ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৮)

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০০৬ বার পড়া হয়েছে

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৮)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

পরিষেবা ও বিনিয়োগ
অনুচ্ছেদ ১.১৫: পরিষেবা
১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে, বাংলাদেশ সার্ভিসেস ডোমেস্টিক রেগুলেশন সংক্রান্ত জয়েন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগদান করবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে ডব্লিউটিও দ্বারা সার্টিফিকেশনের জন্য তার সংশোধিত স্পেসিফিক কমিটমেন্টস জমা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক রিইনস্যুরেন্স সেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা বাতিল করবে, যার মধ্যে মার্কিন বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের ব্যবসার অন্তত ৫০% সাধারণ বীমা করপোরেশনের সঙ্গে রিইনস্যুর করার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ১.১৬: বিনিয়োগ
১. বাংলাদেশ তেল ও গ্যাস, বিমা এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের জন্য তার বিদেশি ইকুইটি সীমা শিথিল করবে।

২. বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজতর করবে।

৩. বাংলাদেশ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে সেই অনুমোদন প্রক্রিয়াগুলোতে, যার মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা প্রচলিত বাজার বিনিময় হারে স্বাধীনভাবে ব্যবহারযোগ্য মুদ্রায় বিনিয়োগ-সম্পর্কিত মূলধন তার ভূখণ্ডে আনা-নেওয়া করতে পারে, যার মধ্যে অনুমোদনের সময়সীমা সম্পর্কিত স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৪. বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থায়ন কর্মসূচির অঙ্গীকার অনুযায়ী এবং অবিলম্বে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধ করবে।

পণ্য নিয়ন্ত্রক অনুশীলন ও স্বচ্ছতা
অনুচ্ছেদ ১.১৭: পণ্য নিয়ন্ত্রক অনুশীলন
কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যায়ে উত্তম নিয়ন্ত্রক চর্চা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ-

(ক) নিশ্চিত করবে যে আইন, বিধি, প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত প্রকাশিত হয় এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তিসাধ্য হয়;

(খ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহের পাঠ্য, সেই সাথে যেকোনো নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণ, বিধির ব্যাখ্যা এবং এর উদ্দেশ্য প্রকাশ করবে এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তিসাধ্য করবে;

(গ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহের জন্য স্বচ্ছ পদ্ধতিতে জনপরামর্শ গ্রহণ করবে; দেশীয় ও বিদেশি আগ্রহী ব্যক্তিদের মন্তব্য জমা দেওয়ার জন্য যথাযথ সময় প্রদান করবে, প্রস্তাবিত বিধির জটিলতা বা সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে; এবং প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনায় নেবে;

(ঘ) পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে যুক্তিসংগত পূর্ব নোটিশ প্রদান করবে এবং নিকট ভবিষ্যতে যেসব নিয়ন্ত্রক নীতির অগ্রাধিকার উন্নয়ন, সংশোধন বা বিলুপ্ত করা হবে তা প্রকাশ করবে;

(ঙ) বিধি প্রণয়ন ও উন্নয়নের সময়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত উচ্চমানের ডেটা, প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবহার করবে;

(চ) বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় বাধা এড়াতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মান, নির্দেশিকা এবং সুপারিশ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা সমর্থন করবে;

(ছ) কার্যকর বিধিসমূহের পর্যালোচনা করবে এই নির্ধারণের জন্য যে নতুন তথ্য বা অন্যান্য পরিবর্তন বিধির সংশোধন বা বাতিলের যৌক্তিকতা প্রদান করে কি না; এবং

(জ) বিধির প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের জন্য নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণের মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করবে, যা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিধির বিকল্প পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১.১৮: দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা
দুর্নীতি মোকাবিলার জন্য, বাংলাদেশ বিস্তৃত দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিমালা শক্তিশালীকরণ, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার জন্য স্পষ্ট শাস্তি ও পরিণতি নির্ধারণে; এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা জনকার্য সঠিকভাবে সম্পাদন এবং স্বার্থের সংঘাত পরিহারের জন্য আচরণবিধি গ্রহণ ও বজায় রাখবে। এ প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ, স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ, এবং নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন প্রদানের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য পোষণ করে।

শ্রমঃ-

অনুচ্ছেদ ১.১৯: শ্রম আইন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা:-

১. বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করবে এবং সমিতি/সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার সুরক্ষার জন্য বাস্তবায়ন বিধি প্রণয়ন করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-

(ক) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য ২০ শতাংশ নিবন্ধন সীমা এমন পর্যায়ে হ্রাস করা, যা ইউনিয়ন গঠনে বাধা সৃষ্টি করবে না;

(খ) কোনো ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিল করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শ্রম আদালতের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা;

(গ) ইউনিয়ন সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা সীমিত করা, যেমন কারখানার পরিচয়পত্র নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ;

(ঘ) ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য শুধু একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য উপস্থিত থাকবে এবং গঠনতন্ত্র গৃহীত হবে ও সভার কার্যবিবরণী জমা দেওয়া হবে;

(ঙ) ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য এবং অন্যায্য শ্রম অনুশীলনের (ইউএলপি) জন্য জরিমানার পরিমাণ এমন স্তরে বৃদ্ধি করা, যা নিয়োগকর্তাদের এ ধরনের কার্য থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হয়;

(চ) শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করাকে একটি ইউএলপি হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা এবং শ্রমিক ও ইউনিয়নসমূহকে সরাসরি বাংলাদেশ শ্রম আদালতে ইউএলপি মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া; এবং

(ছ) ধর্মঘটের অধিকারের ওপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা অপসারণ করা, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোনো সময়ের জন্য ধর্মঘটের অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত।

২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেডসমূহ) শ্রমিকেরা তাদের সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা এবং যৌথ দর-কষাকষির অধিকার সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে পারে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-

(ক) এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার দুই বছরের মধ্যে ইডিজেডসমূহকে শ্রম আইনের আওতাভুক্ত করা, যাতে শ্রমিকেরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যোগদান করতে পারে, অথবা ইপিজেড শ্রম আইনকে ব্যাপকভাবে সংস্কার করা, যাতে স্বাধীন ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ থাকে; এবং

(খ) ইপিজেড শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা, যা শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যাতে ধর্মঘটের অধিকারের ওপর কোনো অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা না থাকে, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোনো সময়ের জন্য ধর্মঘটের অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কঠোর শাস্তি অন্তর্ভুক্ত।

৩. বাংলাদেশ বৈধ ইউনিয়ন এবং প্রতিবাদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে পোশাকশ্রমিক এবং শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চলমান ফৌজদারি মামলাগুলো, প্রয়োজন অনুযায়ী, নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার করবে, যার মধ্যে ২০২৩ সালের ন্যূনতম মজুরিসংক্রান্ত শ্রম অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত।

৪. বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ এবং নিয়মিত ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে এবং এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে এবং পরবর্তীকালে প্রতিবছর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে এই প্রক্রিয়া প্রণয়নের সময় এবং পর্যালোচনা পরিচালনার সময় তাদের মতামত প্রদানের সুযোগ দেবে।

৫. শ্রমিকেরা যাতে কার্যকরভাবে তাদের সমিতি গঠনের স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য, বাংলাদেশ-

(ক) প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা পূরণকারী ইউনিয়ন আবেদনসমূহ ৫৫ দিনের আইনি সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে।

(খ) শ্রম অধিদপ্তরের বিদ্যমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে সকল মুলতবি আবেদনের অবস্থা প্রকাশ করবে; এবং

(গ) নিবন্ধনের জন্য মানসম্মত কার্যপ্রণালি সংশোধন করবে, যাতে শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করা হয় এবং তা সংশোধিত শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

৬. শ্রম আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগ সহজতর করার জন্য, বাংলাদেশ-

(ক) শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শ্রম পরিদর্শক পদ অনুমোদন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও নিয়োগদান এবং তাদের জন্য পদোন্নতির পথ নিশ্চিত করার জন্য বার্ষিক বাজেটে অধিক অর্থ বরাদ্দ করবে;

(খ) শ্রম পরিদর্শকদের অঘোষিত পরিদর্শন পরিচালনার ক্ষমতা ও সম্পদ নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশে সকল কর্মস্থলে, যার মধ্যে ইপিজেডসমূহ অন্তর্ভুক্ত, শ্রম আইন লঙ্ঘন, যার মধ্যে জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশুশ্রমসংক্রান্ত লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত, মোকাবিলার জন্য আইনি শাস্তি আরোপ করতে সক্ষম হবে;

(গ) দেশীয় শ্রম, অগ্নি বা ভবন মানদণ্ড এবং কোডসমূহ অনুসরণে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তি এমন স্তরে বৃদ্ধি করবে, যা লঙ্ঘন প্রতিরোধে সহায়ক হয়; এবং

(ঘ) শ্রম আইনের লঙ্ঘনসমূহ, যার মধ্যে ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ইউপিএলসমূহ অন্তর্ভুক্ত, দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি করবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৮)

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউনূচের দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তিতে যা আছে!? (৮)

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

পরিষেবা ও বিনিয়োগ
অনুচ্ছেদ ১.১৫: পরিষেবা
১. এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে, বাংলাদেশ সার্ভিসেস ডোমেস্টিক রেগুলেশন সংক্রান্ত জয়েন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগদান করবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে ডব্লিউটিও দ্বারা সার্টিফিকেশনের জন্য তার সংশোধিত স্পেসিফিক কমিটমেন্টস জমা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক রিইনস্যুরেন্স সেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা বাতিল করবে, যার মধ্যে মার্কিন বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের ব্যবসার অন্তত ৫০% সাধারণ বীমা করপোরেশনের সঙ্গে রিইনস্যুর করার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ১.১৬: বিনিয়োগ
১. বাংলাদেশ তেল ও গ্যাস, বিমা এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের জন্য তার বিদেশি ইকুইটি সীমা শিথিল করবে।

২. বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজতর করবে।

৩. বাংলাদেশ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে সেই অনুমোদন প্রক্রিয়াগুলোতে, যার মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা প্রচলিত বাজার বিনিময় হারে স্বাধীনভাবে ব্যবহারযোগ্য মুদ্রায় বিনিয়োগ-সম্পর্কিত মূলধন তার ভূখণ্ডে আনা-নেওয়া করতে পারে, যার মধ্যে অনুমোদনের সময়সীমা সম্পর্কিত স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৪. বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থায়ন কর্মসূচির অঙ্গীকার অনুযায়ী এবং অবিলম্বে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধ করবে।

পণ্য নিয়ন্ত্রক অনুশীলন ও স্বচ্ছতা
অনুচ্ছেদ ১.১৭: পণ্য নিয়ন্ত্রক অনুশীলন
কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যায়ে উত্তম নিয়ন্ত্রক চর্চা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ-

(ক) নিশ্চিত করবে যে আইন, বিধি, প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত প্রকাশিত হয় এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তিসাধ্য হয়;

(খ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহের পাঠ্য, সেই সাথে যেকোনো নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণ, বিধির ব্যাখ্যা এবং এর উদ্দেশ্য প্রকাশ করবে এবং অনলাইনে সহজে প্রাপ্তিসাধ্য করবে;

(গ) প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহের জন্য স্বচ্ছ পদ্ধতিতে জনপরামর্শ গ্রহণ করবে; দেশীয় ও বিদেশি আগ্রহী ব্যক্তিদের মন্তব্য জমা দেওয়ার জন্য যথাযথ সময় প্রদান করবে, প্রস্তাবিত বিধির জটিলতা বা সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে; এবং প্রাপ্ত মন্তব্যসমূহ বিবেচনায় নেবে;

(ঘ) পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে যুক্তিসংগত পূর্ব নোটিশ প্রদান করবে এবং নিকট ভবিষ্যতে যেসব নিয়ন্ত্রক নীতির অগ্রাধিকার উন্নয়ন, সংশোধন বা বিলুপ্ত করা হবে তা প্রকাশ করবে;

(ঙ) বিধি প্রণয়ন ও উন্নয়নের সময়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত উচ্চমানের ডেটা, প্রমাণ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবহার করবে;

(চ) বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় বাধা এড়াতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক মান, নির্দেশিকা এবং সুপারিশ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা সমর্থন করবে;

(ছ) কার্যকর বিধিসমূহের পর্যালোচনা করবে এই নির্ধারণের জন্য যে নতুন তথ্য বা অন্যান্য পরিবর্তন বিধির সংশোধন বা বাতিলের যৌক্তিকতা প্রদান করে কি না; এবং

(জ) বিধির প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের জন্য নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণের মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করবে, যা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিধির বিকল্প পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১.১৮: দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা
দুর্নীতি মোকাবিলার জন্য, বাংলাদেশ বিস্তৃত দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিমালা শক্তিশালীকরণ, বাস্তবায়ন এবং প্রয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার জন্য স্পষ্ট শাস্তি ও পরিণতি নির্ধারণে; এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা জনকার্য সঠিকভাবে সম্পাদন এবং স্বার্থের সংঘাত পরিহারের জন্য আচরণবিধি গ্রহণ ও বজায় রাখবে। এ প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ, স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ, এবং নিয়মিত জনসমক্ষে প্রতিবেদন প্রদানের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য পোষণ করে।

শ্রমঃ-

অনুচ্ছেদ ১.১৯: শ্রম আইন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা:-

১. বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করবে এবং সমিতি/সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার সুরক্ষার জন্য বাস্তবায়ন বিধি প্রণয়ন করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-

(ক) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য ২০ শতাংশ নিবন্ধন সীমা এমন পর্যায়ে হ্রাস করা, যা ইউনিয়ন গঠনে বাধা সৃষ্টি করবে না;

(খ) কোনো ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিল করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শ্রম আদালতের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা;

(গ) ইউনিয়ন সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজনীয়তা সীমিত করা, যেমন কারখানার পরিচয়পত্র নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ;

(ঘ) ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য শুধু একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য উপস্থিত থাকবে এবং গঠনতন্ত্র গৃহীত হবে ও সভার কার্যবিবরণী জমা দেওয়া হবে;

(ঙ) ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য এবং অন্যায্য শ্রম অনুশীলনের (ইউএলপি) জন্য জরিমানার পরিমাণ এমন স্তরে বৃদ্ধি করা, যা নিয়োগকর্তাদের এ ধরনের কার্য থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হয়;

(চ) শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করাকে একটি ইউএলপি হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা এবং শ্রমিক ও ইউনিয়নসমূহকে সরাসরি বাংলাদেশ শ্রম আদালতে ইউএলপি মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া; এবং

(ছ) ধর্মঘটের অধিকারের ওপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা অপসারণ করা, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোনো সময়ের জন্য ধর্মঘটের অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত।

২. বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেডসমূহ) শ্রমিকেরা তাদের সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা এবং যৌথ দর-কষাকষির অধিকার সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে পারে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-

(ক) এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার দুই বছরের মধ্যে ইডিজেডসমূহকে শ্রম আইনের আওতাভুক্ত করা, যাতে শ্রমিকেরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যোগদান করতে পারে, অথবা ইপিজেড শ্রম আইনকে ব্যাপকভাবে সংস্কার করা, যাতে স্বাধীন ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ থাকে; এবং

(খ) ইপিজেড শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা, যা শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যাতে ধর্মঘটের অধিকারের ওপর কোনো অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা না থাকে, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোনো সময়ের জন্য ধর্মঘটের অধিকার প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা এবং অবৈধ ধর্মঘটের জন্য কঠোর শাস্তি অন্তর্ভুক্ত।

৩. বাংলাদেশ বৈধ ইউনিয়ন এবং প্রতিবাদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে পোশাকশ্রমিক এবং শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চলমান ফৌজদারি মামলাগুলো, প্রয়োজন অনুযায়ী, নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার করবে, যার মধ্যে ২০২৩ সালের ন্যূনতম মজুরিসংক্রান্ত শ্রম অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত।

৪. বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ এবং নিয়মিত ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে এবং এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছরের মধ্যে এবং পরবর্তীকালে প্রতিবছর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে এই প্রক্রিয়া প্রণয়নের সময় এবং পর্যালোচনা পরিচালনার সময় তাদের মতামত প্রদানের সুযোগ দেবে।

৫. শ্রমিকেরা যাতে কার্যকরভাবে তাদের সমিতি গঠনের স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য, বাংলাদেশ-

(ক) প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা পূরণকারী ইউনিয়ন আবেদনসমূহ ৫৫ দিনের আইনি সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে।

(খ) শ্রম অধিদপ্তরের বিদ্যমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে সকল মুলতবি আবেদনের অবস্থা প্রকাশ করবে; এবং

(গ) নিবন্ধনের জন্য মানসম্মত কার্যপ্রণালি সংশোধন করবে, যাতে শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করা হয় এবং তা সংশোধিত শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

৬. শ্রম আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগ সহজতর করার জন্য, বাংলাদেশ-

(ক) শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শ্রম পরিদর্শক পদ অনুমোদন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও নিয়োগদান এবং তাদের জন্য পদোন্নতির পথ নিশ্চিত করার জন্য বার্ষিক বাজেটে অধিক অর্থ বরাদ্দ করবে;

(খ) শ্রম পরিদর্শকদের অঘোষিত পরিদর্শন পরিচালনার ক্ষমতা ও সম্পদ নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশে সকল কর্মস্থলে, যার মধ্যে ইপিজেডসমূহ অন্তর্ভুক্ত, শ্রম আইন লঙ্ঘন, যার মধ্যে জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশুশ্রমসংক্রান্ত লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত, মোকাবিলার জন্য আইনি শাস্তি আরোপ করতে সক্ষম হবে;

(গ) দেশীয় শ্রম, অগ্নি বা ভবন মানদণ্ড এবং কোডসমূহ অনুসরণে ব্যর্থতার জন্য জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তি এমন স্তরে বৃদ্ধি করবে, যা লঙ্ঘন প্রতিরোধে সহায়ক হয়; এবং

(ঘ) শ্রম আইনের লঙ্ঘনসমূহ, যার মধ্যে ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ইউপিএলসমূহ অন্তর্ভুক্ত, দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি করবে। (চলবে)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ