ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / ১০২৬ বার পড়া হয়েছে

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়েও আবারও আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার অন্য কোনো দেশের নেই।’

সিপিইসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের কিছু প্রকল্প ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলকে বৈধতা দিতে বা শক্তিশালী করতে অন্য কোনো দেশের যেকোনো পদক্ষেপ আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এই অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলের বিষয়টি চীন ও পাকিস্তান- উভয় দেশকেই একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।’

একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদ সহযোগিতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো অভিন্ন সীমান্ত নেই। ফলে তথাকথিত আন্তঃসীমান্ত পানি সহযোগিতার প্রশ্নই আসে না।’ ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে নয়াদিল্লি কখনও স্বীকৃতি দেয়নি বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, চীন কাশ্মীর ইস্যুকে আবারও সামনে এনে পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি পানি সম্পদ ইস্যুকেও নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান আবারও ‘ওয়ান চায়না নীতি’র প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিবৃতিটি এটিও স্পষ্ট করেছে যে পাকিস্তানকে সন্তুষ্ট রাখার প্রশ্নে ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে চীন একচুলও সরছে না।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ভারত আবারও অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে শাকসগাম উপত্যকার ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা অবৈধভাবে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

পাকিস্তান-চীন বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চীন সফর শেষে মঙ্গলবার পাকিস্তান ও চীনের যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আলাদাভাবে শেহবাজের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং উভয় পক্ষ জানায় যে তারা চীন-পাকিস্তান সর্বকালীন কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়ে একটি নতুন ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন শেহবাজ শরিফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি পক্ষ জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে চীনা পক্ষকে অবহিত করেছে।

অন্যদিকে চীন বলেছে, এই সমস্যার সমাধান জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী হওয়া উচিত। উভয় পক্ষ ‘আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতা’ পরিচালনায় তাদের প্রস্তুতির কথাও প্রকাশ করেছে, তবে এই সহযোগিতার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি বিবৃতিতে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত

আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

কাশ্মীর ইস্যুতে চীন-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়েও আবারও আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার অন্য কোনো দেশের নেই।’

সিপিইসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের কিছু প্রকল্প ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলকে বৈধতা দিতে বা শক্তিশালী করতে অন্য কোনো দেশের যেকোনো পদক্ষেপ আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এই অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলের বিষয়টি চীন ও পাকিস্তান- উভয় দেশকেই একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।’

একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদ সহযোগিতা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো অভিন্ন সীমান্ত নেই। ফলে তথাকথিত আন্তঃসীমান্ত পানি সহযোগিতার প্রশ্নই আসে না।’ ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে নয়াদিল্লি কখনও স্বীকৃতি দেয়নি বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, চীন কাশ্মীর ইস্যুকে আবারও সামনে এনে পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি পানি সম্পদ ইস্যুকেও নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান আবারও ‘ওয়ান চায়না নীতি’র প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিবৃতিটি এটিও স্পষ্ট করেছে যে পাকিস্তানকে সন্তুষ্ট রাখার প্রশ্নে ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে চীন একচুলও সরছে না।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ভারত আবারও অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে শাকসগাম উপত্যকার ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা অবৈধভাবে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

পাকিস্তান-চীন বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চীন সফর শেষে মঙ্গলবার পাকিস্তান ও চীনের যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আলাদাভাবে শেহবাজের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং উভয় পক্ষ জানায় যে তারা চীন-পাকিস্তান সর্বকালীন কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়ে একটি নতুন ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন শেহবাজ শরিফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি পক্ষ জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে চীনা পক্ষকে অবহিত করেছে।

অন্যদিকে চীন বলেছে, এই সমস্যার সমাধান জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী হওয়া উচিত। উভয় পক্ষ ‘আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতা’ পরিচালনায় তাদের প্রস্তুতির কথাও প্রকাশ করেছে, তবে এই সহযোগিতার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি বিবৃতিতে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ