ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ পাকিস্তানের ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১০১৯ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ পাকিস্তানের ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পরবর্তী উত্তেজনার জেরে ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের (পিআইবিসি) চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি। সোমবার দ্য ইকোনমিক্স টাইমসকে এ কথা জানান তিনি।

নূর মুহাম্মদ কাসুরি জানান, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এক বিবৃতিতে কাসুরি বলেন, বাণিজ্য স্থগিত হওয়ার কারণে পাকিস্তানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য দূরবর্তী বাজার থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি পণ্য সরবরাহেও বেশি সময় লাগছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের ওষুধশিল্প ভারতের বাজারে পাওয়া কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রতিবেশী দেশটি থেকে এসব কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তানের বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় বস্ত্র খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। কাসুরি জানান, বস্ত্রকলগুলোকে ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা সংগ্রহ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে আনুমানিক অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে।

কাসুরি আরও বলেন, এসব খাতে ভারতের উল্লেখযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান দূরবর্তী বাজার থেকে চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো পাকিস্তানের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করলে তা তুলনামূলক কম খরচে ও দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের কৃষি ও শিল্পপণ্যে প্রবেশাধিকার পেলে পাকিস্তানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যয় কমাতে পারবে। তুলা উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোর কৃষকেরা ক্রমেই আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাসুরি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতীয় আর্থিক সহায়তার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলো কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে, এটি তার একটি উদাহরণ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অমীমাংসিত বিরোধগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।“পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে।” (সূত্র: দ্য ইকোনমিক্স টাইমস)।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ পাকিস্তানের ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ পাকিস্তানের ক্ষতি ৪০ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পরবর্তী উত্তেজনার জেরে ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের (পিআইবিসি) চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি। সোমবার দ্য ইকোনমিক্স টাইমসকে এ কথা জানান তিনি।

নূর মুহাম্মদ কাসুরি জানান, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এক বিবৃতিতে কাসুরি বলেন, বাণিজ্য স্থগিত হওয়ার কারণে পাকিস্তানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য দূরবর্তী বাজার থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি পণ্য সরবরাহেও বেশি সময় লাগছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের ওষুধশিল্প ভারতের বাজারে পাওয়া কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রতিবেশী দেশটি থেকে এসব কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তানের বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় বস্ত্র খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। কাসুরি জানান, বস্ত্রকলগুলোকে ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা সংগ্রহ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে আনুমানিক অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে।

কাসুরি আরও বলেন, এসব খাতে ভারতের উল্লেখযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান দূরবর্তী বাজার থেকে চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ভারতের তেল শোধনাগারগুলো পাকিস্তানের কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করলে তা তুলনামূলক কম খরচে ও দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের কৃষি ও শিল্পপণ্যে প্রবেশাধিকার পেলে পাকিস্তানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যয় কমাতে পারবে। তুলা উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোর কৃষকেরা ক্রমেই আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাসুরি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতীয় আর্থিক সহায়তার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলো কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে, এটি তার একটি উদাহরণ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অমীমাংসিত বিরোধগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।“পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে।” (সূত্র: দ্য ইকোনমিক্স টাইমস)।

আস্থা/এমএইচ