ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo সাভার-আশুলিয়ায় রণক্ষেত্র, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০ Logo ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে হবে: কুপার Logo সাজেক চলছে ২ পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ কর্মসূচী Logo রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা Logo বিনা মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাবে ১ কোটি ৮৯ লাখ পরিবার Logo আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ Logo ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ পাকিস্তানের ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার Logo পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন Logo খুলনায় ১২ দিনে ৭ হত্যাকান্ড! Logo আ.লীগ সরকারের পদক্ষেপের সঙ্গে এনসিপির মিল রয়েছে: ডেভিড বার্গম্যান

বিক্রি হওয়া শিশুটির পাশে দাড়ালেন রংপুর জেলা প্রশাসন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ১১৬০ বার পড়া হয়েছে

বিক্রি হওয়া শিশুটির পাশে দাড়ালেন রংপুর জেলা প্রশাসন

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

নবজাতক বিক্রির ঘটনায় অভিভাবকহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পরা লাবনী আক্তার ও তার নবজাতকের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন রংপুর। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর রংপুরের মাধ্যমে লাবনী আক্তার ও নবজাতকের অবশেষে ঠাঁই হয়েছে সরকারি শিশু পরিবার বালিকায়। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তর রংপুর।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর বিনোদপুরে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার বালিকায় সমাজসেবার অধিদপ্তর রংপুরের মাধ্যমে তাকে স্থানান্তর করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা সমাজসেবার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন থেকে গণমাধ্যমে নবজাতক বিক্রির ঘটনায় অসহায় লাবনী আক্তারের খবর প্রকাশিত হলে, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানালে আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নেই। এরপর অসহায় ওই নারীর পাশে দাঁড়াই। পরবর্তিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে অসহায় নারী ও নবজাতককে আমরা সরকারি শিশু পরিবার বালিকায় থাকার ব্যবস্থা করি। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয়, ততদিন পর্যন্ত আমাদের সমাজসেবা থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রংপুর সরকারি শিশু পরিবার বালিকার তত্বাবধায়ক আলতাব হোসেন সরকার জানান, আমাদের এখানে সকালে নবজাতককে নিয়ে ওই নারী এখানে এসেছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত সরকারি সহযোগিতা প্রদান করছি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, অসহায় লাবনী আক্তার ও নবজাতকের বিষয়টি জানার পর আমরা দ্রুত সমাজসেবা অধিদপ্তরকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করি। সেই মোতাবেক জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নবজাতক ও ওই নারীকে সরকারি শিশু পরিবার বালিকায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রংপুর নগরীর ভুরারঘাট এলাকার ওয়াসিম আকরামের স্ত্রী লাবনী প্রসব ব্যথা নিয়ে হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ওই রাতে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তিন দিন পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাবনী ও তার স্বামী ওয়াসিমকে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকলে একপর্যায়ে ওয়াসিম ও লাবনী দম্পতির অসচ্ছলতাকে পুঁজি করে হাসপাতালের পরিচালক এমএস রহমান রনি তার পূর্বপরিচিত জেরিনা আক্তার বিথী ও তার স্বামী রুবেল হোসেন রতনের কাছে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে বিক্রি করে দেন।

এতে সহযোগিতা করে লাবনীর স্বামী ওয়াসিমও। এ ঘটনায় লাবনী আক্তার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ রোববার নগরীর পীরজাবাদ এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধারসহ তিনজনকে আটক করে।

ট্যাগস :

বিক্রি হওয়া শিশুটির পাশে দাড়ালেন রংপুর জেলা প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪

বিক্রি হওয়া শিশুটির পাশে দাড়ালেন রংপুর জেলা প্রশাসন

রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ

নবজাতক বিক্রির ঘটনায় অভিভাবকহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পরা লাবনী আক্তার ও তার নবজাতকের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন রংপুর। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর রংপুরের মাধ্যমে লাবনী আক্তার ও নবজাতকের অবশেষে ঠাঁই হয়েছে সরকারি শিশু পরিবার বালিকায়। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তর রংপুর।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর বিনোদপুরে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার বালিকায় সমাজসেবার অধিদপ্তর রংপুরের মাধ্যমে তাকে স্থানান্তর করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা সমাজসেবার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন থেকে গণমাধ্যমে নবজাতক বিক্রির ঘটনায় অসহায় লাবনী আক্তারের খবর প্রকাশিত হলে, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানালে আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নেই। এরপর অসহায় ওই নারীর পাশে দাঁড়াই। পরবর্তিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে অসহায় নারী ও নবজাতককে আমরা সরকারি শিশু পরিবার বালিকায় থাকার ব্যবস্থা করি। যতদিন পর্যন্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয়, ততদিন পর্যন্ত আমাদের সমাজসেবা থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রংপুর সরকারি শিশু পরিবার বালিকার তত্বাবধায়ক আলতাব হোসেন সরকার জানান, আমাদের এখানে সকালে নবজাতককে নিয়ে ওই নারী এখানে এসেছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত সরকারি সহযোগিতা প্রদান করছি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, অসহায় লাবনী আক্তার ও নবজাতকের বিষয়টি জানার পর আমরা দ্রুত সমাজসেবা অধিদপ্তরকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করি। সেই মোতাবেক জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নবজাতক ও ওই নারীকে সরকারি শিশু পরিবার বালিকায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রংপুর নগরীর ভুরারঘাট এলাকার ওয়াসিম আকরামের স্ত্রী লাবনী প্রসব ব্যথা নিয়ে হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ওই রাতে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তিন দিন পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাবনী ও তার স্বামী ওয়াসিমকে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকলে একপর্যায়ে ওয়াসিম ও লাবনী দম্পতির অসচ্ছলতাকে পুঁজি করে হাসপাতালের পরিচালক এমএস রহমান রনি তার পূর্বপরিচিত জেরিনা আক্তার বিথী ও তার স্বামী রুবেল হোসেন রতনের কাছে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে বিক্রি করে দেন।

এতে সহযোগিতা করে লাবনীর স্বামী ওয়াসিমও। এ ঘটনায় লাবনী আক্তার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ রোববার নগরীর পীরজাবাদ এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধারসহ তিনজনকে আটক করে।