ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলছে যৌন নির্যাতন
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / ১০২০ বার পড়া হয়েছে
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলছে যৌন নির্যাতন
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইসরাইলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব নির্যাতন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যদিও ইসরাইল প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টোফের প্রতিবেদনে ইসরাইলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ব্যাপক হারে যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার তথ্য প্রকাশ করেছেন। ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এই প্রতিবেদনটি সামনে এনেছে।
যুদ্ধের বিভীষিকা ও যৌন নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন অনুসন্ধানের পর ক্রিস্টোফ বলেন, শত ভয়ভীতি আর প্রাণনাশের হুমকির তোয়াক্কা না করে অনেক ভুক্তভোগী তাদের ওপর ঘটে যাওয়া পৈশাচিক আচরণের সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক পুরুষ, নারী এমনকি শিশুরাও এই চরম লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।
অনেককে মুখ না খুলতে বা গণমাধ্যমে কথা না বলতে হুমকি দেয়া হয়েছে। এক ফিলিস্তিনি বন্দি জানান, তাকে এক দিনে তিনবার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। এক তরুণী জানিয়েছেন, প্রতিবার ডিউটি বদলের সময় রক্ষীরা তার সেলে ঢুকে তাকে বিবস্ত্র করে হেনস্তা করত। নির্যাতনের এই ধরনগুলো এতটাই ভয়াবহ যে অনেক ক্ষেত্রে বন্দিদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেয়া কিংবা লাঠি ও অন্যান্য বস্তু ব্যবহার করে যৌন বিকৃতি চালানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলি হেফাজতে থাকা ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি যৌন সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে বা সরাসরি শিকার হয়েছে। ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ বা সিপিজের তথ্যমতে, মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের একটি বড় অংশই বন্দিশালায় যৌন নিপীড়নের কথা জানিয়েছেন।
জেনেভা-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এই নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ইসরাইলি প্রশাসনের একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নীতি এবং ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি’তসেলেম’ এবং ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর মাধ্যমে সাবেক ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জবানবন্দিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা স্বীকার করেছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আনন্দ পাওয়ার জন্য বা স্রেফ প্রতিশোধ নেয়ার নেশায় বন্দিদের ওপর এসব অত্যাচার করা হয়। যদিও ইসরাইলি প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছে, দোষীদের শাস্তি না হওয়ায় এই অপরাধের পথ আরো প্রশস্ত হচ্ছে। (সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস)।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ























