাদিত বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অননুমোদিত রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি এবং দেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর সীমিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যদি না রপ্তানিকারক মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) থেকে পুনঃরপ্তানি অনুমোদন উপস্থাপন করে বা প্রমাণ করে যে বিআইএস অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষ ইএআর-এর অধীন পণ্যসমূহ সম্পর্কে সহযোগিতা করবে এবং তথ্য বিনিময় করবে।

৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র-উৎপাদিত বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত তার কাস্টমস এবং লেনদেন তথ্য যাচাই এবং ভাগাভাগি করবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের, যার মধ্যে বিআইএস বা তার প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত, উদ্বেগজনক লেনদেন শনাক্ত করা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।

৪. বাংলাদেশ দেশীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োগ প্রক্রিয়া উন্নয়ন করবে, যার মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, এবং নিরীক্ষা ও তদন্ত সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং প্রয়োজনে এসব প্রয়োগমূলক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারত্ব করবে, যার মধ্যে লঙ্ঘন ঘটতে পারে এমন ক্ষেত্রে তথ্য ভাগাভাগি এবং শেষ-ব্যবহার যাচাই ও তদন্তে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত।

৫. বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ দ্বারা চিহ্নিত জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশগুলোর সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ শৃঙ্খলে সফটওয়্যার নকশা, উন্নয়ন এবং সরবরাহে সম্পৃক্ততা সীমিত করার চেষ্টা করবে এবং সম্ভব হলে এসব সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ষষ্ঠ ভাগ. বাণিজ্যিক বিবেচনা
১. বাংলাদেশ তার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ এবং সেবার ক্রয় বৃদ্ধি সহজতর করার চেষ্টা করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করে, পাশাপাশি অতিরিক্ত বিমান ক্রয়ের একটি অপশন রয়েছে।

২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তি করার, ক্রয় বা বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় সহজতর করার চেষ্টা করবে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার হবে।

৩. বাংলাদেশ তার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ক্রয় বা বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় সহজতর করার চেষ্টা করবে, যার মধ্যে গম (পাঁচ বছরের জন্য প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন), সয়াবিন এবং সয়াজাত পণ্য (এক বছরে অন্তত ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ লাখ টন, যেটি কম), এবং তুলা অন্তর্ভুক্ত, যার মোট আনুমানিক মূল্য হবে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

৪. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বৃদ্ধির চেষ্টা করবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সীমিত করবে।

৫. বাংলাদেশ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ডব্লিউটিও অ্যাগ্রিমেন্ট অন সাবসিডিজ অ্যান্ড কাউন্টারভেইলিং মেজার্সের অনুচ্ছেদ ২৫.১ অনুযায়ী প্রদত্ত সকল ভর্তুকি সম্পর্কে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ নোটিফিকেশন জমা দেবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (১০)

আপডেট সময় : ০১:৫০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (১০)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণ
অনুচ্ছেদ ১.২৭: শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণ
১. বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে অন্য ব্যক্তিগত পক্ষের কাছে পণ্য পরিবহনের জন্য জারি করা বিল অব লেডিংয়ের আইনগত বৈধতা অস্বীকার করবে না শুধু এই ভিত্তিতে যে বিল অব লেডিংটি ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে রয়েছে।

২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের দ্বারা বাংলাদেশ কাস্টমসে (রাজস্ব বোর্ড) জমা দেওয়া তথ্যকে অননুমোদিত প্রকাশ থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে।

৩. যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এক্সপ্রেস চালানের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের ইমিডিয়েট রিলিজ গাইডলাইনস বাস্তবায়ন করবে, যাতে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্যাকেজগুলো আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামে স্থানান্তর ছাড়াই খালাস হয়।

৪. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনকারী বা তাদের প্রতিনিধিদের ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট (আইজিএম) তথ্য নিবন্ধনের পর সংশোধনের অনুরোধ করতে সহায়তা করবে এবং সেই অনুরোধসমূহ বাংলাদেশ কাস্টমস দ্বারা মূল্যায়নের সুবিধা প্রদান করবে।

৫. বাংলাদেশ তথ্য প্রকাশ এবং প্রাপ্যতা সম্পর্কিত ডব্লিউটিও অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের (টিএফএ) ১.৪ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

৬. বাংলাদেশ জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেড-১৯৯৪-এর অনুচ্ছেদ-৭ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার জাতীয় কাস্টমস মূল্যায়ন আইন এবং বিষয়সমূহের চেকলিস্টের উত্তর ডব্লিউটিওতে জমা দেবে।

৭. বাংলাদেশ একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বা বজায় রাখবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মাংস, পোলট্রি, সিলুরিফরমিস এবং ডিম পণ্যের রপ্তানির জন্য মার্কিন কৃষি দপ্তরের খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিদর্শন পরিষেবা থেকে সিস্টেম-টু-সিস্টেম ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেশন ডেটা গ্রহণ করবে, উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মত সময়সীমার মধ্যে।

দ্বিতীয় ভাগ: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি
১. বাংলাদেশ গ্লোবাল ক্রসবর্ডার প্রাইভেসি রুলস (সিবিপিআর) সিস্টেম এবং গ্লোবাল প্রাইভেসি রিকগনিশন ফর প্রসেসরস (পিআরপি) সিস্টেম সার্টিফিকেশনকে তার আইনগত কাঠামোর অধীনে বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, যাতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে এবং সম্মতি ব্যয় কমিয়ে সীমান্তপারের ডেটা স্থানান্তর করা যায়।

২. বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার পরামর্শ বৃদ্ধি করবে এবং নিশ্চিত করবে যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও সংশোধনের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়।

৩. বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করবে এবং সাইবার অপরাধের জন্য কঠোরতর শাস্তি আরোপের উদ্দেশ্যে প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করবে।

৪. বাংলাদেশ ২০২১ সালের রেগুলেশন ফর ডিজিটাল, স্যোশাল মিডিয়া অ্যান্ড ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফরমস সংশোধন বা বাতিল করবে, যাতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড সেবার ক্ষেত্রে ট্রেসেবিলিটির প্রয়োজনীয়তা এবং সেবা প্রদানকারীদের সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এনক্রিপশন কি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা অপসারণ হয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত হয়।

৫. বাংলাদেশ:-

(ক) আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) রেগুলেশনসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের (৬.৪২৫-৭. ১২৫ গিগাহার্টজ) ওপরের ৬০০-৭০০ মেগাহার্টজ অংশকে লাইসেন্সমুক্ত ওয়্যারলেস/রেডিও লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ডব্লিউল্যান/আরল্যান) প্রযুক্তির জন্য লো পাওয়ার ইনডোর (এলপিআই) এবং ভেরি লো পাওয়ার (ভিএলপি) ডিভাইস শ্রেণির জন্য উন্মুক্ত করবে; এবং

(খ) ৬ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ডের (৫.৯২৫-৭. ১২৫ গিগাহার্টজ) ১১০০-১২০০ মেগাহার্টজ অংশে কার্যরত ডব্লিউল্যান/আরল্যান ডিভাইসের সার্টিফিকেশনের জন্য হোমোলোগ্যাশন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করবে, যা ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ওপরের অংশ লো পাওয়ার ডব্লিউল্যান/আরল্যান ডিভাইসের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) রেগুলেশনসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশনের ৩০ দিনের মধ্যে করা হবে।

তৃতীয় ভাগ: অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা
১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার বন্দর, বন্দর টার্মিনাল এবং লজিস্টিক ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক এবং তার বাণিজ্যিক নৌবহর এমন ডিজিটাল লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যা উপযুক্ত সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষা, তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ থেকে সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা, এবং অন্যান্য বিদেশি সরকারের দ্বারা ডেটা-অ্যাক্সেস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

২. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনসের (ইএআর) অধীন যুক্তরাষ্ট্র-উৎপাদিত বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অননুমোদিত রপ্তানি, পুনঃরপ্তানি এবং দেশের অভ্যন্তরে স্থানান্তর সীমিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যদি না রপ্তানিকারক মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) থেকে পুনঃরপ্তানি অনুমোদন উপস্থাপন করে বা প্রমাণ করে যে বিআইএস অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষ ইএআর-এর অধীন পণ্যসমূহ সম্পর্কে সহযোগিতা করবে এবং তথ্য বিনিময় করবে।

৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র-উৎপাদিত বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত তার কাস্টমস এবং লেনদেন তথ্য যাচাই এবং ভাগাভাগি করবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের, যার মধ্যে বিআইএস বা তার প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত, উদ্বেগজনক লেনদেন শনাক্ত করা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।

৪. বাংলাদেশ দেশীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োগ প্রক্রিয়া উন্নয়ন করবে, যার মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, এবং নিরীক্ষা ও তদন্ত সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং প্রয়োজনে এসব প্রয়োগমূলক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারত্ব করবে, যার মধ্যে লঙ্ঘন ঘটতে পারে এমন ক্ষেত্রে তথ্য ভাগাভাগি এবং শেষ-ব্যবহার যাচাই ও তদন্তে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত।

৫. বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ দ্বারা চিহ্নিত জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশগুলোর সংবেদনশীল প্রযুক্তির সরবরাহ শৃঙ্খলে সফটওয়্যার নকশা, উন্নয়ন এবং সরবরাহে সম্পৃক্ততা সীমিত করার চেষ্টা করবে এবং সম্ভব হলে এসব সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ষষ্ঠ ভাগ. বাণিজ্যিক বিবেচনা
১. বাংলাদেশ তার জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ এবং সেবার ক্রয় বৃদ্ধি সহজতর করার চেষ্টা করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করে, পাশাপাশি অতিরিক্ত বিমান ক্রয়ের একটি অপশন রয়েছে।

২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তি করার, ক্রয় বা বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় সহজতর করার চেষ্টা করবে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার হবে।

৩. বাংলাদেশ তার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ক্রয় বা বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে ক্রয় সহজতর করার চেষ্টা করবে, যার মধ্যে গম (পাঁচ বছরের জন্য প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন), সয়াবিন এবং সয়াজাত পণ্য (এক বছরে অন্তত ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ লাখ টন, যেটি কম), এবং তুলা অন্তর্ভুক্ত, যার মোট আনুমানিক মূল্য হবে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

৪. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বৃদ্ধির চেষ্টা করবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সীমিত করবে।

৫. বাংলাদেশ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ডব্লিউটিও অ্যাগ্রিমেন্ট অন সাবসিডিজ অ্যান্ড কাউন্টারভেইলিং মেজার্সের অনুচ্ছেদ ২৫.১ অনুযায়ী প্রদত্ত সকল ভর্তুকি সম্পর্কে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ নোটিফিকেশন জমা দেবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ