ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৭)

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০৩৯ বার পড়া হয়েছে

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৭)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

অনুচ্ছেদ ১.৯: হালাল সনদপত্র:-
যদি বাংলাদেশ হালাল সনদপত্র প্রয়োজনীয়তা রাখে, তাহলে বাংলাদেশ এমন যেকোনো যুক্তরাষ্ট্রের হালাল সনদদাতাকে অনুমোদন দেবে, যা বাংলাদেশের হালাল প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে, যাতে তারা অতিরিক্ত কোনো শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশে আমদানির জন্য পণ্যকে হালাল হিসেবে সনদ প্রদান করতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১.১০: সর্বোচ্চ অবশিষ্ট মাত্রা (এমআরএলসমূহ)
১. বিজ্ঞানভিত্তিক এবং ঝুঁকিভিত্তিক এমআরএল নির্ধারণের গুরুত্ব স্বীকার করে, এমন ক্ষেত্রে যেখানে বাংলাদেশ কোনো এমআরএল নির্ধারণ করেনি, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের সহনীয় মাত্রা (টলারেন্স) স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংশ্লিষ্ট সহনীয় মাত্রা বজায় না রাখে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কোডেক্স অ্যালিমেনটারিয়াস (কোডেক্স) এমআরএল স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে।

২. প্রাসঙ্গিক এমআরএল-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যতার কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ প্রয়োজন হলে শুধু সেই সত্তার ওপর উন্নত, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি প্রয়োগ করবে, যা অসামঞ্জস্যতার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সত্তাকে অভিযোগ লঙ্ঘনের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন বা সমাধানের সুযোগও প্রদান করবে।

৩. বাংলাদেশ এমআরএল অসামঞ্জস্যতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সত্তাগুলোর স্থগিতাদেশ শুধু দায়ী সত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে এবং শুধু একাধিকবার অসামঞ্জস্যতার ঘটনার পর তা প্রয়োগ করবে।

৪. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে এমআরএল-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সূচক অবশিষ্টাংশ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি এমআরএল, যুক্তরাষ্ট্রের সহনীয় মাত্রা বা প্রয়োগকৃত কোডেক্স এমআরএল নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত মৌলিক ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নিশ্চিত করবে যে পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সূচক অবশিষ্টাংশ স্বচ্ছভাবে জানানো হবে।

অনুচ্ছেদ ১.১১: উদ্ভিদ এবং উদ্ভিদজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার
১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশে জমা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজার প্রবেশাধিকার অনুরোধগুলোর ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ বাজার প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং অনুরোধগুলো জমা দেওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে আমদানি অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রোটোকল বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাবে।

২. কীটপতঙ্গ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মান হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফর ফাইটোস্যানিটারি মেজারস ১৪ (আইএসপিএম ১৪) স্বীকৃতি দিয়ে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদজাত পণ্য বাংলাদেশে আমদানির জন্য সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ প্রোটোকলের ব্যবহার গ্রহণ করবে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদজাত পণ্যের সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ সংক্রান্ত অনুরোধগুলো মন্ত্রণালয় ২৪ মাসের মধ্যে একটি সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ প্রোটোকলে সম্মত হবে।

আমদানি লাইসেন্সিং
অনুচ্ছেদ ১.১২: আমদানি লাইসেন্সিং
১. বাংলাদেশ আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতি সম্পর্কিত তার বার্ষিক প্রশ্নপত্র অ্যাগ্রিমেন্ট অন ইমপোর্ট লাইসেন্সিং প্রসিডিউরসের অনুচ্ছেদ ৭.৩ অনুযায়ী অবিলম্বে ডব্লিউটিওতে জমা দেবে।

২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যপণ্য বা কৃষিপণ্য পাঠানোর পূর্বে কোনো আমদানি অনুমতিপত্র বা ঋণপত্রের (লেটার অব ক্রেডিট) প্রয়োজনীয়তা রাখবে না।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ
অনুচ্ছেদ ১.১৩: ভৌগোলিক নির্দেশক
আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনসহ ভৌগোলিক নির্দেশকের সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-

(ক) পরীক্ষা, আপত্তি ও বাতিলকরণের জন্য স্বচ্ছ এবং ন্যায্য পদ্ধতি নিশ্চিত করবে, যার মধ্যে অনুবাদ বা ট্রান্সলিটারেশন সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত;

(খ) প্রত্যাখ্যান, আপত্তি এবং বাতিলকরণের ভিত্তির মধ্যে পূর্ববর্তী ট্রেডমার্কের সঙ্গে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য তার ভূখণ্ডে সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম হিসেবে শব্দটির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করবে;

(গ) কোন উপাদান বা উপাদানসমূহ সুরক্ষিত হচ্ছে এবং কোনগুলো সুরক্ষিত হচ্ছে না, তা সর্বসাধারণের জন্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করবে;

(ঘ) বহু উপাদানবিশিষ্ট কোনো শব্দের পৃথক কোনো উপাদানকে সুরক্ষা প্রদান করবে না, যদি সেই পৃথক উপাদান তার ভূখণ্ডে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়;

(ঙ) তার ভূখণ্ডে সুরক্ষিত বা স্বীকৃত ভৌগোলিক নির্দেশকের প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো শব্দ, চিহ্ন বা চিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রতিরোধ করবে না; এবং

(চ) কোনো শব্দ তার ভূখণ্ডে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, ভোক্তারা শব্দটি কীভাবে বোঝে তা বিবেচনায় নেওয়ার সক্ষমতা রাখবে এবং স্বীকার করবে যে সেই ভোক্তা বোঝাপড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়সমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

* শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কি না, যেমন অভিধান, সংবাদপত্র এবং প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের মতো যোগ্য উৎস দ্বারা নির্দেশিত;

* শব্দ দ্বারা নির্দেশিত পণ্যটি তার ভূখণ্ডে কীভাবে বাজারজাত এবং বাণিজ্যে ব্যবহৃত হয়;

* শব্দটি প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মানে তার ভূখণ্ডে কোনো পণ্যের ধরন বা শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কি না, যেমন কোডেক্স দ্বারা প্রণীত মান অনুসারে;

* যে ব্যক্তি শব্দটির ওপর অধিকার দাবি করে, তার বাইরে অন্য ব্যক্তিরা শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকারের নাম হিসেবে ব্যবহার করে কি না;

* সংশ্লিষ্ট পণ্যটি তার ভূখণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অন্য কোনো স্থান থেকে আমদানি করা হয় কি না, যা আবেদন বা পিটিশনে চিহ্নিত ভূখণ্ডের বাইরে এবং সেই আমদানিকৃত পণ্যগুলো ওই শব্দ দ্বারা নামকরণ করা হয় কি না; এবং

* শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যটি আবেদন বা পিটিশনে চিহ্নিত ভূখণ্ডের বাইরে অন্য কোনো স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত বা বাণিজ্য করা হয় কি না।

অনুচ্ছেদ ১.১৪: আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ
বাংলাদেশ নিম্নলিখিত প্রতিটি চুক্তিতে অনুসমর্থন বা অন্তর্ভুক্ত হবে, যদি সে ইতিমধ্যে এসব চুক্তির পক্ষ না হয়ে থাকে এবং নিচে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রতিটি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে:

(ক) বার্ন কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব লিবার্টি অ্যান্ড আর্টিস্টিক ওয়ার্কস, যা ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৮৬ তারিখে বার্ন-এ গৃহীত এবং ২৪ জুলাই ১৯৭১ তারিখে প্যারিসে সংশোধিত;

(খ) বুদাপেস্ট ট্রিটি অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অব দ্য ডিপোজিট অব দ্য মাইক্রোঅর্গানিজমস ফর দ্য পারপাসেস অব পেটেন্ট প্রসিডিউর, যা ২৮ এপ্রিল ১৯৭৭ তারিখে বুদাপেস্টে গৃহীত এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ তারিখে সংশোধিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(গ) জেনেভা অ্যাক্ট অব দ্য হেগ অ্যাগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনস, যা ২ জুলাই ১৯৯৯ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঘ) প্রটোকল রিলেটিং টু দ্য মাদ্রিদ অ্যাগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব দ্য মার্কস, যা ২৭ জুন ১৯৮৯ তারিখে মাদ্রিদে গৃহীত। ৩ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঙ) মারাক্কেশ ট্রিটি টু দ্য ফ্যাসিলিটেট অ্যাকসেস টু পাবলিশড ওয়ার্কস ফর পারসন হু আর ব্লাইন্ড, ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড অর আদারওয়াইজ প্রিন্ট ডিজঅ্যাবলড, যা ২৭ জুন ২০১৩ তারিখে মারাক্কেশে গৃহীত;

(চ) প্যারিস কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোপার্টি, যা ২০ মার্চ ১৮৮৩ তারিখে প্যারিসে গৃহীত এবং ১৪ জুলাই ১৯৬৭ তারিখে স্টকহোমে সংশোধিত;

(ছ) পেটেন্ট কোঅপারেশন ট্রিটি, যা ১৯ জুন ১৯৭০ তারিখে ওয়াশিংটনে গৃহীত, ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ তারিখে সংশোধিত এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ তারিখে পরিবর্তিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(জ) পেটেন্ট ল ট্রিটি, যা ১ জুন ২০০০ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঝ) সিঙ্গাপুর ট্রিটি অন দ্য ল অব ট্রেডমার্কস, যা ২৭ মার্চ ২০০৬ তারিখে সিঙ্গাপুরে গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঞ) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব নিউ ভ্যারাইটিজ অব প্ল্যান্টস, যা ২ ডিসেম্বর ১৯৬১ তারিখে প্যারিসে গৃহীত এবং ১৯ মার্চ ১৯৯১ তারিখে জেনেভায় সংশোধিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ট) ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও) কপিরাইট ট্রিটি, যা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে; এবং

(ঠ) ডব্লিউআইপিও পারফরম্যান্সেস অ্যান্ড ফনোগ্রামস ট্রিটি, যা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৭)

আপডেট সময় : ০১:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৭)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

অনুচ্ছেদ ১.৯: হালাল সনদপত্র:-
যদি বাংলাদেশ হালাল সনদপত্র প্রয়োজনীয়তা রাখে, তাহলে বাংলাদেশ এমন যেকোনো যুক্তরাষ্ট্রের হালাল সনদদাতাকে অনুমোদন দেবে, যা বাংলাদেশের হালাল প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে, যাতে তারা অতিরিক্ত কোনো শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশে আমদানির জন্য পণ্যকে হালাল হিসেবে সনদ প্রদান করতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১.১০: সর্বোচ্চ অবশিষ্ট মাত্রা (এমআরএলসমূহ)
১. বিজ্ঞানভিত্তিক এবং ঝুঁকিভিত্তিক এমআরএল নির্ধারণের গুরুত্ব স্বীকার করে, এমন ক্ষেত্রে যেখানে বাংলাদেশ কোনো এমআরএল নির্ধারণ করেনি, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের সহনীয় মাত্রা (টলারেন্স) স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংশ্লিষ্ট সহনীয় মাত্রা বজায় না রাখে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কোডেক্স অ্যালিমেনটারিয়াস (কোডেক্স) এমআরএল স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে।

২. প্রাসঙ্গিক এমআরএল-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যতার কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ প্রয়োজন হলে শুধু সেই সত্তার ওপর উন্নত, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি প্রয়োগ করবে, যা অসামঞ্জস্যতার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সত্তাকে অভিযোগ লঙ্ঘনের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন বা সমাধানের সুযোগও প্রদান করবে।

৩. বাংলাদেশ এমআরএল অসামঞ্জস্যতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সত্তাগুলোর স্থগিতাদেশ শুধু দায়ী সত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে এবং শুধু একাধিকবার অসামঞ্জস্যতার ঘটনার পর তা প্রয়োগ করবে।

৪. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে এমআরএল-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সূচক অবশিষ্টাংশ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি এমআরএল, যুক্তরাষ্ট্রের সহনীয় মাত্রা বা প্রয়োগকৃত কোডেক্স এমআরএল নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত মৌলিক ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নিশ্চিত করবে যে পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সূচক অবশিষ্টাংশ স্বচ্ছভাবে জানানো হবে।

অনুচ্ছেদ ১.১১: উদ্ভিদ এবং উদ্ভিদজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার
১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশে জমা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজার প্রবেশাধিকার অনুরোধগুলোর ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ বাজার প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং অনুরোধগুলো জমা দেওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে আমদানি অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রোটোকল বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাবে।

২. কীটপতঙ্গ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মান হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফর ফাইটোস্যানিটারি মেজারস ১৪ (আইএসপিএম ১৪) স্বীকৃতি দিয়ে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদজাত পণ্য বাংলাদেশে আমদানির জন্য সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ প্রোটোকলের ব্যবহার গ্রহণ করবে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভিদজাত পণ্যের সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ সংক্রান্ত অনুরোধগুলো মন্ত্রণালয় ২৪ মাসের মধ্যে একটি সিস্টেমস অ্যাপ্রোচ প্রোটোকলে সম্মত হবে।

আমদানি লাইসেন্সিং
অনুচ্ছেদ ১.১২: আমদানি লাইসেন্সিং
১. বাংলাদেশ আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতি সম্পর্কিত তার বার্ষিক প্রশ্নপত্র অ্যাগ্রিমেন্ট অন ইমপোর্ট লাইসেন্সিং প্রসিডিউরসের অনুচ্ছেদ ৭.৩ অনুযায়ী অবিলম্বে ডব্লিউটিওতে জমা দেবে।

২. বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যপণ্য বা কৃষিপণ্য পাঠানোর পূর্বে কোনো আমদানি অনুমতিপত্র বা ঋণপত্রের (লেটার অব ক্রেডিট) প্রয়োজনীয়তা রাখবে না।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ
অনুচ্ছেদ ১.১৩: ভৌগোলিক নির্দেশক
আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনসহ ভৌগোলিক নির্দেশকের সুরক্ষা বা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-

(ক) পরীক্ষা, আপত্তি ও বাতিলকরণের জন্য স্বচ্ছ এবং ন্যায্য পদ্ধতি নিশ্চিত করবে, যার মধ্যে অনুবাদ বা ট্রান্সলিটারেশন সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত;

(খ) প্রত্যাখ্যান, আপত্তি এবং বাতিলকরণের ভিত্তির মধ্যে পূর্ববর্তী ট্রেডমার্কের সঙ্গে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য তার ভূখণ্ডে সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম হিসেবে শব্দটির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করবে;

(গ) কোন উপাদান বা উপাদানসমূহ সুরক্ষিত হচ্ছে এবং কোনগুলো সুরক্ষিত হচ্ছে না, তা সর্বসাধারণের জন্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করবে;

(ঘ) বহু উপাদানবিশিষ্ট কোনো শব্দের পৃথক কোনো উপাদানকে সুরক্ষা প্রদান করবে না, যদি সেই পৃথক উপাদান তার ভূখণ্ডে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়;

(ঙ) তার ভূখণ্ডে সুরক্ষিত বা স্বীকৃত ভৌগোলিক নির্দেশকের প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো শব্দ, চিহ্ন বা চিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রতিরোধ করবে না; এবং

(চ) কোনো শব্দ তার ভূখণ্ডে সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য সাধারণ ভাষায় প্রচলিত নাম কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, ভোক্তারা শব্দটি কীভাবে বোঝে তা বিবেচনায় নেওয়ার সক্ষমতা রাখবে এবং স্বীকার করবে যে সেই ভোক্তা বোঝাপড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়সমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

* শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কি না, যেমন অভিধান, সংবাদপত্র এবং প্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটের মতো যোগ্য উৎস দ্বারা নির্দেশিত;

* শব্দ দ্বারা নির্দেশিত পণ্যটি তার ভূখণ্ডে কীভাবে বাজারজাত এবং বাণিজ্যে ব্যবহৃত হয়;

* শব্দটি প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মানে তার ভূখণ্ডে কোনো পণ্যের ধরন বা শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় কি না, যেমন কোডেক্স দ্বারা প্রণীত মান অনুসারে;

* যে ব্যক্তি শব্দটির ওপর অধিকার দাবি করে, তার বাইরে অন্য ব্যক্তিরা শব্দটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকারের নাম হিসেবে ব্যবহার করে কি না;

* সংশ্লিষ্ট পণ্যটি তার ভূখণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অন্য কোনো স্থান থেকে আমদানি করা হয় কি না, যা আবেদন বা পিটিশনে চিহ্নিত ভূখণ্ডের বাইরে এবং সেই আমদানিকৃত পণ্যগুলো ওই শব্দ দ্বারা নামকরণ করা হয় কি না; এবং

* শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যটি আবেদন বা পিটিশনে চিহ্নিত ভূখণ্ডের বাইরে অন্য কোনো স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত বা বাণিজ্য করা হয় কি না।

অনুচ্ছেদ ১.১৪: আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহ
বাংলাদেশ নিম্নলিখিত প্রতিটি চুক্তিতে অনুসমর্থন বা অন্তর্ভুক্ত হবে, যদি সে ইতিমধ্যে এসব চুক্তির পক্ষ না হয়ে থাকে এবং নিচে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রতিটি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে:

(ক) বার্ন কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব লিবার্টি অ্যান্ড আর্টিস্টিক ওয়ার্কস, যা ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৮৬ তারিখে বার্ন-এ গৃহীত এবং ২৪ জুলাই ১৯৭১ তারিখে প্যারিসে সংশোধিত;

(খ) বুদাপেস্ট ট্রিটি অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অব দ্য ডিপোজিট অব দ্য মাইক্রোঅর্গানিজমস ফর দ্য পারপাসেস অব পেটেন্ট প্রসিডিউর, যা ২৮ এপ্রিল ১৯৭৭ তারিখে বুদাপেস্টে গৃহীত এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ তারিখে সংশোধিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(গ) জেনেভা অ্যাক্ট অব দ্য হেগ অ্যাগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনস, যা ২ জুলাই ১৯৯৯ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঘ) প্রটোকল রিলেটিং টু দ্য মাদ্রিদ অ্যাগ্রিমেন্ট কনসার্নিং দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব দ্য মার্কস, যা ২৭ জুন ১৯৮৯ তারিখে মাদ্রিদে গৃহীত। ৩ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঙ) মারাক্কেশ ট্রিটি টু দ্য ফ্যাসিলিটেট অ্যাকসেস টু পাবলিশড ওয়ার্কস ফর পারসন হু আর ব্লাইন্ড, ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড অর আদারওয়াইজ প্রিন্ট ডিজঅ্যাবলড, যা ২৭ জুন ২০১৩ তারিখে মারাক্কেশে গৃহীত;

(চ) প্যারিস কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোপার্টি, যা ২০ মার্চ ১৮৮৩ তারিখে প্যারিসে গৃহীত এবং ১৪ জুলাই ১৯৬৭ তারিখে স্টকহোমে সংশোধিত;

(ছ) পেটেন্ট কোঅপারেশন ট্রিটি, যা ১৯ জুন ১৯৭০ তারিখে ওয়াশিংটনে গৃহীত, ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ তারিখে সংশোধিত এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ তারিখে পরিবর্তিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(জ) পেটেন্ট ল ট্রিটি, যা ১ জুন ২০০০ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঝ) সিঙ্গাপুর ট্রিটি অন দ্য ল অব ট্রেডমার্কস, যা ২৭ মার্চ ২০০৬ তারিখে সিঙ্গাপুরে গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ঞ) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব নিউ ভ্যারাইটিজ অব প্ল্যান্টস, যা ২ ডিসেম্বর ১৯৬১ তারিখে প্যারিসে গৃহীত এবং ১৯ মার্চ ১৯৯১ তারিখে জেনেভায় সংশোধিত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে;

(ট) ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও) কপিরাইট ট্রিটি, যা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে; এবং

(ঠ) ডব্লিউআইপিও পারফরম্যান্সেস অ্যান্ড ফনোগ্রামস ট্রিটি, যা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ তারিখে জেনেভায় গৃহীত। ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ