ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৩)

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২২ বার পড়া হয়েছে

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৩)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

চতুর্থ ভাগ: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা
অনুচ্ছেদ ৪.১: পরিপূরক ব্যবস্থা:-

১. যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সীমান্তব্যবস্থা বা অন্যান্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয় এবং মনে করে যে, এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সেই ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করবে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এবং পক্ষসমূহের মধ্যে পরামর্শের পর, বাংলাদেশ তার আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সমর্থনে একটি পরিপূরক সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে।

২. বাংলাদেশ এমন ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত তৃতীয় দেশের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মোকাবিলা করে, যার ফলে—(ক) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি; (খ) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি; (গ) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস; অথবা (ঘ) তৃতীয় দেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের কম এমন পণ্যের বিষয়ে তথ্য দেবে।

অনুচ্ছেদ ৪.২: রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
১. বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান বহুপক্ষীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে; এমন প্রযুক্তি ও পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে এবং নিশ্চিত করবে যে তার কোম্পানিগুলো এই নিয়ন্ত্রণসমূহকে প্রতিস্থাপন বা দুর্বল করবে না।

২. যুক্তরাষ্ট্রে বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত লেনদেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা সীমিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ আইনের প্রযোজ্য শর্তাবলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অনুমোদিত উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

৩. অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আগত বিনিয়োগ সম্পর্কে তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করবে।

৪. যদি যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করে যে বাংলাদেশ যৌথ জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়গুলো মোকাবিলায় সহযোগিতা করছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পর্যালোচনা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত তার আইন ও বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতাকে বিবেচনায় নিতে পারে।

অনুচ্ছেদ ৪.৩: অন্যান্য ব্যবস্থা
১. যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সহজতর ও উন্নত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে।

২. বাংলাদেশ বাজার অর্থনীতির দেশগুলোর দ্বারা জাহাজ নির্মাণ ও নৌপরিবহনকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবস্থা নেবে। পক্ষসমূহ এ ধরনের ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ করবে।

৩. বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করবে।

৪. যদি বাংলাদেশ কোনো অ-বাজার অর্থনীতির দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তিতে প্রবেশ করে, যা এই চুক্তিকে ক্ষুণ্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

৫. বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয় করবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তবে এমন মালিকানাধীন উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে, যার কোনো বিকল্প সরবরাহকারী বা প্রযুক্তি নেই অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

পঞ্চম ভাগ: বাণিজ্যিক বিবেচনা এবং সুযোগসমূহ:- অনুচ্ছেদ ৫.১: বিনিয়োগঃ-

১. বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকে অনুমতি ও সহায়তা দেবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসম্পদের অনুসন্ধান, খনন, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানি করা যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামো সেবা দেওয়া যায়, এমন শর্তে, যা অনুরূপ পরিস্থিতিতে তার নিজস্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত শর্তের চেয়ে কম অনুকূল নয় এবং এসব বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মান বজায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করবে।

২. যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে, যেমন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (এক্সিম ব্যাংক) ও মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সহযোগিতা (ডিএফসি), প্রযোজ্য হলে প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ অর্থায়ন সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগকে সম্ভবপর পরিমাণে সহজতর করবে।

অনুচ্ছেদ ৫.২: বাণিজ্যিক বিবেচনা:-

১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার রাষ্ট্রায়ত্ত বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসমূহ (এসওই) ও তার বাজারে পরিচালিত তৃতীয় দেশের এসওইসমূহ, যখন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তখন (ক) পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করে; (খ) যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বা সেবার বিরুদ্ধে বৈষম্য করা থেকে বিরত থাকে; এবং (গ) দেশীয় পণ্য উৎপাদকদের ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যতিক্রম হবে। বাংলাদেশ তার পণ্য উৎপাদনকারী এসওইসমূহকে অ-বাণিজ্যিক সহায়তা প্রদান বা অন্যভাবে ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকবে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে, অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ছাড়া কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত সকল প্রকার অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবে এবং এসব ভর্তুকি ও সহায়তা ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবসমূহ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেবে।

অনুচ্ছেদ ৫.৩: বস্ত্র:-

যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাক পণ্যসমূহকে শূন্য পারস্পরিক শুল্কহারের সুবিধা দিতে সক্ষম হবে। এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত হবে যে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্র আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে এই হ্রাসকৃত শুল্কহারে প্রবেশ করতে পারবে, তবে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বস্ত্র রপ্তানির, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তুভিত্তিক বস্ত্র উপাদান ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।

অনুচ্ছেদ ৫.৪: ক্রয়:-

পরিশিষ্ট ৩-এর ষষ্ঠ ভাগে বর্ণিত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উৎপত্তিগত পণ্য ক্রয় করবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৩)

আপডেট সময় : ০১:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৩)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

চতুর্থ ভাগ: অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা
অনুচ্ছেদ ৪.১: পরিপূরক ব্যবস্থা:-

১. যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সীমান্তব্যবস্থা বা অন্যান্য বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেয় এবং মনে করে যে, এমন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বা জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সেই ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করবে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এবং পক্ষসমূহের মধ্যে পরামর্শের পর, বাংলাদেশ তার আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সমর্থনে একটি পরিপূরক সীমাবদ্ধতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা বজায় রাখবে।

২. বাংলাদেশ এমন ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে, যা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত তৃতীয় দেশের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মোকাবিলা করে, যার ফলে—(ক) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি; (খ) যুক্তরাষ্ট্রে বাজারমূল্যের কমে পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি; (গ) বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস; অথবা (ঘ) তৃতীয় দেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হ্রাস ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাজারমূল্যের কম এমন পণ্যের বিষয়ে তথ্য দেবে।

অনুচ্ছেদ ৪.২: রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগ নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি
১. বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান বহুপক্ষীয় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে; এমন প্রযুক্তি ও পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে এবং নিশ্চিত করবে যে তার কোম্পানিগুলো এই নিয়ন্ত্রণসমূহকে প্রতিস্থাপন বা দুর্বল করবে না।

২. যুক্তরাষ্ট্রে বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত লেনদেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা সীমিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ আইনের প্রযোজ্য শর্তাবলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অনুমোদিত উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

৩. অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আগত বিনিয়োগ সম্পর্কে তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করবে।

৪. যদি যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করে যে বাংলাদেশ যৌথ জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়গুলো মোকাবিলায় সহযোগিতা করছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পর্যালোচনা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত তার আইন ও বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেই সহযোগিতাকে বিবেচনায় নিতে পারে।

অনুচ্ছেদ ৪.৩: অন্যান্য ব্যবস্থা
১. যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সহজতর ও উন্নত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে।

২. বাংলাদেশ বাজার অর্থনীতির দেশগুলোর দ্বারা জাহাজ নির্মাণ ও নৌপরিবহনকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবস্থা নেবে। পক্ষসমূহ এ ধরনের ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ করবে।

৩. বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করবে।

৪. যদি বাংলাদেশ কোনো অ-বাজার অর্থনীতির দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তিতে প্রবেশ করে, যা এই চুক্তিকে ক্ষুণ্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

৫. বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয় করবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তবে এমন মালিকানাধীন উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে, যার কোনো বিকল্প সরবরাহকারী বা প্রযুক্তি নেই অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

পঞ্চম ভাগ: বাণিজ্যিক বিবেচনা এবং সুযোগসমূহ:- অনুচ্ছেদ ৫.১: বিনিয়োগঃ-

১. বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকে অনুমতি ও সহায়তা দেবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানিসম্পদের অনুসন্ধান, খনন, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানি করা যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামো সেবা দেওয়া যায়, এমন শর্তে, যা অনুরূপ পরিস্থিতিতে তার নিজস্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত শর্তের চেয়ে কম অনুকূল নয় এবং এসব বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মান বজায় রেখে নিয়ন্ত্রণ করবে।

২. যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে, যেমন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (এক্সিম ব্যাংক) ও মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সহযোগিতা (ডিএফসি), প্রযোজ্য হলে প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ অর্থায়ন সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

৩. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগকে সম্ভবপর পরিমাণে সহজতর করবে।

অনুচ্ছেদ ৫.২: বাণিজ্যিক বিবেচনা:-

১. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে তার রাষ্ট্রায়ত্ত বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসমূহ (এসওই) ও তার বাজারে পরিচালিত তৃতীয় দেশের এসওইসমূহ, যখন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তখন (ক) পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করে; (খ) যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বা সেবার বিরুদ্ধে বৈষম্য করা থেকে বিরত থাকে; এবং (গ) দেশীয় পণ্য উৎপাদকদের ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যতিক্রম হবে। বাংলাদেশ তার পণ্য উৎপাদনকারী এসওইসমূহকে অ-বাণিজ্যিক সহায়তা প্রদান বা অন্যভাবে ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকবে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে, অ-বাণিজ্যিক জনকল্যাণমূলক পণ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ছাড়া কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত সকল প্রকার অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবে এবং এসব ভর্তুকি ও সহায়তা ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবসমূহ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেবে।

অনুচ্ছেদ ৫.৩: বস্ত্র:-

যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাক পণ্যসমূহকে শূন্য পারস্পরিক শুল্কহারের সুবিধা দিতে সক্ষম হবে। এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত হবে যে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক ও বস্ত্র আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে এই হ্রাসকৃত শুল্কহারে প্রবেশ করতে পারবে, তবে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বস্ত্র রপ্তানির, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তুভিত্তিক বস্ত্র উপাদান ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে।

অনুচ্ছেদ ৫.৪: ক্রয়:-

পরিশিষ্ট ৩-এর ষষ্ঠ ভাগে বর্ণিত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উৎপত্তিগত পণ্য ক্রয় করবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ