সাভার-আশুলিয়ায় রণক্ষেত্র, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০
- আপডেট সময় : ০৩:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে
সাভার-আশুলিয়ায় রণক্ষেত্র, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০
আস্থা ডেস্কঃ
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আজও উত্তাল ছিল পোশাক শিল্পাঞ্চল ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভার মডেল থানার ওসি ও ৩ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এছাড়া আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগে ১ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মিয়া ও শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকেই সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় ও উলাইল এলাকার আল-মুসলিম কারখানার সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন শ্রমিকরা।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হেমায়েতপুর পদ্মার মোড়ে সংঘর্ষ চলাকালে শ্রমিকদের শান্ত করতে গেলে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় ওসি সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ওই এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন ৭১ টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি রায়হান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন উজ্জ্বল হোসেন এবং স্টার নিউজের সাভার প্রতিনিধি সোহান সিরাজি।
অন্যদিকে সাভার শান্ত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। সকাল থেকেই আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক রণক্ষেত্রে রূপ নিলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের আওতাধীন সমস্ত এলাকা স্বাভাবিক আছে। কোথাও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা নেই। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকলেও বহিরাগতদের ইন্ধনে কাজ বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন, সাভার এলাকায় আল-মুসলিম থেকে পদ্মার মোড় পর্যন্ত রাস্তায় তারা পিকেটিং করার চেষ্টা করেছিল, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা দূর করেছি। ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি একযোগে কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।
আস্থা/এমএইচ










